বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব গ্রহণের আগে শপথ নিতে হয়। পৃথিবীর বহু দেশে এরূপ নিয়ম চালু আছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথের ভাষ্য কম-বেশি একই রকম বলে প্রতীয়মান হয়। উল্লিখিত পদগুলোর শপথের ভাষ্যটি মোটামুটি নিম্নরূপ :
‘আমি সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ করিতেছি যে, আমি .......... আইন অনুযায়ী (রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী প্রভৃতি) পদের দায়িত্ব বিশ্বস্ততার সাথে পালন করিব। আমি বাংলাদেশের প্রতি সত্যনিষ্ঠা ও আনুগত্য পোষণ করিব। আমি সংবিধান সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও সমুন্নত রাখিব। এবং আমি কোনো প্রকার ভয়ভীতি, পক্ষপাত, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া আইন অনুযায়ী সকল মানুষের প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণ করিব।’
১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় যে শপথ বাক্য নির্ধারণ করা হয়েছিল তা আজ পর্যন্ত বহাল ও অপরিবর্তিত আছে। সংবিধান বহুবার সংশোধন হলেও শপথবাক্য কখনো সংশোধন হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। এ সম্পর্কে কেউ কোনো প্রকার প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন বলেও মনে পড়ছে না। এমনকি জামায়াতে ইসলামী বা অন্য কোনো ইসলামী দলের পক্ষ থেকেও বিগত ৫৫ বছরে কেউ কোনো কথা বলেছেন কি না আমাদের জানা নেই। কথাটা এ কারণে বলছি, একটি শপথ হচ্ছে একটি পবিত্র অঙ্গীকার। অঙ্গীকার ভঙ্গ করার পরিণতি সম্পর্কে আমাদের কোনো আইনে কিছু আছে বলে মনে হয় না। কেবল ব্যক্তিগত দায়বোধ ও নৈতিকতার বিচারে অঙ্গীকার ভঙ্গ করাকে অনৈতিক বলে বিবেচনা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রাখা হলে এর গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়।
আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অনেকে একটি সেক্যুলার প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। তা সত্ত্বেও শপথগ্রহণকে অনেকে ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুভূতির সাথে সম্পর্কিত করে থাকেন। যেমন- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শপথগ্রহণ শেষে বলে থাকেন : ‘সো হেল্প মি গড’। যদিও মার্কিন সংবিধানে এরূপ বলার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এটি স্বেচ্ছাধীন। প্রথা অনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইবেল হাতে নিয়ে শপথগ্রহণ করে থাকেন। এ ছাড়া শপথগ্রহণের আগে প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রী গির্জায় গিয়ে প্রার্থনা করে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ধর্ম ও রাষ্ট্রকে আলাদা সত্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও অন্য নেতারা খ্রিষ্টীয় ধর্মকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে মর্যাদা দিতে ভুল করেন না।
সংবিধান অনুযায়ী ভারত একটি সেক্যুলার রাষ্ট্র। তা সত্ত্বেও দেশটির মন্ত্রীরা শপথ গ্রহণকালে অনেকে ‘প্রভুর নামে’ শপথগ্রহণ করে থাকেন। কোনো মুসলিম মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার সময় ‘আল্লাহর নামে শপথ করছি’ বলে থাকেন। তবে কোনো নাস্তিক বা সেক্যুলার ব্যক্তি আল্লাহ বা প্রভুর নাম উচ্চারণ না করেও শপথ নিতে পারেন। এ ব্যাপারে আইনগত কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। দেখা যাচ্ছে, ভারত একটি সেক্যুলার রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও কোনো কোনো ব্যক্তি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ধর্মবিশ্বাসকে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সাথে সম্পৃক্ত করে থাকেন। এ নিয়ে দেশটিতে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে বলে শুনিনি।
এবারে দেখা যাক ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের দৃষ্টান্ত। দেশটিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে শপথগ্রহণ করেন। সৌদি আরবের মন্ত্রীরা নিম্নোক্ত ভাষায় শপথ নেন : ‘আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে শপথ করছি যে, আমি আমার ধর্মের প্রতি, অতঃপর আমার বাদশাহ ও দেশের প্রতি বিশ্বস্ত থাকব; রাষ্ট্রের কোনো গোপনীয় তথ্য প্রকাশ করব না; রাষ্ট্রের স্বার্থ ও বিধিবিধান সংরক্ষণ করব; সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে আমার দায়িত্ব পালন করব।’
