বাংলাদেশের লক্ষ্য সিরিজ জয়
আজ শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় টেস্ট
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রিকেটের ইতিহাসে যে অর্জনকে দীর্ঘদিন স্বপ্ন হিসেবে দেখেছে বাংলাদেশ, সেটি বাস্তবে রূপ দিয়েছে ডারউইনে। অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে টাইগাররা। এবার সামনে আরো বড় সুযোগ- ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্ট জিতে স্বাগতিকদের মাটিতেই প্রথমবারের মতো সিরিজ নিজেদের করে নেয়া। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় আজ থেকে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ সামনে রেখে শেষ ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ডারউইনে প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত জয়ের আত্মতুষ্টিতে না ভুগে সিরিজ জয়ে ইতিহাস গড়তে মুখিয়ে টাইগাররা। অবিস্মরণীয় সাফল্যের পর ফুরফুরে মেজাজে ম্যাকাইয়ে ঐতিহাসিক কীর্তি গড়ার অপেক্ষায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এই ম্যাচে কেবল একটি ড্র করলেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জনটি নিশ্চিত করতে পারবে।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দল কোনো ধরনের রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামবে না। প্রথম টেস্টের আত্মবিশ্বাস ও সঠিক পরিকল্পনাকে পুঁজি করে ম্যাকাইয়ের বাউন্সি উইকেটেও নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিতে প্রস্তুত খেলোয়াড়রা। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থাকা এবং বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার পুরোনো কৌশল এবারো ধরে রাখতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। দলের শক্তি বাড়াতে চোট কাটিয়ে স্কোয়াডে যোগ দিয়েছেন পেসার শরিফুল ইসলামও, যা পেস আক্রমণকে আরো শাণিত করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখনো কোনো টেস্ট সিরিজ জেতেনি বাংলাদেশ। তবে চলতি সিরিজের প্রথম টেস্টে তাদেরই মাটিতে ডারউইনে টেস্ট জয়ে ইতিহাস গড়েছে টাইগাররা। সিরিজটি পজিটিভ বা ড্র করার সুযোগ সামনে রয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালে দেশের মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ ড্র করেছিল বাংলাদেশ।
২০০০ সালের ২৬ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে টেস্ট স্ট্যাটাস বা টেস্ট খেলার মর্যাদা লাভ করে বাংলাদেশ। ক্রিকেটের এই বনেদি সংস্করণে পা রাখার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাতটি টেস্ট খেলেছে টাইগাররা। এর মধ্যে বাংলাদেশের মাটিতে চারটি ও অস্ট্রেলিয়ায় তিনটি টেস্ট। যার মধ্যে মাত্র দু’টি টেস্টে জয় পেয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তরা। প্রথম জয়টি ছিল ২০১৭ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে মুশফিকুর রহীমের নেতৃত্বে। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। আর দ্বিতীয় টেস্ট জয় ডারউইনে, যেখানে অসিদের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলেছিল খালেদ মাহমুদ সুজনের নেতৃত্বাধীন দল। এবার অস্ট্রেলিয়াকে টেস্ট সিরিজে হারানোর সুযোগ বাংলাদেশের সামনে।
প্রথম টেস্টের ফল যে শুধু একটি জয়, তা কিন্তু নয়; অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে সেটি ছিল বড় ধাক্কাও। ডারউইনে বাংলাদেশ পুরো ম্যাচজুড়েই আধিপত্য দেখিয়েছে। প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দেয়ার পর বাংলাদেশ করেছে ৪২৬ রান। তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের কার্যকর ৬৫ রানের ইনিংসে বড় লিড পায় সফরকারীরা। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরি অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা লড়াইয়ের সুযোগ দিলেও মিরাজের পাঁচ উইকেটের সামনে শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানেই থামে স্বাগতিকরা। ৫৭ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশ পেরিয়ে যায় মাত্র এক উইকেট হারিয়ে।
বাংলাদেশের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল পেসার হাসান মাহমুদের। দুই ইনিংস মিলে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো পেসারের এমন কার্যকর পারফরম্যান্স দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যাটে-বলে অবদান রেখে আবার প্রমাণ করেছেন মিরাজও, টেস্ট ক্রিকেটে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ-উইনার। ম্যাকাইয়ে পেস আক্রমণে বাড়তি শক্তি হতে পারে চোট কাটিয়ে ফেরা শরিফুল ইসলামও।
তবে প্রথম টেস্টের সাফল্যকে পেছনে ফেলে নতুন করে শুরু করতে হবে বাংলাদেশকে। কারণ এবার অস্ট্রেলিয়া থাকবে ঘুরে দাঁড়ানোর তীব্র প্রত্যয় নিয়ে। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতার পর স্বাগতিক দলে পরিবর্তন এসেছে। ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে বাদ দিয়ে দলে ফিরেছেন ম্যাট রেনশ। শেফিল্ড শিল্ডে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর তিন বছরের বেশি সময় পর টেস্ট দলে ফিরছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের দিকে তাই বিশেষ নজর থাকবে। স্টিভ স্মিথ, মার্নাস লাবুশেন, ক্যামেরন গ্রিনদের মতো ব্যাটারদের কাছ থেকে বড় রান প্রত্যাশা করবে দলটি। বোলিংয়েও অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ছিল নানা আলোচনা। নাথান লায়ন প্রথম টেস্টে প্রত্যাশামতো সফল হতে পারেননি। তাকে বাদ দিয়ে চার পেসার খেলানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত লায়নকে রাখা হয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়া তাদের আক্রমণে বড় পরিবর্তনের পথে যায়নি।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি হবে আত্মবিশ্বাস। তবে সেই আত্মবিশ্বাস যেন অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিতে পরিণত না হয়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কোচ ফিল সিমন্সও সতর্ক করে দিয়েছেন, প্রথম টেস্টের পর অস্ট্রেলিয়া আরো শক্তভাবে ফিরে আসবে। তাই আগের ম্যাচের মতোই ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্রিকেট খেলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বাংলাদেশকে।