ইতিহাস কেবল ধুলোপড়া নথিপত্র বা মৃত অতীত নয়। একটি জাতির স্পন্দন, তার আত্মপরিচয়ের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ। যখন কোনো জাতি তার অতীতকে স্মরণ করে, তখন সে মূলত ভবিষ্যতের একটি মানচিত্র আঁকে। প্রশ্ন হলো, এই মানচিত্রটি কে আঁকবে? কার তুলিতে নির্ধারিত হবে কোন রঙটি উজ্জ্বল থাকবে আর কোনটি মুছে যাবে? সামষ্টিক স্মৃতিকে কেউ একজন নিজের মতো করে সাজালে তা পরিণত হয় এক অনিবার্য সঙ্ঘাত ও বিতর্কের জায়গা।
গত ৫ আগস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা অনুষ্ঠানে আমরা ঠিক এমনই এক অনাকাক্সিক্ষত, অস্বস্তিকর অথচ সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হয়েছি। ২৪ শের গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানোদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মান জানানোর মতো একটি ভাবগম্ভীর মঞ্চ মুহূর্তের মধ্যে ক্ষোভ, হট্টগোল আর প্রতিবাদে পরিণত হলো। ইতিহাস নির্মাণের রাজনীতি নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
জুলাই-আগস্টের সেই অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থান, যার প্রতিটি বাঁক, প্রতিটি আত্মদান এ দেশের মানুষের হৃদয়ে এখনো দগদগে জীবন্ত ক্ষত। তাকে উপজীব্য করেই নির্মিত হয়েছিল একটি প্রামাণ্যচিত্র। উপস্থিত দর্শকরা যাদের অনেকেই সেই অভ্যুত্থানের প্রত্যক্ষ শিকার, যারা নিজেদের সন্তান, ভাই বা স্বজনকে হারিয়েছেন তারা অপেক্ষা করছিলেন পর্দায় নিজেদের সেই পরম আরাধ্য ত্যাগের একটি নির্মোহ, সৎ এবং মহিমান্বিত প্রতিচ্ছবি দেখার জন্য। কিন্তু প্রামাণ্য চিত্রটি শেষ হওয়ার সাথে সাথেই গোটা হলরুমে নেমে আসে এক অবিশ্বাস এবং তার পরপরই ফেটে পড়ে তীব্র ক্ষোভ। ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে চারপাশ। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি, চরম বিশৃঙ্খলা। মঞ্চের সামনে উপস্থিত বিদেশী অতিথিদের অনেকেই এই আকস্মিক হট্টগোলে দৃশ্যত বিব্রত বোধ করেন এবং কেউ কেউ নীরবতা পালন করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
কেন এমন হলো? কারণ, উপস্থিত দর্শকদের কাছে মুহূর্তেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত এই ভিজ্যুয়াল দলিলে সুকৌশলে কিছু ঐতিহাসিক সত্যকে আড়াল করা হয়েছে। যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে গোটা জাতি এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছিল, যে ৩ আগস্টের এক দফা ঘোষণা পুরো আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে পতন নিশ্চিত করেছিল এবং সর্বোপরি, যে তরুণের বুক পেতে দেয়া আত্মদান আবু সাঈদের সেই আইকনিক দৃশ্য গোটা দেশের ঘুমন্ত বিবেককে চাবুক মেরে জাগিয়ে তুলেছিল, তার সব কিছুই সেখানে রহস্যজনকভাবে অনুপস্থিত। উল্টোদিকে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে এই পুরো গণজাগরণের মূল রূপকার বা এক দফার ঘোষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার এক কৃত্রিম চেষ্টা সেখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই ঘটনাকে কেবল একটি অনুষ্ঠানের বিশৃঙ্খলা বা ব্যবস্থাপনার ত্রুটি হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এটি মূলত ইতিহাসের মালিকানা নিয়ে একটি প্রকাশ্য লড়াই। একটি গণমানুষের স্বতঃস্ফূর্ত এবং রক্তস্নাত অভ্যুত্থানকে যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ছাঁচে ফেলে তাকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করা হয়, তখন সাধারণ মানুষ তার প্রতিবাদ করবেই। এই ইতিহাস কোনো একক নেতার বা দলের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। এটি রিকশাচালক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গৃহিণী দিনমজুর সবার সম্মিলিত ত্যাগের ফসল। যখন তারা দেখে যে, তাদের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া, তাদের নিজেদের ঘামে-রক্তে লেখা ইতিহাসকে নির্লজ্জভাবে ছিনতাই করে নেয়া হচ্ছে, তখন তাদের পক্ষে চুপ করে থাকাটা কেবল কঠিনই নয়, বরং তা তাদের নিজেদের অস্তিত্বের প্রতি এক ধরনের বেইমানি। মানুষ রাষ্ট্রকে এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে, ক্ষমতার জোরে ইতিহাসকে আর নিজের মতো করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বদলে দেয়া সম্ভব নয়।