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানেও প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রীরা নিম্নোক্ত ভাষায় শপথ নেন : ‘পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে পবিত্র কুরআন ও ইরানের জনগণের সামনে সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে শপথ করছি যে, আমি দেশের সরকারি ধর্ম, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ব্যবস্থা এবং দেশের সংবিধান রক্ষা করব; আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে আমার সব সামর্থ্য ও যোগ্যতা নিয়োজিত করব; জনগণের সেবা, দেশের উন্নতি, ধর্ম ও নৈতিকতার প্রসার, সত্যের সমর্থন ও ন্যায়বিচারের সম্প্রসারণে নিজেকে নিয়োজিত রাখব; স্বৈরাচারী আচরণ থেকে বিরত থাকব; নাগরিকদের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সংবিধান প্রদত্ত অধিকার রক্ষা করব; দেশের সীমান্ত এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকব না; এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে এবং ইসলামের নবী ও নিষ্পাপ ইমামগণের অনুসরণ করে জনগণের অর্পিত ক্ষমতাকে পবিত্র আমানত হিসেবে একজন পরহেজগার ও আত্মনিবেদিত আমানতদারের ন্যায় সংরক্ষণ করব। আমার পর জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে তার কাছে তা হস্তান্তর করব।’
এতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের মতো খ্রিষ্টানপ্রধান দেশ, ভারতের মতো সেক্যুলার দেশ ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের উদাহরণ তুলে ধরেছি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মতো জার্মানিতেও প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রীরা শপথগ্রহণ শেষে বলে থাকেন : ‘ সো হেল্প মি গড’। আয়ারল্যান্ড, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়াতে প্রভুর নামে শপথ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ফিলিপাইনে প্রভুর নামে শপথগ্রহণ করা যায়, কিন্তু তা বাধ্যতামূলক নয়। বাংলাদেশ, ফ্রান্স, ইতালি ও তুরস্কের মতো দেশে শপথগ্রহণে ধর্মীয় কোনো শব্দ ব্যবহার করা হয় না। বাংলাদেশে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ইসলাম ধর্মের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও এখানে আল্লাহর নামে শপথগ্রহণ করা হয় না।
উপরের কথাগুলো এ জন্য বলতে হলো, রাজনৈতিক নেতারা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন উচ্চ পদের দায়িত্ব গ্রহণকালে যে শপথবাক্য উচ্চারণ করে থাকেন, তার প্রতিফলন পরবর্তীতে তাদের কর্মকাণ্ডে দেখা যায় না। নাম উল্লেখ না করেও চোখ বন্ধ করে সহজে এরূপ বহু নেতা-নেত্রীর উদাহরণ তুলে ধরা যেতে পারে। সাধারণ জনগণ এটি দেখতে এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছেন যে, নেতারা অহরহ প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদা ভঙ্গ করে থাকেন। জবাবদিহির কথা বলা হলেও এর সঠিক কোনো প্রয়োগও বাস্তবে নেই। ওয়াদা ভঙ্গের কারণে কোনো মন্ত্রীর শাস্তি হয়েছে বলে কখনো শুনিনি। যেমন মন্ত্রীরা শপথে বলে থাকেন, ‘আমি কোনো প্রকার ভয়ভীতি, পক্ষপাত, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া আইন অনুযায়ী সকল মানুষের প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণ করিব।’
বাস্তবে এমন কোনো মন্ত্রী কি খুঁজে পাওয়া যাবে, যিনি পক্ষপাত, ভয়, অনুরাগ বা বিরাগের ঊর্ধ্বে উঠে তার দায়িত্ব পালন করে থাকেন? এক কথায় উত্তর ‘না’। তাহলে কী দাঁড়াচ্ছে? যে ভোটার ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য নির্বাচিত করলেন তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কোনো প্রতিকার তারা এই পৃথিবীতে পায় না। যারা পরকালে বিশ্বাসী তারা পরকালীন জবাবদিহির ভয় করে থাকেন। সে জন্য মানুষকে ফাঁকি দিয়ে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সুযোগ পেলেও পরকালে আল্লাহর কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। বাস্তবে পৃথিবীর কোনো আইন বা বিধান মানুষকে অপরাধ সংঘটন থেকে সম্পূর্ণ নিবৃত্ত করতে পারে না। কেবল ধর্মীয় অনুভূতির প্রাবল্য তাকে অন্যায় করা থেকে বিরত রাখতে পারে। আর এ জন্য বহু দেশ সেটি সেক্যুলার বা ইসলামী যে ধরনের রাষ্ট্র হোক না কেন, ধর্মীয় দায়িত্বানুভূতি উপেক্ষা করে না। সুতরাং সময় এসেছে, বাংলাদেশের সাংবিধানিক পদগুলোতে দায়িত্ব গ্রহণের আগে যে শপথগ্রহণের বিধান আছে; তার ভাষ্যে ‘আল্লাহর নামে’ শব্দাবলী সংযুক্ত করা। এটি ছাড়া বর্তমানে যে ভাষায় শপথ নেয়া হয়, তার কোনো ধর্মীয় মর্যাদা নেই।
