দেশের অর্থনীতির অবস্থা আশাব্যঞ্জক নয়। ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে অর্থনীতিতে যে নৈরাজ্য ও চোরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল তার জের মাত্র দুই বছরে কাটিয়ে ওঠা কঠিন। তার পরও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটছে। রেমিট্যান্স বেড়েছে, রিজার্ভ জোরদার হয়েছে, আমদানি প্রবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং বৈদেশিক লেনদেনে স্থিতি ফিরছে। তবে ব্যাংকিং খাত, বেসরকারি বিনিয়োগ, ঋণপ্রবাহ ও মূল্যস্ফীতির সঙ্কট কাটেনি। পাশাপাশি বিপুল খেলাপি ঋণ, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি রয়ে গেছে। এলডিসি (খউঈ) উত্তরণ পরবর্তী বাণিজ্যসুবিধা হারানোর ঝুঁকি এবং নতুন কর্মসংস্থান মন্থর হওয়ায় সামষ্টিক অর্থনীতি চাপের মুখে।
মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও বাজারে জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সীমায় আসেনি। সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো এখনও কঠিন। ব্যাংকে খেলাপি ঋণ পাহাড়সম। দুর্বল ও সঙ্কটাপন্ন ব্যাংকগুলোর নগদ অর্থের ঘাটতি এবং আস্থার সঙ্কট কাটেনি। নতুন শিল্পায়ন ও দেশী-বিদেশী বিনিয়োগও কমেছে।
বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী, মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি কম এবং ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। এই অবস্থার মধ্যেও প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক দায় পরিশোধ এবং বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতা বেড়েছে। কিন্তু বাণিজ্য ঘাটতি এখনো বড়। বহু বছর ধরেই বিশেষজ্ঞরা রফতানি বহুমুখীকরণ, প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানো এবং পরিষেবা খাতে সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন।
রাজস্ব আহরণে দুর্বলতার কারণে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ বাড়ছে। এর ফলে বেসরকারি খাতে ঋণদান কমেছে। বেসরকারি বিনিয়োগ প্রায় স্থবির। নতুন বিনিয়োগ না হলে প্রবৃদ্ধির নিম্ন হার স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। ২০০১ সালের পর প্রবৃদ্ধি যে পর্যায়ে উঠেছিল তা ক্রমশই কমেছে। চলতি বছর ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হলেও তার নিশ্চয়তা কম। ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
নাজুক অর্থনীতি সচল ও সক্ষম করে তোলার জন্য বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সংবাদ নিবন্ধের সূত্র মতে, দেশের অর্থনীতির জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো নির্বিচারে ঋণদান বন্ধ করা এবং যথাযথ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুঁজি সরবরাহ করা।
তার আগে ব্যাংক খাতের প্রকৃত ক্ষতি নিরূপণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মূলধন পুনর্গঠন, খেলাপি ঋণের প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা, রাজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো, উন্নয়ন ব্যয়ের মানোন্নয়ন, বেসরকারি বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, শিল্পে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি জরুরি।
একইসাথে স্বৈরাচারী আমলের অর্থপাচার ও বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। পাচার করা অর্থসম্পদ শনাক্ত, জব্দ ও দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের অংশ হিসাবে চিহ্নিত ৪২টি প্রতিষ্ঠানের বিদেশী সম্পদ অনুসন্ধানে আটটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। পাচার করা সম্পদ খুঁজে বের করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস, অর্থ স্থানান্তর ও গোপন করার প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখবে। অর্থনীতির দুরবস্থা কাটানোর চেষ্টা
দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে
দেশের অর্থনীতির অবস্থা আশাব্যঞ্জক নয়। ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে অর্থনীতিতে যে নৈরাজ্য ও চোরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল তার জের মাত্র দুই বছরে কাটিয়ে ওঠা কঠিন। তার পরও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটছে। রেমিট্যান্স বেড়েছে, রিজার্ভ জোরদার হয়েছে, আমদানি প্রবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং বৈদেশিক লেনদেনে স্থিতি ফিরছে। তবে ব্যাংকিং খাত, বেসরকারি বিনিয়োগ, ঋণপ্রবাহ ও মূল্যস্ফীতির সঙ্কট কাটেনি। পাশাপাশি বিপুল খেলাপি ঋণ, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি রয়ে গেছে। এলডিসি (খউঈ) উত্তরণ পরবর্তী বাণিজ্যসুবিধা হারানোর ঝুঁকি এবং নতুন কর্মসংস্থান মন্থর হওয়ায় সামষ্টিক অর্থনীতি চাপের মুখে।
মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও বাজারে জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সীমায় আসেনি। সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো এখনও কঠিন। ব্যাংকে খেলাপি ঋণ পাহাড়সম। দুর্বল ও সঙ্কটাপন্ন ব্যাংকগুলোর নগদ অর্থের ঘাটতি এবং আস্থার সঙ্কট কাটেনি। নতুন শিল্পায়ন ও দেশী-বিদেশী বিনিয়োগও কমেছে।
বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী, মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি কম এবং ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। এই অবস্থার মধ্যেও প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক দায় পরিশোধ এবং বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতা বেড়েছে। কিন্তু বাণিজ্য ঘাটতি এখনো বড়। বহু বছর ধরেই বিশেষজ্ঞরা রফতানি বহুমুখীকরণ, প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানো এবং পরিষেবা খাতে সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন।
রাজস্ব আহরণে দুর্বলতার কারণে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ বাড়ছে। এর ফলে বেসরকারি খাতে ঋণদান কমেছে। বেসরকারি বিনিয়োগ প্রায় স্থবির। নতুন বিনিয়োগ না হলে প্রবৃদ্ধির নিম্ন হার স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। ২০০১ সালের পর প্রবৃদ্ধি যে পর্যায়ে উঠেছিল তা ক্রমশই কমেছে। চলতি বছর ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হলেও তার নিশ্চয়তা কম। ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
নাজুক অর্থনীতি সচল ও সক্ষম করে তোলার জন্য বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সংবাদ নিবন্ধের সূত্র মতে, দেশের অর্থনীতির জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো নির্বিচারে ঋণদান বন্ধ করা এবং যথাযথ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুঁজি সরবরাহ করা।
তার আগে ব্যাংক খাতের প্রকৃত ক্ষতি নিরূপণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মূলধন পুনর্গঠন, খেলাপি ঋণের প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা, রাজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো, উন্নয়ন ব্যয়ের মানোন্নয়ন, বেসরকারি বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, শিল্পে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি জরুরি।
একইসাথে স্বৈরাচারী আমলের অর্থপাচার ও বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। পাচার করা অর্থসম্পদ শনাক্ত, জব্দ ও দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের অংশ হিসাবে চিহ্নিত ৪২টি প্রতিষ্ঠানের বিদেশী সম্পদ অনুসন্ধানে আটটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। পাচার করা সম্পদ খুঁজে বের করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস, অর্থ স্থানান্তর ও গোপন করার প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখবে।