মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা দেশী-বিদেশী হায়েনাদের মিলিত চক্রকে জুলাই বিপ্লবে পরাস্ত করেছে। যেখানে দানবীয় চক্র মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুপ্ত কারগারের সংস্কৃতি চালু করেছিল। জুলাই তাই বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা ও মুক্তির এক দেয়াল। একে রক্ষা করা না গেলে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের চাপিয়ে দেয়া বিভীষিকায় দিনগুলো আবার ফেরার আশঙ্কা আছে। অশুভ চক্র জুলাই বিপ্লবকে হেয় করার সর্বাত্মক অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জঘন্য ভাষায় জুলাইয়ের অর্জনকে আক্রমণ করছে। তাদের লক্ষ্য— যেকোনোভাবে জুলাইয়ের চেতনা দুর্বল করে ফ্যাসিবাদী ও আধিপত্যবাদী অপশক্তিকে ফিরিয়ে আনার পথ খুলে দেয়া। জুলাইকে শক্তিশালী করা কিংবা একে রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তারা অনেকটাই উদাসীন। মনে রাখতে হবে, বিপুল রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই পরাস্ত হলে বিপ্লবের অগ্রসেনানি কেউ রক্ষা পাবেন না। শুধু তাই নয়, অর্জিত মুক্তিও হারিয়ে যাবে ঘোর অন্ধকারে।

লক্ষণীয়, একটি প্রবণতা গত দুই বছর ধরে দেখা যাচ্ছে। জুলাই এলে পরাজিত শক্তি চার দিক থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা বিপ্লবের অগ্রসেনানি ও এর প্রতীক অবমাননা করে বক্তব্য দিচ্ছে। এ নিয়ে কটাক্ষ করছে। এমনকি কেউ কেউ গালিগালাজ পর্যন্ত করছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে অর্জিত মতপ্রকাশের সুযোগ নিয়ে জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা করছে। একজন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ করে তার ভিডিও ধারণ করে নিজের সামাজিকমাধ্যম আইডিতে আপলোড করেছে। পতিত আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী একজন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন জুলাইকে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে। এক সাংবাদিক একই ধরনের এক স্ট্যাটাসে জুলাইকে বলছে ‘প্রতারণা’। সংস্কৃতিসেবী ও সাংবাদিকদের মধ্যে একটি শ্রেণী জঘন্য ভাষায় জুলাইকে আক্রমণ করছে। এরা সবাই ফ্যাসিবাদী শাসনের সুবিধাভোগী। বিরোধীদের নির্মমভাবে দমানোর সময় শেখ হাসিনার পক্ষে সমর্থন জুুগিয়েছে। জুলাইতে যখন হাসিনার বাহিনী রাস্তায় ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে, তখনো প্রকাশ্যে এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। হাসিনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের পক্ষে এরা বয়ান তৈরি করেছে। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, এদের বিরুদ্ধে আইনি কোনো উদ্যোগ নেয়ার পরিবর্তে এক ধরনের ছাড়ের নীতি নেয়া হয়েছে।

একটি সমাজে যদি এমন একদল মানুষ থাকে, যারা সরাসরি ফ্যাসিবাদ সমর্থন করে; তাহলে সেই সমাজে স্থায়ী শান্তি ফেরানো প্রায় অসম্ভব; বরং আশঙ্কা থাকে, এদের সামনে রেখে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ নিতে পারে ফ্যাসিবাদী অপশক্তি। এ দিকে জুলাইয়ের স্মৃতি রক্ষায় কর্তৃপক্ষের গাফিলতি দৃশ্যমান। এমনকি জুলাই স্মৃতি জাদুঘরটিরও সময়মতো কাজ সম্পূর্ণ করা যায়নি। জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এর ব্যবস্থাপনা জুলাইয়ের সাথে সম্পৃক্ত নয়, এমন ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেয়ার ফন্দি করা হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন।

গত দুই বছরে প্রমাণিত হয়েছে, জুলাইকে বিতর্কিত করে অন্তঃসারশূন্য করার ষড়যন্ত্র চলছে। দ্বিতীয় বছরে তাদের আক্রমণ আরো জোরালো হয়েছে। জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিগুলো যদি সচেতন না হয়; তাহলে আখেরে পস্তাতে হবে। জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণ এবং এর শক্তি সদা জাগরূক রাখতে রাষ্ট্র্রীয় পর্যায় থেকে বড় ধরনের আয়োজন রাখতে হবে।