৩ বছরেও চালু হয়নি পল্লী মার্কেট, অবহেলায় প্রশ্নবিদ্ধ ২ কোটি টাকার প্রকল্প

Printed Edition

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম ময়মনসিংহ

প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও তিন বছরেও চালু হয়নি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের দোতলা পল্লী মার্কেট। অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় ভবনটি এখন পরিণত হয়েছে অবহেলা, দুর্গন্ধ ও নিরাপত্তাহীনতার প্রতীক হিসেবে।

নিয়মিত তদারকি না থাকায় চুরি হয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগের তার, ফ্যান ও পানির ট্যাংকসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শত বছরের পুরনো কালীমন্দির সংলগ্ন দেবোত্তর জমিতে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ পল্লী মার্কেট নির্মাণ করে। সিএস, আরআর ও বিআরএস জরিপে জমিটি দেবোত্তর হিসেবে কালীমাতার নামে রেকর্ডভুক্ত হলেও সেখানে বাজার ও স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিরোধ চলে আসছে।

মন্দিরের সেবায়েত প্রাণতোষ বিশ্বাস ২০১৭ সাল থেকে আদালতে মামলা করেন। একাধিকবার আদালত মন্দিরের জমিতে বাজার বসানো, ইজারা দেয়া ও স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দেন। ২০২১ সালের আগস্টে জেলা জজ আদালত এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতও স্পষ্ট নির্দেশনা দেন, মন্দিরের জমিতে কোনো বাজার বা স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। তবুও ভবনটি নির্মাণ সম্পন্ন হয় এবং একই বছরের ডিসেম্বরে উদ্বোধন করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নিচতলা খোলা পড়ে আছে, যেখানে মাছ বাজার বসানোর কথা থাকলেও কোনো কার্যক্রম নেই। উপরে উঠার সিঁড়ি ও কগুলোতে আবর্জনা, মানুষের মলমূত্র ও তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম জানান, দীর্ঘদিন নজরদারি না থাকায় ভবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী শহীদ মিয়া বলেন, ‘ভবনের ভেতরে ঢোকাই যায় না, মানুষ এটিকে টয়লেট হিসেবে ব্যবহার করছে।’

স্থানীয়দের প্রশ্ন, যে মার্কেট আইনি কারণে চালুই করা যাচ্ছে না, সেটি নির্মাণে কেন এত তাড়াহুড়া ছিল। ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বলেন, আদালতের মামলা ও সরকার পরিবর্তনের কারণে মার্কেট চালু হয়নি। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত জানান, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এ দিকে, কালীমন্দিরের পবিত্রতা রা ও জনস্বার্থে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তের দাবি উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। তিন বছর ধরে অচল পড়ে থাকা এই পল্লী মার্কেট এখন প্রশ্ন তুলছে, উন্নয়ন কার জন্য এবং কার স্বার্থে।