২ বছর আগেই বন্ধ হচ্ছে সুন্দরবনের জলবায়ু প্রকল্প

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রিটিশ সরকারের বৈদেশিক সহায়তা কমিয়ে দেয়ার কারণে বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় চলমান একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল চলতি বছরের মধ্যে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষকে সহায়তা দেয়া। কিন্তু অর্থায়ন কমে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩৭ হাজার মানুষ এ সুবিধা পাবেন। প্রকল্পটি সেপ্টেম্বরের মধ্যে বন্ধ করে দেয়ার কথা রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সহায়তায় ২০২৩ সালে সুন্দরবন এলাকায় প্রকল্পটি শুরু করে ব্রিটিশ উন্নয়ন সংস্থা প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। এর আওতায় সৌরবিদ্যুৎ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, মাছ চাষ এবং ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টির আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়।

এ বিষয়ে প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীলতাবিষয়ক কর্মকর্তা তামান্না রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, হঠাৎ প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাথে গড়ে ওঠা আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় স্থানীয় সরকারের কাছে প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে হস্তান্তর করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বছরে প্রায় তিন সেন্টিমিটার করে বাড়ছে। ফলে লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যা বাড়ছে। এসব কারণে স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য জলবায়ু অভিযোজন সহায়তার প্রয়োজনও বাড়ছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশে দ্বিপক্ষীয় সহায়তা চলতি অর্থবছরে অর্ধেকের বেশি কমে যাওয়ার কথা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যেখানে সহায়তার পরিমাণ ছিল ছয় কোটি ৬৭ লাখ পাউন্ড, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা কমে তিন কোটি ১০ লাখ পাউন্ডে দাঁড়াবে। যুক্তরাজ্য সামগ্রিক বৈদেশিক সহায়তা বাজেটও কমাচ্ছে। দেশটির সহায়তা ব্যয় জাতীয় আয়ের ০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে ০ দশমিক ৩ শতাংশে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান সারাহ চ্যাম্পিয়ন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় দরিদ্র দেশগুলোকে সহায়তার প্রকল্প এভাবে আগাম বন্ধ করে দেয়া হলে যুক্তরাজ্যের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্য দিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দফতর (এফসিডিও) বলেছে, তারা অনুদাননির্ভর সহায়তা কমিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকারের সাথে সরাসরি অংশীদারত্ব বাড়াতে চায়। তবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় তাদের আগ্রহ ও প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দফতরটি।