৩৪ বছরে ম্যাকাইয়ে মাত্র তিন ম্যাচ
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ইতিহাস বলছে, ম্যাকয়ে এমন এক ক্রিকেট ভেনু যেখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চেয়ে অপেক্ষার গল্পই বেশি। বিশ্বকাপের দুই বলের ম্যাচ থেকে শুরু করে ওয়ানডে, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট- সব মিলিয়ে পথচলা খুব বেশি দীর্ঘ নয়। এবার সেই ইতিহাসে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট ক্রিকেট।
ডারউইনে ৯ উইকেটের জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ ম্যাকয়তে নামবে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে। অন্য দিকে ঘরের মাঠে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া অস্ট্রেলিয়া। ফলে অপেক্ষাকৃত অচেনা এই ভেনুতেই এবার দুই দলের লড়াই পেতে যাচ্ছে নতুন এক ঐতিহাসিক মাত্রা!
অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকয় শহরের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা এবার অপেক্ষা করছে বড় এক টেস্ট ক্রিকেটের জন্য। আজ এই মাঠেই সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। অথচ যে মাঠে হতে যাচ্ছে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি টেস্ট, সেই ভেনুতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা বলতে গেলে হাতেগোনা। ৩৪ বছরে এখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছে মাত্র তিনটি, যার একটি আবার শেষ হয়েছে মাত্র দুই বলেই!
১৯৯২ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পেয়েছিল ম্যাকয় ভেনু। কিন্তু অভিষেকটা মোটেও সুখকর ছিল না। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি মাত্র দুই বলের পরই পরিত্যক্ত হয়। ম্যাচটি ২০ ওভারে নামিয়ে আনা হলেও আবহাওয়ার কাছে হার মানতে হয় ক্রিকেটকে। তাই আন্তর্জাতিক ম্যাচের পরিসংখ্যানে সেটি থাকলেও পূর্ণাঙ্গ ম্যাচের হিসাব করলে ম্যাকয়তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়েছে মাত্র দু’টি। আর সেই দুই ম্যাচও টেস্ট বা টি-২০ নয়, দু’টিই ওয়ানডে। গত বছরের অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে এই মাঠে দু’টি ওয়ানডে হয়েছিল। ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন টেস্টই হতে যাচ্ছে ভেনুটির ক্রিকেট ইতিহাসে একেবারে ভিন্ন মাত্রার সংযোজন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে ঘরোয়া ক্রিকেটের হিসেবেও ম্যাকয় খুব বেশি ব্যস্ত মাঠ নয়। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় এখন পর্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট হয়েছে ২০টি ম্যাচ। এর মধ্যে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ ১২টি এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ পাঁচটি। এই মাঠে টি-২০ ম্যাচ হয়টি একটিও।
লাল বলের ক্রিকেটের সাথে ম্যাকয়ের সম্পর্কও বেশ বিচ্ছিন্ন। ১৯৯৫ সালের নভেম্বরে কুইন্সল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচ দিয়ে এখানে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের শুরু। তখন মাঠটির নাম ছিল হ্যারাপ পার্ক। এরপর দ্বিতীয় প্রথম শ্রেণীর ম্যাচের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় দুই দশক। ২০১৫ সালের শেফিল্ড শিল্ডে কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসের ম্যাচ দিয়ে আবার এখানে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট ফিরেছিল।
এর পরও নিয়মিত হয়ে ওঠেনি লাল বলের ক্রিকেট। ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’-নিউজিল্যান্ড ‘এ’ এবং কুইন্সল্যান্ড-ভিক্টোরিয়ার দু’টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ হয়েছিল। ২০২৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে সর্বশেষ প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ‘এ’-কে ৭ উইকেটে হারায় ভারত ‘এ’; অর্থাৎ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্টের আগে এই মাঠে সর্বশেষ লাল বলের লড়াইয়ের সাক্ষী ছিল ভারত ‘এ’ ও নিউজিল্যান্ড ‘এ’।
সাদা বলের ক্রিকেটে অবশ্য ম্যাকয়ের পথচলা আরো পুরনো। ১৯৮৮ সালে কুইন্সল্যান্ড ও পাকিস্তানি দলের ম্যাচ দিয়ে এখানে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের শুরু। দুই দলের দু’টি ম্যাচের একটিতে জয় পেয়েছিল কুইন্সল্যান্ড, অন্যটিতে পাকিস্তানিজ দল।
২০২৩ সালে ভিক্টোরিয়া ও কুইন্সল্যান্ডের লড়াইও হয়েছিল এই মাঠে। সেই ম্যাচে কুইন্সল্যান্ডকে ১৯ রানে হারিয়েছিল ভিক্টোরিয়া। এরপর গত বছরের অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে দু’টি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হয়, যেগুলোও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্ত।