একটি কলেজের অভাবে অনিশ্চয়তায় হাওরের শত শত শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করলেও কলেজের অভাবে অনেকেই এসএসসির পর ঝরে পড়ে

Printed Edition

সোহেল মিয়া দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ)

চার দিকে বিস্তীর্ণ হাওর। বর্ষায় নৌকাই একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম, আর শুষ্ক মৌসুমে কাদামাটির দুর্গম পথ পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এমন প্রত্যন্ত জনপদে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয় কয়েকটি গ্রামের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক শিক্ষার প্রধান ভরসা। তবে এসএসসি পাসের পর নিকটবর্তী কলেজ না থাকায় উচ্চশিক্ষার পথ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে অনেকের। বিশেষ করে মেয়েদের একটি বড় অংশ মাধ্যমিকের পর ঝরে পড়ছে। বিদ্যালয়টি কলেজে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সুরমা ইউনিয়নের কানলার হাওরের পূর্ব পাড়ে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এসএসসি পাসের পর উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হতে তাদের আট থেকে দশ কিলোমিটার দূরের কলেজে যেতে হয়। সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় যাতায়াতে দুর্ভোগের পাশাপাশি বাড়তি খরচ বহন করতে হয়। ফলে আর্থিক সঙ্কট ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের, বিশেষ করে মেয়েদের, দূরের কলেজে পাঠাতে অনাগ্রহী।

দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রিয়া আক্তার বলেন, এসএসসির পর কলেজে পড়ার স্বপ্ন থাকলেও দূরের কলেজে যাতায়াতের কষ্ট, খরচ ও নিরাপত্তার কারণে অনেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে না।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, কয়েকটি গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়টি একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কলেজ না থাকায় এসএসসির পর অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। দ্রুত বিদ্যালয়টি কলেজে উন্নীত করা প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করলেও কলেজের অভাবে অনেকেই এসএসসির পর ঝরে পড়ে। বিদ্যালয়টি কলেজে উন্নীত হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় থেকেই এইচএসসি পর্যন্ত পড়ার সুযোগ পাবে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টিতে উচ্চমাধ্যমিক চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে। কলেজে উন্নীত করা গেলে বিশেষ করে মেয়েদের ঝরে পড়ার হার কমবে। এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।