জলাবদ্ধতা-ময়লার স্তূপে নাকাল চকরিয়া পৌরবাসী
Printed Edition
রফিক আহমদ চকরিয়া (কক্সবাজার)
পরিকল্পিত নগরায়ণের অভাবে কক্সবাজারের প্রথম শ্রেণীর চকরিয়া পৌর শহরে জলাবদ্ধতা ও ময়লা-আবর্জনা জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ফুটপাথ ও বিদ্যালয়ের আশপাশে দীর্ঘদিন ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থী, পথচারী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। সামান্য বৃষ্টিতেই অপরিকল্পিত ও ময়লায় ভরাট সেচনালা উপচে প্রধান সড়কে চলে আসে এসব ময়লা। সড়কে জমে যায় হাঁটুপানি।
সরজমিন দেখা যায়, পৌর শহরের জনবসতিপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাথ ও বিদ্যালয়ের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ রয়েছে। সময়মতো এসব আবর্জনা অপসারণ না করায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চার দিক। বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী ও পথচারীদের নাকে-মুখে রুমাল বা টিস্যু দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতার কারণে শহরে যানজটও সৃষ্টি হয়। এতে হাসপাতালের রোগী, পর্যটক, অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুই পাশ, সরকারি বালিকা বিদ্যালয় সড়ক, সরকারি হাইস্কুল সড়ক, ওয়াপদা সড়ক, বিমানবন্দর সড়কসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে ফুটপাথ দখল করে ভাসমান দোকান বসানোর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের সহায়তায় বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদার বিনিময়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। এতে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিঘœ ঘটছে। প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেকে নাজেহালের শিকার হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নিয়মিত আবর্জনা অপসারণ না করায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। তারা দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন।
চকরিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীন দেলোয়ার বলেন, পৌর শহরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ভাসমান দোকান উচ্ছেদ কার্যক্রম চলছে। ময়লা-আবর্জনার সমস্যা পুরনো। দায়িত্ব নেয়ার পর সমাধানের উদ্যোগ নিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় জনবলের সঙ্কট দেখা গেছে। অস্থায়ীভাবে লোক নিয়োগ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।