(শেষ কিস্তি)
মুয়াল্লিম ব্যবস্থা প্রায় এক শতাব্দী কার্যকর থাকলেও সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এর সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হতে থাকে। প্রতি বছর হাজীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বিশ শতকের মাঝামাঝি যেখানে হজযাত্রীর সংখ্যা কয়েক লাখের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, বর্তমানে তা প্রায় ২০ লাখ বা তারও বেশি। সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ অনুযায়ী ভবিষ্যতে হজ ও ওমরাহ মিলিয়ে বছরে কয়েক কোটি মুসল্লিকে সেবা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এত বিশাল জনগোষ্ঠীকে শুধু ঐতিহ্যগত মুয়াল্লিম ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে।

এই প্রেক্ষাপটে সৌদি সরকার ধাপে ধাপে হজ ব্যবস্থাপনায় মৌলিক সংস্কার শুরু করে। ব্যক্তিনির্ভর মুয়াল্লিম ব্যবস্থার পরিবর্তে করপোরেট কাঠামো গড়ে তোলা হয়। বিভিন্ন তাওয়াফা কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আবাসন, পরিবহন, মিনা-আরাফাতের সেবা, ডিজিটাল নিবন্ধন এবং অপারেশনাল ব্যবস্থাপনা একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা হয়।

ফলে সেবাদান ব্যক্তিগত উত্তরাধিকারভিত্তিক না হয়ে পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হতে থাকে। চালু হয়েছে নুসুক প্ল্যাটফর্ম। হজ ও ওমরাহ ভিসা, হোটেল বুকিং, পরিবহন, ইবাদতের সময়সূচি, অনুমতিপত্র, বিভিন্ন সেবার সমন্বয় এবং এখন খাবার ব্যবস্থাপনাও একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল পরিচয়, ইলেকট্রনিক ট্র্যাকিং এবং রিয়েল-টাইম তথ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাজীদের সেবা আরো কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।

এই রূপান্তরের বেশ কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। সেবার মান নির্ধারণ, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ, প্রতারণা হ্রাস এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বয় করা এখন আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। একই সাথে সেবার গুণগত মান মূল্যায়ন এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার সুযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে। শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী মুয়াল্লিম ব্যবস্থা কেবল প্রশাসনিক কাঠামো ছিল না; এটি ছিল ব্যক্তিগত সম্পর্ক, স্থানীয় অভিজ্ঞতা এবং মানবিক সহায়তার একটি অনন্য মডেল। বহু মুয়াল্লিম পরিবার নির্দিষ্ট দেশের হাজীদের ভাষা, সংস্কৃতি ও প্রয়োজন সম্পর্কে গভীরভাবে অবগত ছিলেন। করপোরেট ও ডিজিটাল ব্যবস্থায় সেই ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিছুটা শিথিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মিনা ও আরাফাতে অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ
সৌদি আরব গত কয়েক দশকে মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফায় আধুনিক তাঁবুনগর, বহুতল জামারাত কমপ্লেক্স, মেট্রোরেল, প্রশস্ত সড়ক, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবু এবং উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। হজ ব্যবস্থাপনা নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হয়েছে।

কিছু মৌলিক সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- পর্যাপ্ত ওয়াশরুম ও স্যানিটেশন সুবিধার অভাব। মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফায় নির্দিষ্ট সময়ে ২০ লাখ মানুষ একই সাথে অবস্থান করায় ওয়াশরুম ব্যবহার করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। প্রবীণ, নারী, অসুস্থ এবং প্রতিবন্ধী হাজীদের জন্য পরিস্থিতি কষ্টকর হয়ে ওঠে। ইবাদতে শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্য প্রয়োজন। স্যানিটেশন অবকাঠামোর আরো সম্প্রসারণ প্রয়োজন।

আরেকটি বহুল আলোচিত বিষয় হলো- হাজীর সংখ্যা এবং সীমিত জায়গার কারণে তাঁবুর ভেতরে বেডগুলো খুব কাছাকাছি স্থাপন করা হয়। একজন হাজীর পক্ষে হাত-পা ছড়িয়ে বিশ্রাম নেয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। এসব বিষয়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল, হজ মিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করেছেন এবং লিখিত ও মৌখিকভাবে সুপারিশও করেছেন। তবে হাজীর ক্রমবর্ধমান সংখ্যা, মিনার সীমিত ভৌগোলিক পরিসর এবং নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাক্সিক্ষত মাত্রায় পরিবর্তন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

