সংক্ষিপ্ত সংবাদ
Printed Edition
ইটিপি ট্যাংকে নেমে ২ শ্রমিকের মৃত্যু
ময়মনসিংহের ভালুকায় সিরামিক্স কারখানার নির্মাণাধীন ইটিপি (ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) ট্যাংকে কাজ করতে নেমে অক্সিজেনের ঘাটতিতে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও বড়চালা এলাকায় অবস্থিত এক্সিল্যান্ড সিরামিক্স গ্রুপে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- খুলনার কয়রা উপজেলার নক্সা-আমাদী গ্রামের ফারুক গাজীর ছেলে মেকানিক্যাল ওয়েল্ডার শফিকুল ইসলাম এবং নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার বল্লী গ্রামের কুহিল মিয়ার ছেলে রুমেল। সহকর্মীদের দাবি, সকাল পৌনে ১০টার দিকে রুমেল ইটিপি ট্যাংকে নামার পর অক্সিজেনের স্বল্পতায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধারে শফিকুল ইসলাম ট্যাংকে নামলে তিনিও অচেতন হয়ে যান। পরে অন্য শ্রমিকরা মই ব্যবহার করে দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ময়মনসিংহ অফিস ও ভালুকা সংবাদদাতা।
ঢেউটিন বিতরণ হুইপ দুলুর
নাটোরের নলডাঙ্গায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড, ক্ষুদ্রঋণের চেক এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলার ৪৬ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ৩৩ জন উপকারভোগীর হাতে মোট ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকার ক্ষুদ্রঋণের চেক তুলে দেয়া হয়। এ ছাড়া হুইপের স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে কয়েকজনকে অনুদানের চেক প্রদান করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বরাদ্দের আওতায় অগ্নিকাণ্ড ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার ১৯টি পরিবারের মধ্যে ২৮ বান্ডিল ঢেউটিন এবং মোট ৮৪ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল এমরান খাঁনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিকুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সবুজ আলী, নলডাঙ্গা থানার ওসি নুরে আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। নলডাঙ্গা (নাটোর) সংবাদদাতা।
খালে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ কিশোর
ঝালকাঠির ভিমরুলী এলাকায় খালে গোসল করতে নেমে আমগাছ থেকে ঝাঁপ দিয়ে মো: সানি (১৩) নামে এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে ভিমরুলী বাজারের উত্তর পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ সানি রাজাপুর উপজেলার চর হাইলাকাঠি গ্রামের বাসিন্দা ও মো: সোহেলের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার সকালে রাজাপুর থেকে ১৫ জনের একটি দল ট্রলারে করে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ভিমরুলী এলাকায় আসে। দুপুরে খাবার শেষে তারা ভিমরুলী বাজারসংলগ্ন খালে গোসল করতে নামে। এ সময় সানি খালের পাড়ে থাকা একটি আমগাছ থেকে পানিতে ঝাঁপ দিলে আর ভেসে ওঠেনি। সাথে থাকা ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে খোঁজার চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হলে তাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ঝালকাঠি প্রতিনিধি।
৩০৯ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বৃত্তিপ্রাপ্ত ৩০৯ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে নগদ অর্থ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন। পাকুন্দিয়া কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ সাইদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূঁইয়া, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ শারফুল ইসলাম, পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফছর উদ্দিন আহম্মেদ এবং কিশোরগঞ্জ জেলা পুস্তক বিক্রেতা সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা আব্দুল আহাদ বাচ্চু। সঞ্চালনা করেন চামরাইদ আদর্শ বিদ্যা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠান শেষে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত ১০২ জন শিক্ষার্থীকে এক হাজার টাকা এবং সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিপ্রাপ্ত ২০৭ জনকে ৭০০ টাকা করে নগদ অর্থ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা।
পানছড়ি বাজারে বাড়ছে জনদুর্ভোগ
খাগড়াছড়ির পানছড়ি বাজারে ফুটপাথ দখল করে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল রাখার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীরা। অবৈধ দখলের কারণে অধিকাংশ ফুটপাথই এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার লোগাং সড়কের বিভিন্ন হার্ডওয়্যার ও ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে রড, সিমেন্ট, পানির ড্রামসহ নির্মাণসামগ্রী ফুটপাথজুড়ে রাখা হচ্ছে। একইভাবে পানছড়ি-তবলছড়ি ও পানছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কের ফুটপাথও অস্থায়ী দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনায় দখল হয়ে গেছে। ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন পথচারী জানান, ফুটপাথে হাঁটার সুযোগ না থাকায় তাদের যানবাহনের সাথে একই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। মোটরসাইকেল চালক রবিউল বলেন, ফুটপাথ দখল হয়ে যাওয়ায় সড়ক সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। বড় যানবাহন চলাচলের সময় পাশ কাটাতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। পানছড়ি (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা।
প্রকল্পের বেশির ভাগের হদিস নেই
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়া প্রায় ৮৫ লাখ টাকার ৪৩টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ প্রকল্পের কোনো দৃশ্যমান কাজই হয়নি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মসজিদ, গোরস্থান ও মন্দির উন্নয়নের জন্য গত জুন মাসে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পগুলোর তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জাকির হোসেন। সম্প্রতি সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের একাধিক প্রকল্প এলাকা ঘুরে উন্নয়নকাজের কোনো দৃশ্যমান আলামত পাওয়া যায়নি। অনেক স্থানে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদেরও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পিআইও জাকির হোসেন বলেন, প্রায় ৮৫ লাখ টাকার বিপরীতে ৪৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিগুলো সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য গঠন করেছেন এবং তাকে তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা।
কাপ্তাই বাঁধের পানি নিষ্কাশন শুরু
কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় গতকাল শনিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি খুলে দেয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৪ দশমিক ০৮ ফুট এমএসএলে পৌঁছায়। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় পানি নিয়ন্ত্রণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিট থেকে গড়ে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি টারবাইনের মাধ্যমে নিষ্কাশন করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে পর্যায়ক্রমে আরো জলকপাট খুলে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে। নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জলকপাট দিয়ে পানি ছাড়ার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসন, কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা।