ইয়ামাল ইস্যুতে হো হো করে হাসলেন মেসি
Printed Edition
রফিকুল হায়দার ফরহাদ - যুক্তরাষ্ট্র থেকে
ক্রীড়া প্রতিবেদক যুক্তরাষ্ট্র থেকে
ফাইনালের আগে সাধারণ দর্শকদের বিশ্বকাপ ট্রফি দেখার সুযোগ করে দেয়া। সাথে স্পেন ও আর্জেন্টিনার কোচ ও অধিনায়কদের। নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের হার্ডসন নদীর তীরে জাভিটস সেন্টারে এই আয়োজন। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি আসবেন মেসিকে নিয়ে আর স্পেনের কোচ ডে লা ফুয়েন্তে ও ক্যাপ্টেন রদ্রি। আগে থেকেই এই তথ্য জানা ছিল জাভিটস সেন্টারে নিয়মিত যাতায়াত করা ফুটবল প্রেমীদের। তাই তাদের ভিড় সেই জাভিটস সেন্টারের এক অংশের নিচতলায়। উল্লেখ্য, বিশাল এই জাভিটস সেন্টার। সাড়ে ৬টার পরে সেখানে এসে হাজির স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে এবং অধিনায়ক রদ্রি। একটু পরেই স্কালোনির নেতৃত্বে লিওনেল মেসি ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। অনুষ্ঠানটি আলোকিত করতে আমন্ত্রণ জানানো হয় সার্বিয়ার টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচকে। সাথে ছিলেন আমেরিকান ফুটবলে (হেলমেট পরে রাগবি খেলা) তারকা খেলোয়াড় টম ব্র্যাডি। ইংল্যান্ডের সাবেক বিশ্বকাপ তারকা রিও ফার্দিনান্দও ছিলেন তখন।
ফাইনালে মেসির আজেন্টিনা এবং লামিনে ইয়ামালের স্পেনের লড়াই। এটা নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ২০০৭ সালে ছোট ইয়ামালকে পানির বোলের মধ্যে মেসির গোসল করানোর দৃশ্য। তাই এই অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বিখ্যাত শিশু লামিন ইয়ামালের ছবি নিয়ে লিওনেল মেসিকে জিজ্ঞাসা করলেন টম ব্র্যাডি। ব্র্যাডি ইংলিশে প্রশ্ন করায় মেসি প্রথমে উত্তর দিতে পারেনি। পরে নারী দোভাসী তা স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করে দেন। এরপর জবাব দিতে গিয়ে মেসি প্রথমে হো হো করে হেসে উঠেন। এই ১৯ বছর বয়সী খেলোয়াড়ের প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা স্পষ্টভাবে জানান। তবে সেই সাথে মৃদুভাবে এটাও মনে করিয়ে দেন যে, আর্জেন্টিনা কিন্তু সহজে মাঠ ছেড়ে দেবে না।
ফিফা ও ফ্যানাটিকসের বিশ্বকাপ বিষয়ক এক আয়োজনে মেসি বলেন, ‘মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা একজন খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। তার সামনে পড়ে আছে পুরো ক্যারিয়ার এবং ঐতিহাসিক কিছু অর্জনের দারুণ সুযোগ।’
‘আমি সবসময়ই তার মঙ্গল কামনা করি এবং তার ভালোটাই চাই। আমরা একটি দুর্দান্ত ম্যাচ খেলার চেষ্টা করব এবং তাকে তার সেরাটা প্রদর্শন করা থেকে আটকানোর চেষ্টা করব। যদিও কাজটা অত্যন্ত কঠিন।’ এরপর মেসি মনে করিয়ে দেন, ‘স্পেন মানেই কেবল লামিন নয়; তাদের দলে আরো অনেক দুর্দান্ত খেলোয়াড় আছে এবং তারা খুব ভালো খেলে। তবে আমাদেরও নিজস্ব শক্তি ও কৌশল রয়েছে।’
বিখ্যাত ছবিটি তোলা হয়েছিল ২০০৭ সালে; তখন ইয়ামাল ছিল মাত্র কয়েক মাস বয়সী শিশু আর বার্সেলোনায় মেসির উত্থানপর্ব সবেমাত্র শুরু হয়েছিল। ২০২৪ সালে ছবিটি আবার আলোচনায় আসে, যখন ইয়ামালের বাবা এটিকে ‘দুই কিংবদন্তির যাত্রা শুরু’ হিসেবে অভিহিত করেন।
এখন একজন টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতে নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ইতি টানার দ্বারপ্রান্তে আছেন। অন্যজনের প্রথম বিশ্বকাপ। তার সামনে সুযোগ রয়েছে মেসিকে সিংহাসনচ্যুত করার এবং ফুটবলের অন্যতম অবিশ্বাস্য এক বৃত্ত-পূরণের গল্পের নায়ক হওয়ার।
পরিসংখ্যানের বিচারে, এই টুর্নামেন্টটি মেসিরই। সাতটি ম্যাচে তিনি আটটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন; এর ফলে বিশ্বকাপে তার ক্যারিয়ারের মোট পরিসংখ্যান দাঁড়িয়েছে ৩৩ ম্যাচে ২১ গোল ও ১২ অ্যাসিস্টে।
ইয়ামালের প্রথম বিশ্বকাপটি অবশ্য পরিসংখ্যানের দিক থেকে কিছুটা ম্লান- সাতটি ম্যাচে তিনি একটি গোল করেছেন এবং কোনো অ্যাসিস্ট নেই। তবুও মাঠের খেলায় তার প্রভাব ওই সংখ্যার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের সেমিফাইনাল জয়ের পথে যে পেনাল্টিটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, তা তিনিই আদায় করেছিলেন। এ ছাড়া প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের মনোযোগ সবসময় নিজের দিকে টেনে নিয়ে তিনি সতীর্থদের জন্য নিয়মিতই গোল করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ জানান, আমরা গতবার বিশ্বকাপ জিতেছি। এবারো আমরা তা জিততে চাই।