অবশ্য, এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের যিনি শীর্ষ ব্যক্তি বা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, তার ভূমিকাটি প্রণিধানযোগ্য। তিনি পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরেছিলেন এবং অকপটে সবার সামনে স্বীকার করে নেন যে, প্রদর্শিত তথ্যচিত্রটিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তা সংশোধনের এবং বাদ পড়া বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন। তার এই স্বীকারোক্তি এবং ত্বরিত পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে কিছুটা শান্ত করলেও, একটি মৌলিক এবং গভীরতর প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। রাষ্ট্রের এমন একটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে, বিদেশী কূটনীতিক এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রদর্শনের আগে, কীভাবে এত বড় একটি ঐতিহাসিক বিকৃতি ঘটল? কারা এই বয়ান তৈরির নেপথ্যে কাজ করেছেন? তাদের রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক উদ্দেশ্য কী ছিল? রাষ্ট্রপ্রধানের নির্দেশনায় হয়তো একটি নির্দিষ্ট প্রামাণ্যচিত্র সংশোধিত হবে, কিন্তু যে বলয়টি এই ধরনের বিকৃত বয়ান উৎপাদনের সাহস দেখিয়েছে, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েই যায়।
পাঠ্যপুস্তকের পাতায় কার নাম উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা থাকবে, রাষ্ট্রীয় আর্কাইভে কোন ছবিটি সযত্নে সংরক্ষিত হবে, আর কোন নামটি মুছে ফেলার জন্য সব ধরনের রাষ্ট্রীয় কলকব্জা ব্যবহার করা হবে সবই মূলত একটি আধিপত্য বিস্তারের খেলা। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত যেকোনো প্রামাণ্যচিত্র বা আর্কাইভ আসলে সেই আধিপত্যশীল শ্রেণীর বয়ান প্রতিষ্ঠারই একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। কিন্তু আধুনিক যুগে, যখন তথ্যের প্রবাহ অবারিত এবং সাধারণ মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অজস্র ভিজ্যুয়াল প্রমাণ সংরক্ষিত আছে, তখন রাষ্ট্রযন্ত্রের পক্ষে পুরনো কায়দায় ইতিহাস মুছে ফেলা বা নতুন করে লেখা আর সম্ভব নয়। মানুষের জীবন্ত স্মৃতি যখন রাষ্ট্রের চাপিয়ে দেয়া মেকি স্মৃতির সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে, তখনই তৈরি হয় বিস্ফোরণ।
এই ঘটনার পর সুশীল সমাজের একাংশ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই আক্ষেপ করে বলছেন যে, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ক্রমশ অসভ্য এবং অসহিষ্ণু হয়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তা প্রকাশের একটা শালীন ভাষা বা পদ্ধতি থাকা উচিত। বিদেশী অতিথিদের সামনে এমন ধাক্কাধাক্কি বা স্লোগান রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে বলে তারা মনে করেন। আপাতদৃষ্টিতে এই যুক্তিটি অত্যন্ত মার্জিত এবং গ্রহণযোগ্য মনে হলেও, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গভীরতর বিশ্লেষণ আমাদের ভিন্ন এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতি, শালীনতা বা ভদ্রতা তখনই কাজ করে, যখন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ মানুষের কথা শুনতে প্রস্তুত থাকে। যখন একটি সমাজ তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে অনুধাবন করে যে, নিয়মতান্ত্রিক পথে হেঁটে, চিঠি লিখে, সংবাদ সম্মেলন করে বা টেবিলে বসে আলোচনা করে তাদের যৌক্তিক আপত্তির কোনো সুরাহা হবে না, তখন তারা বাধ্য হয়েই এমন পথ বেছে নেয়।
মিলনায়তনের সেই ধাক্কাধাক্কি মূলত মানুষের সেই অবদমিত হতাশারই বহিঃপ্রকাশ, যেখানে তারা মনে করেছে যে, এখনই তীব্র এবং দৃশ্যমান প্রতিবাদ না জানালে এই বিকৃত ইতিহাসই একদিন চিরস্থায়ী রাষ্ট্রীয় সত্যে পরিণত হবে। তারা কেবল একটি প্রামাণ্যচিত্রের বিরোধিতা করেনি, তারা মূলত সেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বিরোধিতা করেছে, যা সত্যকে গিলে খেয়ে একটি মিথ্যা বয়ানকে তাদের ওপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল।
