দেশের হয়ে মেসির সেরা দশ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

১. অভিষেক

২০০৪ সালের ২৯ জুন আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-২০ দলের ম্যাচে আকাশি-সাদা জার্সিতে অভিষেক মেসির। আর্জেন্টিনার জয় ৭-০ গোলে। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট আর্জেন্টিনার মূল দলে তার অভিষেক হয় হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে।

২. প্রথম গোলের আনন্দ

২০০৬ সালের ১ মার্চ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রথম গোল করেন মেসি। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৩-২ গোলে হারে আর্জেন্টিনা।

৩. কঠিন সময়ের সাক্ষী

২০১১ কোপা আমেরিকায় ব্যর্থতার পর নিজের দেশেই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল মেসিকে। উরুগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে কোয়ার্টার থেকে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টে চার ম্যাচ খেলেও গোল পাননি মেসি। সেই হতাশার পর সান্তা ফেতে সমর্থকদের কাছ থেকে দুয়ো পেয়েছিলেন।

৪. ব্রাজিলের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক

২০১২ সালের ৯ জুন নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন মেসি। আর্জেন্টিনার ৪-৩ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে এক ম্যাচে তিন গোল করা পঞ্চম আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় হন মেসি।

৫. ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল

ব্রাজিল বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বসনিয়া ও ইরানের বিপক্ষে একটি এবং নাইজেরিয়ার বিপক্ষে দু’টি গোল করেন। অধিনায়ক হিসেবে দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত জার্মানির কাছে অতিরিক্ত সময়ের গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া। অবশ্য সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জেতেন মেসি।

৬. অবসরের ঘোষণা ও প্রত্যাবর্তন

২০১৬ সালে চিলির কাছে কোপা আমেরিকার ফাইনালে টাইব্রেকারে হারের পর ভেঙে পড়েন মেসি। টানা চার ফাইনালে হারের যন্ত্রণা থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। সে সময় মেসি বলেছিলেন, ‘এটাই শেষ। জাতীয় দলের হয়ে আর নয়; চারটি ফাইনাল, এটা আমার জন্য নয়। তবে আর্জেন্টাইনদের ভালোবাসা মেসিকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করে। ভক্তদের চাওয়ায় আবার আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা শুরু করেন।

৭. অবশেষে প্রথম শিরোপা

চারটি ফাইনাল হার এবং ২৮ বছরের শিরোপাখরা- সব কিছুর অবসান ঘটে ২০২১ কোপা আমেরিকায়। মারাকানায় ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়। আর্জেন্টিনার হয়ে সেটাই ছিল মেসির প্রথম বড় শিরোপা। পুরো টুর্নামেন্টে চার গোল ও পাঁচ অ্যাসিস্ট করে সেরা খেলোয়াড় হন।

৮. কাতারে পূর্ণতা

২০২২ বিশ্বকাপ ছিল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। সৌদি আরবের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। পুরো টুর্নামেন্টে সাত গোল ও তিন অ্যাসিস্ট করেন মেসি। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে করেন জোড়া গোল।

৯. কান্নার মধ্যেও শিরোপা

কলম্বিয়ার বিপক্ষে ২০২৪ কোপা আমেরিকার ফাইনালে গোড়ালির চোটে মাঠ ছাড়তে হয় মেসিকে। কিন্তু তার অনুপস্থিতিতেও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বার কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। সেটিই আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির শেষ শিরোপা।

১০. শেষ বিশ্বকাপে আরেকটি ইতিহাস

২০২৬ বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সেও মেসি দেখিয়েছেন তার শ্রেষ্ঠত্বের ঝলক। প্রতিটি ম্যাচ খেলেছেন, করেছেন আট গোল। বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১-এ, যা তাকে বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা বানিয়েছে। ২২ গোল করে মেসির ওপরে আছেন এমবাপ্পে।