নারী ফুটবলে ছন্দপতন

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

হঠাৎই ছন্দপতন বাংলাদেশের নারী ফুটবলে। সাফের শিরোপা হারিয়েছে ভারতের কাছে ফাইনালে হেরে। এরপর অনূর্ধ্ব-১৯ সাফের ফাইনালে ভারতের কাছে ০-৪ গোলে হার। আর সর্বশেষ নারী এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা দুই ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশের ক্লাব রাজশাহী স্টারস। প্রথম ম্যাচে ভারতের ইস্টবেঙ্গলের কাছে ০-৪ গোলে হারের পর গত পরশু দ্বিতীয় ম্যাচে মালয়েশিয়ার সাবাহ ক্লাবের কাছে ১-২ গোলে হার। ২ গোলে পিছিয়ে থাকার পর ৮৮ মিনিটে স্ট্রাইকার সুলতানা সমতা আনেন। রাজশাহী স্টারস বলতে গেলে পুরোপুরি জাতীয় দল। এই দলের কোচও বাংলাদেশ সিনিয়র জাতীয় দলের সাবেক কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন। কিন্তু এরপরও দলটি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন আর হতে পারলো না। টানা দুই ম্যাচে হেরে বিদায়। ফলে এখন আগামীকাল মারিয়া মান্ডাদের খেলতে হবে গুয়ামের রোভার্সের বিপক্ষে। নিয়মরক্ষর সেই ম্যাচে জিতলে পারলে এএফসি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম জয়ের দেখা পাবে বাংলাদেশের কোনো ক্লাব।

নারী ফুটবলে ধাক্কাটা শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালেই। যখন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দল ভিয়েতনামের মাঠে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলের বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে কোনো ম্যাচেই জিততে পারেনি। আগেরবার যে ফিলিপাইনকে মিয়ানমারের মাটিতে ১০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ সেই ফিলিপাইনারে কাছে তারা ১-৩ গোলে হারে। ফলে টানা দুইবার এশিয়ার সেরা ৮ এ থাকা বাংলাদেশ দল ২০২৩ সালে চূড়ান্ত পর্বেই উঠতে পারেনি। তখন কোচ ছিলেন মাহাবুবুর রহমান লিটু। সেই ধারা গত বছরও অব্যাহত ছিল। জর্র্দানের মাঠে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবলের বাছাই পর্বে সাইফুল বারী টিটুর দল কোনো ম্যাচেই জিততে পারেনি। এতে করে নারী ফুটবলে একই সিজনে টানা তিনটি এএফসির আসরের ফাইনাল রাউন্ডে ওঠা হয়নি।

পরবর্তীতে অনূর্ধ্ব-২০ দল ও সিনিয়র জাতীয় দলও এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে এবং সিনিয়র নারী দল নারী এশিয়ান কাপের ফাইনাল রাউন্ডে ভালো ভালো করতে পারেনি।

এরপর কোচ পিটার বাটলারের বাড়াবাড়ির কারণে সাফ নারী ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্যর্থ হয়েছিল নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি। বাটলার জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নারসিন স্পোর্টস একাডেমিতে ছাড়া নিয়ে নাটক করেছেন। এরপর নিজেও সাফে বাংলাদেশের শিরোপা ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। যদিও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিমাতাসুলভ আচরন বেশ ভুগিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে।

সবশেষ আশা ছিল রাজশাহী স্টারসকে ঘিরে। এক নেপালি এবং বাংলাদেশ দলের প্রায় পুরো সেট নিয়ে মালয়েশিয়ার সাবাহতে গিয়েছিল লিগ চ্যাম্পিয়ন দলটি। যাওয়ার আগে কোচ ছোটন জানিয়েছিলেন, তারা জয়ের জন্যই যাচ্ছেন মালয়েশিয়ায়। কারণ প্রতিপক্ষ ভারতের ইস্টবেঙ্গল, মালয়েশিয়ার সাবাহ এবং গুয়ামের রোভার্স হলো প্রতিপক্ষ। কিন্তু বিদেশী খেলোয়াড় এবং প্রবাসী খেলোয়াড় নিয়ে রাজশাহীতে আর পাত্তাই দেয়নি ইস্টবেঙ্গল ও সাবাহ। ইস্টবেঙ্গলের নাইজেরিয়ান ফুটবলার এবং সাবাহ এর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী খেলোয়াড় গড়ে দেয় পার্থক্য। পরশু রাজশাহী স্টারসের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন সাবাহর যুক্তরাষ্ট্্র প্রবাসী ফরোয়ার্ড এলিজে হাকিমা।

রাজশাহী স্টারসের ম্যানেজার মুশফিকুর রহমান মালয়েশিয়া থেকে জানান, প্রথম ম্যাচে ভ্রমন ক্লান্তি বেশ ভুগিয়েছে। কারণ লম্বা ভ্রমণ শেষে ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর হয়ে সাবাহতে আসতে হয়েছিল। পরের ম্যাচে ১৬ মিনিটে তহুরা খাতুনের করা গোল রেফারি অন্যায়ভাবে বাতিল করে দিয়ে ফুটবলাররা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এরপরও দুই গোলে পিছিয়ে ৮৮ মিনিটে সুলতানা এক গোল করে। শেষ সময়ে তিনি আরেকটি গোল মিস করলে আর হার এড়ানো সম্ভব হয়নি। মুশফিক আরো জানান, আমাদের আরো বিদেশী ফুটবলার নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু সময় স্বল্পতায় তা পারিনি। এখন শেষ ম্যাচে রোভার্সকে হারিয়ে এই আসরে প্রথম জয়ের দেখা পেতে চাই।

উল্লেখ্য, গুয়ামের রোভার্সকে সাবাহ ১৩-০তে এবং ইস্টবেঙ্গল ১২-০তে হারিয়েছিল।