শান্তিপূর্ণ, আন্তঃসংযুক্ত ও সমৃদ্ধ আঞ্চলিক সম্প্রদায় গড়ে তুলতে গণমাধ্যমের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার, পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছেন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম নেতা, সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞরা।

‘বিল্ডিং অ্যা পাথ টু শেয়ার্ড প্রসপারিটি ফর দ্য এশিয়া-প্যাসিফিক কমিউনিটি : মিডিয়া কনসেনসাস অ্যান্ড অ্যাকশন’ শীর্ষক এশিয়া-প্যাসিফিক মিডিয়া ফোরামে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এ আহ্বান জানানো হয়।

চীনের ২০২৬ সালের এপেক বর্ষের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের ফোরামে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ২০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার বিভাগ এবং সিনহুয়া বার্তা সংস্থার তত্ত্বাবধানে শেনঝেন মিউনিসিপ্যাল পিপলস গভর্নমেন্ট এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রচার, দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদারে গণমাধ্যমের ক্রমবিকাশমান ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয় এই ফোরামে।

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক সংযোগ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বস্তুনিষ্ঠ, ভারসাম্যপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে গণমাধ্যম বিভিন্ন সমাজের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারে। পাশাপাশি সঙ্ঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতার সুযোগগুলোও তুলে ধরতে পারে।

তারা আরো বলেন, ডিজিটালাইজেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির কারণে গণমাধ্যমের পরিবেশে গভীর পরিবর্তন এসেছে।

তারা বলেন, এই প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতার নৈতিকতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন গ্রহণ করা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তারা।

অংশগ্রহণকারীরা পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়ন সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রচারে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরো দৃঢ় সহযোগিতার আহ্বান জানান।

নভেম্বরে শেনঝেনে অনুষ্ঠেয় ৩৩তম এপেক অর্থনৈতিক নেতাদের বৈঠকের আগে এ ফোরাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ফোরামের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা গুয়াংডং প্রদেশের গুয়াংঝু, ফোশান, ডংগুয়ান, ঝুহাই, ঝোংশান ও শেনঝেনসহ বেশ কয়েকটি শহর পরিদর্শন করেন। এসব সফরের মাধ্যমে তারা অঞ্চলটির অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সরাসরি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পান।

এসব সফরে উন্নত উৎপাদন, সবুজ উন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নতুন জ্বালানিচালিত যানবাহন এবং সাংস্কৃতিক শিল্পে গুয়াংডংয়ের রূপান্তর তুলে ধরা হয়।

ডংগুয়ানে অংশগ্রহণকারীরা একটি ঐতিহ্যবাহী উৎপাদনকেন্দ্র থেকে স্মার্ট উৎপাদন ও সবুজ প্রযুক্তির কেন্দ্রে শহরটির রূপান্তর প্রত্যক্ষ করেন। সেখানে ‘এশিয়া-প্যাসিফিকের রূপান্তর : ডিজিটালাইজেশন, স্মার্ট প্রযুক্তি ও সবুজ উন্নয়নের নতুন পথ’ শীর্ষক একটি উপ-ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়।

শেনঝেনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বিওয়াইডিসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা বৈদ্যুতিক যানবাহন, ইনটেলিজেন্ট ড্রাইভিং এবং ব্যাটারি প্রযুক্তির উৎপাদন ও উন্নয়ন সম্পর্কে ধারণা নেন।

ফোরামের পূর্ববর্তী এসব কর্মসূচিতে অংশ নেয়া সাংবাদিকরা গুয়াংডং-হংকং-ম্যাকাও গ্রেটার বে এরিয়ার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত রূপান্তর সরাসরি দেখার পাশাপাশি স্থানীয় কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা ও বিশেষজ্ঞদের সাথে মতবিনিময়ের সুযোগ পান।

চীনের ২০২৬ সালের এপেক ‘চায়না ইয়ার আয়োজনের মধ্যেই এ ফোরাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে প্রায় ৩০০টি সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। নভেম্বরে শেনঝেনে এপেক অর্থনৈতিক নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, গণমাধ্যমের মধ্যে আরো শক্তিশালী সহযোগিতা এশিয়া-প্যাসিফিকের বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি ও সমাজগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও অভিন্ন উন্নয়নের জন্য অনুকূল তথ্য পরিবেশ তৈরিতে অবদান রাখতে পারে।

অংশগ্রহণকারী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অর্জিত ঐকমত্যকে আঞ্চলিক গণমাধ্যম সহযোগিতা জোরদার এবং অভিন্ন সমৃদ্ধিতে অবদান রাখার লক্ষ্যে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বাসস