একীভুত ব্যাংকে গ্রাহক-কর্মকর্তা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়
ডিপিএস হিসাবধারীদের মেয়াদপূর্তির আগে টাকা উত্তোলনের সুযোগ নেই!
Printed Edition
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রথমে ১ সেপ্টেম্বর ও পরে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী আমানতের মূল অর্থ উঠাতে পারবেন বলে ঘোষনা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর শাখায় গিয়ে ভিন্ন চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। মাসিক ভিত্তিতে জমাকৃত ডিপিএস প্রকৃতির হিসাব ধারকদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ব্যাংকিংয়ের সুযোগ রাখা হয়নি, এমনকি মেয়াদ পূর্তি না হওয়ার অজুহাতে এক টাকাও উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়নি এমন অভিযোগ করেছেন বেশ ক’জন গ্রাহক। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন শাখায় গ্রাহকদের সাথে কর্মকর্তাদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। গ্রাহকরা বলছেন, ইতঃপূর্বে তারা মাত্র দুই বছরের লভ্যাংশ কমানোয় (হেয়ারকাট) প্রতিবাদে আন্দোলন করে আসছিলেন। কিন্তু এখন হেয়ারকাট তো দুরের কথা আমানতের পুরো লভ্যাংশ সারেন্ডার করে শুধু আমানতের টাকায় দুই বছর মেয়াদি এফডিআর খোলার কথা বলছে ব্যাংকগুলো। ফলে গ্রাহকরা সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের উপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
ইতঃপূর্বে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের স্থিতির ওপর মুনাফা পাবেন না। এর প্রতিবাদে ব্যাংকগুলোর গ্রাহকরা ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসছিলেন।
কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের জানাচ্ছেন, ডিপিএস প্রকৃতির হিসাব ধারকদের মধ্যে যাদের মেয়াদ পূর্তি হয়নি তারা কোনো টাকা তুলতে পারবেন না। অথচ জুলাই বিপ্লবের পর ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক লেনদেন বন্ধ হয়ে গেলে কোনো গ্রাহকই এসব হিসাবে কিস্তির টাকা জমা করেননি। গতকাল ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের (বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক) বহদ্দারহাট শাখার ডিপিএস হিসাব ধারক মোহাম্মদ শাহজাহানের সাথে কথা হলে তিনি অভিযোগ করেন, স্বাভাবিক লেনদেনের কথা বলে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করছে। স্বাভাবিক ব্যাংকিং হলেতো একজন গ্রাহক যেকোনো সময় তার যেকোনো ধরনের হিসাব বন্ধ করার অধিকারী। কিন্তু আমার ছয় বছর আগে খোলা ডিপিএস বন্ধ করে নাকি এখন এক টাকাও তুলতে পারব না- এটা তো মগের মুল্লুকের মতো হলো। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের দোহাই দিয়ে ব্যাংকটির কর্মকর্তারা তাকে পুরো লভ্যাংশ সারেন্ডার করে মূল টাকাগুলোকে দুই বছর মেয়াদি এফডিআর খোলার কথা বলেছেন, যা দুই বছরের আগে উত্তোলনযোগ্য নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক ডিপিএস গ্রাহক নয়া দিগন্তকে বলেন, স্বাভাবিক লেনদেনের কথা বললেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। নিজের মেয়াদ পূর্ণ না হওয়া ডিপিএস হিসাব থেকে টাকা তুলতে না দেয়াকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকটির চরম বৈষম্যমূলক ও বেআইনি আচরণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অপর এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, মেয়াদ পূর্ণ হওয়া ডিপিএসের টাকা থেকে দুই লাখ টাকা উত্তোলন করে বাকি টাকা দুই বছর মেয়াদি এফডিআর খুলতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ব্যাংকটির কর্মকর্তারা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার এখন পর্যন্ত এভাবেই আছে। সার্কুলার পরিবর্তন হলেই কেবল আমরা ডিপিএস হিসাবধারীদের টাকা দিতে পারব।