এবারে দেখা যাক, দেশে অতীতের কথা বাদ দিলেও সাম্প্রতিককালে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের তরতাজা উদাহরণ নিয়ে বেশ বিতর্ক চলছে। স্বাভাবিকভাবে জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই জাতীয় সনদের কথা বলা যেতে পারে। ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশিত হয়। সেখানে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত থেকে তার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন। জুলাই ঘোষণাপত্রে বলা হয় যে, ‘সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসঙ্গত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতিমুক্ত, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।’
‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ কয়েকটি ভিন্নমতসহ সর্বসম্মতভাবে প্রণীত হয়। সনদটি ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ২৫টি রাজনৈতিক দল ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয়। এতে বলা হয় যে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ বাংলাদেশের সামগ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা তথা সংবিধান, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমনব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে যেসব সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ আছে, সেগুলো বাস্তবায়নে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন এবং বিদ্যমান আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিবর্তন, পরিমার্জন বা নতুন আইন প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন বা বিদ্যমান বিধি ও প্রবিধির পরিবর্তন বা সংশোধন করব।’
এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। স্মরণযোগ্য, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনগণের সম্মতি গ্রহণে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রায় ৬৭ শতাংশ ভোটার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ভোট প্রদান করে। এ কথা ঠিক যে, জুলাই সনদের সব কিছু গণভোটে পাস হয়নি, তবে প্রধান প্রধান সাংবিধানিক সংস্কারের কথাগুলো তাতে উল্লেখ ছিল। কথা ছিল প্রত্যেক নির্বাচিত প্রতিনিধি একই সাথে জাতীয় সংসদ এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিবেন। কিন্তু বিএনপির নির্বাচিত সদস্যরা শুধু একটি শপথ গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ভঙ্গের যাত্রা শুরু করে বিএনপি। অথচ বিএনপি চেয়ারপারসন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক জনসমাবেশে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা দিয়েছিলেন :
‘আজ এই হাজারো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে- এই মিডিয়ার সামনে পরিষ্কারভাবে আমি আবারো বলে দিতে চাই, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যে জুলাই জাতীয় সনদ সই করে এসেছে, সেই সনদের প্রত্যেকটি শব্দ প্রতিটি অক্ষর আমরা ইনশা আল্লাহ এক এক করে বাস্তবায়ন করব।’ প্রধানমন্ত্রীর এরূপ দৃঢ় ঘোষণার পর জুলাই সনদ তথা গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে আর কোনো প্রকার সন্দেহ থাকার কথা নয়। তবে তার সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী যেভাবে জুলাই সনদকে উপেক্ষা করে কথা বলছেন, তাতে সমগ্র জাতি বিভ্রান্তি ও সংশয়ের মধ্যে আছে।
এ প্রসঙ্গে প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদা ভঙ্গের বিষয়ে আল কুরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে লেখাটি শেষ করব। আল কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের পাকড়াও করবেন না তোমাদের অর্থহীন শপথের ব্যাপারে; কিন্তু যে শপথ তোমরা দৃঢ়ভাবে কর, সে শপথের ব্যাপারে তোমাদের পাকড়াও করবেন।’ (সূরা আল মায়েদা, আয়াত-৮৯)
রাসূল সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথ করে কোনো মুসলমানের অধিকার (হক) আত্মসাৎ করল, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম অবশ্যম্ভাবী করে দেবেন এবং জান্নাত হারাম করে দেবেন।’ -সহিহ মুসলিম
রাসূল সা: বলেছেন, মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি- কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে এবং তার কাছে কেউ আমানত রাখলে তা খেয়ানত করে।’ - সহিহ আল বুখারি
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জাতির সাথে প্রতিশ্রুতি, ওয়াদা বা অঙ্গীকার ভঙ্গের পরিণতি কী হতে পারে তা পাঠকরা অনুভব করতে পারেন। সব বিচার ফয়সালার মালিক মহান আল্লাহ।
লেখক : গবেষক ও সাবেক সচিব