হজে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করতে চাইলে প্রশাসনিক সংস্কারই যথেষ্ট হবে না। একই সাথে মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফার অবকাঠামো- বিশেষ করে স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিশ্রামাগার, শয্যার মান ও ব্যক্তিপ্রতি জায়গার পরিমাণ, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আরো উন্নত ও প্রশস্ত করতে হবে।

ওমরাহযাত্রীদের জন্য নতুন নীতি ও চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও মিসর থেকে আগত ওমরাহযাত্রীদের জন্য একটি নতুন নীতি চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থায় ওমরাহ ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রতিদিনের খাবারের জন্য বাধ্যতামূলক ‘নুসুক ফুড ভাউচার’ ক্রয় করতে হবে, যার মূল্য দৈনিক প্রায় ২০ সৌদি রিয়াল। এই অর্থ সরাসরি ভিসা-সংক্রান্ত ফির সাথে যুক্ত থাকবে।

রবিউল আউয়াল মাসের ১ তারিখ থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে হোটেল বুকিং, পরিবহন, খাবার এবং অন্যান্য সেবাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে মক্কা ও মদিনার প্রায় ১০ হাজার রেস্তোরাঁকে নুসুক অ্যাপের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি ওমরাহযাত্রীর ভিসার সাথে একটি স্বতন্ত্র ডিজিটাল কোড থাকবে, যার মাধ্যমে অনুমোদিত রেস্তোরাঁ থেকে খাবার গ্রহণ করা যাবে।

নিঃসন্দেহে এটি সৌদি সরকারের একটি সুপরিকল্পিত প্রশাসনিক উদ্যোগ। এর ফলে ওমরাহযাত্রীদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা সহজ হবে। একই সাথে অননুমোদিত সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং প্রতারণার সুযোগও কমে যাবে। তবে এই নীতির কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জও রয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশী ওমরাহযাত্রীদের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ভাত, মাছ, ডাল, সবজি এবং দেশীয় স্বাদের খাবারে অভ্যস্ত। একই অবস্থা পাকিস্তান ও ভারতের বহু মুসলমানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অন্যদিকে আরবি খাবারের স্বাদ, রান্নার ধরন ও উপকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফলে প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট রেস্তোরাঁ থেকে খাবার গ্রহণের ব্যবস্থা স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে।

হজের সময় মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফায় বহু কোম্পানি আরবি খাবার সরবরাহ করে থাকে। দক্ষিণ এশিয়ার বহু হাজী সেই খাবারের সাথে সহজে মানিয়ে নিতে পারেন না। অনেকেই অল্প খেয়ে থাকেন কিংবা বিকল্প খাবারের সন্ধান করেন। ফলে বাধ্যতামূলক খাদ্য ভাউচার চালুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত হবে দক্ষিণ এশীয় যাত্রীদের খাদ্যাভ্যাস ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দেয়া।

বর্তমানে মক্কা ও মদিনায় অসংখ্য বাংলাদেশী, পাকিস্তানি ও ভারতীয় রেস্তোরাঁ রয়েছে, যেখানে বাংলা, ভারতীয় ও পাকিস্তানি খাবার পরিবেশন করা হয়। যদি নুসুক প্ল্যাটফর্মে এসব রেস্তোরাঁকেও পর্যাপ্তভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে যাত্রীরা নিজেদের পছন্দের খাবার গ্রহণ করতে পারবেন এবং নতুন নীতির উদ্দেশ্যও সফল হবে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দৈনিক ২০ সৌদি রিয়াল অতিরিক্ত ব্যয় দীর্ঘমেয়াদি ওমরাহযাত্রীদের জন্য উল্লেখযোগ্য অঙ্কে পরিণত হবে। ফলে ওমরাহ প্যাকেজের সামগ্রিক মূল্য বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও মিসরের ট্র্যাভেল এজেন্সিগুলোকে নতুন বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তাদের প্যাকেজ পুনর্বিন্যাস করতে হবে এবং গ্রাহকদের কাছে ব্যয়ের খাতগুলো স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