বিদেশী কূটনীতিকদের অনুষ্ঠান ত্যাগ বা ওয়াকআউট করার বিষয়টি নিয়ে যে প্রবল কুণ্ঠা বা জাতীয় লজ্জার কথা বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তা কিন্তু একেবারেই নতুন বা নজিরবিহীন কোনো ঘটনা নয়। সংসদীয় গণতন্ত্র বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এমন হট্টগোল বা সংঘাত বিশ্বের অনেক সভ্য এবং উন্নত দেশেই ঘটেছে। তাইওয়ানে ১৯৮৭ সালে সামরিক শাসন প্রত্যাহারের পর সংসদে তুমুল হাতাহাতি আন্তর্জাতিক সংবাদের শিরোনাম হয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার পার্লামেন্টে বিল পাস করা নিয়ে বিরোধী দলের সাথে সরকারদলীয় সদস্যদের সংঘাত, ২০১৫ সালে ইউক্রেনের সংসদে খোদ প্রধানমন্ত্রীকে বক্তৃতা মঞ্চ থেকে টেনেহিঁচড়ে নামানোর চেষ্টা এগুলো সবই প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক সংঘাত যখন প্রাতিষ্ঠানিক পথ হারিয়ে ফেলে, তখন তা এভাবেই দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। তাই এই ঘটনাকে কেবল ‘সভ্য বনাম অসভ্য’ আচরণের একটি সরল বাইনারি দিয়ে বিচার করলে মূল সঙ্কটটি আমাদের চোখের আড়ালেই থেকে যাবে। আমাদের বরং নিজেদের কাছেই প্রশ্ন করা উচিত, কেন আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এবং ঐতিহাসিক বিবাদগুলোকে একটি সম্মানজনক এবং বিশ্বাসযোগ্য কাঠামোর মধ্যে সমাধান করতে পারছি না?
সংসদে বা কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে শারীরিক সংঘর্ষ বা তীব্র হট্টগোল কখনোই একটি সুস্থ এবং পরিণত গণতন্ত্রের লক্ষণ হতে পারে না। তবে এটি একটি উপসর্গ। এটি আমাদের ইঙ্গিত দেয় যে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মতভেদ মীমাংসার পথগুলো কতটা জংধরা এবং অকার্যকর হয়ে পড়েছে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক হবে, বিভিন্ন মতাদর্শের মধ্যে লড়াই থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই বিতর্কগুলো ধারণ করার মতো শক্তিশালী, নিরপেক্ষ এবং সহনশীল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো যদি না থাকে, তবে সেই সমাজ পদে পদে হোঁচট খাবে। আমাদের গণমাধ্যম, আমাদের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী ফোরামগুলো অনেক সময়ই স্বাধীনভাবে সত্যকে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়। তারা রাজনৈতিক প্রভাব বলয়ের বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলস্বরূপ, মতাদর্শিক লড়াইগুলো তাদের জায়গা করে নেয় রাজপথে, অথবা রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কোনো মঞ্চে। মানুষ যখন একটি রাষ্ট্রীয় মঞ্চে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে, তখন তারা শুধু শৃঙ্খলা ভাঙার আনন্দে মেতে ওঠে না; বরং তারা আমাদের এই কঠোর সত্যটিই জানিয়ে দেয় যে, ইতিহাস লেখার প্রতিষ্ঠান, মত প্রকাশের প্রতিষ্ঠান এবং সর্বোপরি মানুষের কথা শোনার প্রতিষ্ঠানগুলো এই রাষ্ট্রে এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী, আস্থাশীল এবং স্বাধীন হয়ে ওঠেনি।
ইতিহাসের গতিপথকে জোর করে পাল্টে দেয়ার চেষ্টা সবসময়ই বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে। সত্য কখনো চিরকাল চাপা থাকে না। সেই দিনের হট্টগোল তাই কেবল একটি বিশৃঙ্খল ঘটনা নয়; এটি একটি ঘুম ভাঙানিয়া গান, একটি তীব্র সতর্কবার্তা। এটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, আমরা এখনো এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি যা সবার কথা শুনতে প্রস্তুত, যা নির্মোহভাবে নিজের অতীতকে মূল্যায়ন করতে সক্ষম।
ইতিহাস রচনার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা, রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং মানুষের মতপ্রকাশের পথগুলোকে আরো মসৃণ ও কার্যকর করাই এখন আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যতদিন না আমরা সেই সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং পরমতসহিষ্ণু রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারছি, ততদিন পর্যন্ত এভাবেই আমাদের বারবার হোঁচট খেতে হবে। আর ইতিহাসের প্রকৃত মালিকানা নিয়ে সাধারণ মানুষের এই লড়াই চলতেই থাকবে।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট