দোহারে ঋণের কিস্তির চাপে মা ও মেয়ের মৃত্যু!

Printed Edition

দোহার (ঢাকা) সংবাদদাতা

ঢাকার দোহার উপজেলায় একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ ও পুলিশের ভয় দেখানোর পর আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে মা ও মেয়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত ২৪ জুন বুধবার ও ২৯ জুন সোমবার- মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে যথাক্রমে ঋণগ্রহীতা লাভলী আক্তার ও তার মা রেহানা বেগমের এই রহস্যজনক মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খালপাড় এলাকার বাসিন্দা লাভলী আক্তার প্রায় এক বছর আগে ‘রুরাল কনস্ট্রাকশন নিউনেশন’ নামক এনজিওর বটিয়া শাখা থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তার ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠান। প্রথম দিকে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলেও চার মাস আগে সেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ছেলে কর্মহীন হয়ে পড়লে কিস্তি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই এনজিওর কর্মকর্তারা কিস্তির টাকার জন্য লাভলীকে চাপ দিতে থাকেন। চাপের মুখে ভয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন।পরিবারের দাবি, লাভলী আক্তারকে না পেয়ে এনজিওর কর্মীরা তার বাবার বাড়ি উপজেলার নাগেরকান্দায় গিয়ে তার মা রেহানা বেগমকে চাপ দেন এবং ভয় দেখিয়ে দুই কিস্তির টাকা আদায় করেন। গত ২৪ জুন লাভলী তার মেয়ের বাড়িতে আছেন জানতে পেরে এনজিওর কর্মকর্তারা সেখানে পুলিশ নিয়ে গিয়ে তাকে ধরে আনার হুমকি দেন। এই হুমকিতে আতঙ্কিত হয়ে লাভলী আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ওই রাতেই হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লাভলীর মৃত্যুর পরও এনজিওর কর্মকর্তারা টাকার জন্য তার বৃদ্ধা মা রেহানা বেগমকে চাপ দিতে থাকেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় এনজিও কর্মীরা আবারো নাগেরকান্দায় লাভলীর বাবার বাড়িতে যান এবং টাকা পরিশোধ না করলে পুলিশে দেয়ার ভয় দেখান। এ সময় লাভলীর মা রেহানা বেগম সিঁড়িতে দাঁড়ানো অবস্থায় আতঙ্কে লুটিয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। মৃত রেহানা বেগমের ছেলে নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মা ঋণের বিষয়ে কিছুই জানতেন না। এনজিওর লোকজনের দুর্ব্যবহার ও পুলিশের ভয় দেখানোর কারণেই আমার মা ও বোন স্ট্রোক করে মারা গেছেন। আমরা এই অন্যায়ের বিচার চাই।’ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা পুলিশ জানালেও আইনি জটিলতার আশঙ্কায় রাতেই লাশ দাফন করা হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

তবে এনজিওর পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ‘রুরাল কনস্ট্রাকশন নিউনেশন’-এর শাখা ব্যবস্থাপক আনোয়ার জাহিদ বলেন, ‘লাভলী আক্তার গত ছয় মাস ধরে ঋণখেলাপী ছিলেন। আমরা নিয়ম অনুযায়ী টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছি। তিনি মারা যাওয়ার পর তার ঋণ মওকুফের জন্য ডেথ সার্টিফিকেট আনতে আমরা ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। উল্টো তারা আমাদের কাছে টাকা দাবি করায় আমরা চলে আসি। কাউকে কোনো ধরনের হুমকি বা ভয় দেখানো হয়নি।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: মাঈদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট এনজিওর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।