এই নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরো কিছু বিষয় বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। প্রথমত, যাত্রীরা যেন একই ভাউচার ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অনুমোদিত রেস্তোরাঁ থেকে নিজেদের পছন্দমতো খাবার গ্রহণ করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, বিশেষ খাদ্যাভ্যাসসম্পন্ন ব্যক্তি, প্রবীণ, শিশু ও রোগীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা উচিত। তৃতীয়ত, যাত্রীরা যাতে অব্যবহৃত ভাউচারের অর্থ অন্য সেবায় ব্যবহার করতে পারেন কিংবা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সমন্বয় করতে পারেন, সে বিষয়েও ভবিষ্যতে চিন্তা করা যেতে পারে।

সৌদি আরব মনে করে, এই উদ্যোগ মূলত হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনাকে আরো আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে যেকোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মানুষের সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস ও বাস্তব প্রয়োজনকে সমান গুরুত্ব দেয়া অপরিহার্য। যদি এই নীতি সত্যিই সেবার মানোন্নয়নের জন্য হয়, তাহলে শুধু চারটি দেশের জন্য কেন? ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, নাইজেরিয়া বা মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর ওমরাহযাত্রীদের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয় কেন?

ওমরাহ ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রীয় সমন্বয়
হজ ও ওমরাহ- উভয়ই ইবাদত হলেও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ দু’টির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। হজ একটি কোটা-নির্ভর ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সমন্বিত কার্যক্রম। প্রতিটি দেশের জন্য নির্ধারিত কোটা থাকে এবং সেই দেশের ধর্ম-বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের মাধ্যমে হাজীরা সৌদি আরবে যান। ফলে একটি দেশের কতজন হাজী সৌদি আরবে অবস্থান করছেন, কোথায় থাকছেন এবং তাদের সার্বিক তথ্য সংশ্লিষ্ট সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকে।

অন্যদিকে ওমরাহ ভিসা এখন অনেকটাই উন্মুক্ত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিক অনুমোদিত ট্র্যাভেল এজেন্সি কিংবা নির্ধারিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তুলনামূলক সহজেই ওমরাহ ভিসা সংগ্রহ করতে পারেন। এর জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হয় না। ফলে বাংলাদেশসহ অনেক দেশের সরকারের কাছে প্রতি মাসে বা প্রতি বছরে কতজন নাগরিক ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গেছেন, তার পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল তথ্য থাকে না।

সমস্যা দেখা দেয় যখন কোনো ওমরাহযাত্রী মৃত্যুবরণ করেন, সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো দুর্ঘটনার শিকার হন, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, নিখোঁজ হন অথবা কোনো আইনি জটিলতা কিংবা অপরাধমূলক ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। তখন স্বাভাবিকভাবেই সৌদি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দেশের হজ মিশন বা দূতাবাসের সহায়তা কামনা করে। অথচ সংশ্লিষ্ট মিশনের কাছে অনেক সময় ওই ব্যক্তির সফর-সংক্রান্ত মৌলিক তথ্যই থাকে না। ফলে পরিচয় নিশ্চিত করা, স্বজনদের সাথে যোগাযোগ, চিকিৎসা সহায়তা, আইনি সহযোগিতা কিংবা লাশ দেশে পাঠানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বিলম্বিত হয়।

ওমরাহযাত্রীদের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা সময়ের দাবি। তাহলে জরুরি মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট দেশের হজ মিশন, দূতাবাস এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। সমন্বয় এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে তা ওমরাহযাত্রীদের ওপর অপ্রয়োজনীয় আর্থিক বোঝা সৃষ্টি না করে। প্রশাসনিক দক্ষতা, যাত্রীসেবা এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

এই যুক্তি থেকে বলা যায়, নুসুক প্ল্যাটফর্মে ওমরাহযাত্রীদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার পেছনে কেবল খাবার ব্যবস্থাপনা নয়; বরং জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের শনাক্তকরণ, ট্র্যাকিং এবং রাষ্ট্রীয় সমন্বয় জোরদার করার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশিত হলে সেটিকেই চূড়ান্ত অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

হজ ও ওমরাহ কেবল একটি ভ্রমণ নয়; এটি ইবাদত, আত্মিক প্রশান্তি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহিমান্বিত সফর। তাই ব্যবস্থাপনার প্রতিটি সংস্কার এমন হওয়া উচিত, যাতে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পাশাপাশি মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং মানবিক প্রয়োজনও সমানভাবে প্রতিফলিত হয়।

লেখক : সাবেক উপদেষ্টা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

drkhalid09@gmail.com