ইরান ও লেবাননের স্কুল ও হাসপাতালে হামলার সমালোচনা এরদোগানের

Printed Edition

আনাদোলু

গাজার মতো ইরান ও লেবাননেও স্কুুল ও হাসপাতালগুলোতে একটি ‘রক্তপিপাসু চক্র’ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। শনিবার ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদে ১৪ মার্চ মেডিসিন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অঞ্চলটিতে চলমান ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার বিষয়ে এরদোগান বলেন, ‘এই উন্মাদনার বিরুদ্ধে তুরস্ক মানবতা রক্ষা, যুক্তির পক্ষে কথা বলা এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সঙ্কটের সমাধানের পথ খোঁজা শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।’

গাজা সঙ্ঘাতের মানবিক বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ব এমন দৃশ্য দেখেছে যেখানে মানবজীবনের কোনো মূল্য দেয়া হয়নি। ইনকিউবেটরে থাকা শিশু এবং হাসিমুখে স্কুলে যাওয়া শিশুদেরও বোমা হামলায় হত্যা করা হয়েছে। গাজা যুদ্ধের সময় চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কারণে প্রায় এক হাজার ৭০০ স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।

আঞ্চলিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তুরস্কের দৃষ্টিভঙ্গি ভূ-রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থের চেয়ে মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচার দ্বারা পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছেন এরদোগান। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের মানবিক অবস্থান বজায় রাখব। আমরা কোনো ঘটনাকে তেল, সোনা, প্রাকৃতিক গ্যাস বা খনিজ সম্পদের মূল্যের ভিত্তিতে নয়, বরং ন্যায়বিচার, সহানুভূতি, করুণা এবং মানুষের মর্যাদার দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করি।’

মানবজীবনের মূল্যের কথা বলতে গিয়ে এরদোয়ান পবিত্র কুরআনের সূরা আল-মায়িদার ৩২ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দেন। সেখানে বলা হয়েছে, একটি জীবন বাঁচানো সমগ্র মানবতাকে বাঁচানোর সমতুল্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তুরস্কের শাসন দর্শনের মূলে রয়েছে মানবজীবন রক্ষা করা। এ সময় তিনি ‘মানুষকে বাঁচতে দিন যাতে রাষ্ট্র বাঁচতে পারে’ নীতিটির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।