ফল্গুধারার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন শুধু নিচে নামছে। এতে করে নানা সময় মানুষের খাবার পানির সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে। এক মাস ধরে এমন সঙ্কটে পড়েছেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়াবাসী। নলকূপ খালি থাকায় এই এলাকায় খাবার পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

একটি সহযোগী দৈনিকের পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতার প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অনাবৃষ্টি আর তীব্র খরায় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পুকুর শুকিয়ে গেছে, নলকূপ থেকেও পানি উঠছে না। এ অবস্থায় দেখা দিয়েছে খাবার পানির সঙ্কট। একই সাথে সেচ সঙ্কটে পড়েছেন কৃষকরা। এতে ফসল উৎপাদনে তাদের খরচ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা গেছে, স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানি উঠছে না নলকূপে। সেই সাথে সেচপাম্পের অগভীর নলকূপে কাক্সিক্ষত পরিমাণ পানি উত্তোলন না হওয়ায় বোরো ধানের ক্ষেতে সময়মতো সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। বিদ্যুৎচালিত গভীর নলকূপে কৃষি জমিতে সেচচাহিদা পূরণ হলেও সাধারণ নলকূপে পানি না ওঠায় খাবার পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।

স্বাভাবিক নলকূপে একদম পানি উঠছে না। পানির অভাব পূরণ করতে দূর দূরান্তে ছুটছেন ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা। কাক্সিক্ষত পানি না ওঠায় এবং বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ধান উৎপাদন নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। সৈয়দগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এ বছর ৭০ শতক জমিতে বোরো আবাদ করেছি। মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বাড়বে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূর-ই আলম বলেন, চলতি মৌসুমে ১০ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। প্রতি বছর মার্চ এবং এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে কিছু বৃষ্টিপাত হয়। ফলে সেচের ক্ষেত্রে কৃষকদের কিছুটা সাশ্রয় হয়। পাশাপাশি খাবার পানির কোনো ঘাটতি থাকে না। কিন্তু চলতি বছরে এখনো কোনো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় খরার মৌসুম দীর্ঘতর হচ্ছে। ফলে কৃষিসহ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব পড়ছে। বৃষ্টি হলে আমরা এ প্রাকৃতিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারব বলে আশা করছি। পাকুন্দিয়ার ইউএনও মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, চাহিদার তুলনায় সরকারি গভীর নলকূপ কম পাওয়া যায়। তাই যেসব এলাকায় পানির সঙ্কট রয়েছে সেসব এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সমস্যাকবলিত অন্যান্য এলাকায়ও বরাদ্দ দেয়া হবে।

খরা মৌসুমে নলকূপের পানি সঙ্কট শুধু কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় নয়, এ সঙ্কট দেশের নানা প্রান্তে বিদ্যমান। জনদুর্ভোগ লাঘবে পাকুন্দিয়ায় খাবার পানির সঙ্কট মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।