জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আটজন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজন যুগ্ম কর কমিশনার এবং তিনজন উপ-কর কমিশনার।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো: আবদুর রহমান খানের স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেয়া হয়েছে।

অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকা কর অঞ্চল-২ এর বিভাগীয় প্রতিনিধি (যুগ্ম কর কমিশনার) মাসুমা খাতুন, কর অঞ্চল-১৫ এর যুগ্ম কর কমিশনার মুরাদ আহমেদ, কুষ্টিয়া কর অঞ্চলের যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দিন খান ও নোয়াখালী কর অঞ্চলের যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা।

এছাড়াও কক্সবাজার কর অঞ্চলের যুগ্ম কর কমিশনার মো: আশরাফুল আলম প্রধান, খুলনা কর অঞ্চলের উপ-কর কমিশনার মোহাম্মদ শিহাবুল ইসলাম, রংপুর কর অঞ্চলের উপ-কর কমিশনার মোসা: নুশরাত জাহান শমী এবং কুমিল্লা কর অঞ্চলের উপ-কর কমিশনার ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিলকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।

পৃথক এসব প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২২ জুন জারিকৃত বদলির আদেশ অবজ্ঞাপূর্বক প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার মাধ্যমে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করায় এবং এর মাধ্যমে বদলি আদেশ অমান্যকারীকে সমর্থন করায় তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় কার্যধারা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ -এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী তাদের প্রত্যেককে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার কথা বলা হয়েছে এসব প্রজ্ঞাপনে।

একইসাথে সাময়িক বরখাস্তকালীন সকলে খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন বলেও প্রজ্ঞাপনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসের শেষ সপ্তাহে এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত ২৮ জুন কমপ্লিট শাটডাউনের মতো কঠোর কর্মসূচিও পালন করা হয়। পরদিন ২৯ জুন রাতে তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে আন্দোলনে সক্রিয় থাকা চারজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকেও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় অন্তর্বর্তী সরকার।

গত ২৪ জুন আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে দুটি বদলির আদেশকে ‘প্রতিহিংসা ও নিপীড়নমূলক’ দাবি করে তা ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান তারা।