ম্যারাডোনা পারেননি পারবেন তো মেসি
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক যুক্তরাষ্ট্র থেকে
দিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা। আর্জেন্টিনাকে বলতে গেলে ওয়ান ম্যান শো হিসেবেই ১৯৮৬ সালে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছিলেন বিশ্বকাপে। এরপর লিওনেল মেসি ২০২২ সালে সেই বিশ্বকাপ ট্রফি পুনরুদ্ধার করে দেন। লিওনেল মেসি টানা তিন বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে যাচ্ছেন। সেখানে ম্যারাডোনা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে আজেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৮৬ সালে সফল অধিনায়ক মারাডোনা ১৯৯০ বিশ্বকাপে ব্যর্থ ছিলেন। পারেননি দলকে চ্যাম্পিয়ন করাতে। ডোপ টেস্টে পজিটিভ না হলে হয়তো ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালেও খেলতেন ম্যারাডোনা। মেসিও দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে দলের নেতৃত্ব দিয়ে ব্যর্থ হন ২০১৪ সালে। ২০২০ সালে মারা যাওয়া ম্যারাডোনা প্রথমত, টানা দুই বিশ্বকাপে দলকে চ্যাম্পিয়ন করাতে পারেননি। দ্বিতীয়ত তিনি এই যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে ১৯৯৪ এর বিশ্বকাপে ব্যর্থ। এখন মেসি কি পারবেন ম্যারাডোনার ব্যর্থতাকে টপকে নিজে সফল হতে। যদি মেসিরা সফল হন, তাহলে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দুই বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব হবে। সে সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয় করা।
২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক লিওনেল মেসির। এরপর টানা ছয় বিশ্বকাপে খেলা। শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে কোনো গোল করতে পারেননি তিনি। বাকি সব বিশ্বকাপেই তার গোল। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর ২০১৮ সালে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নিলেও এরপর তাদের ছুটে চলা। কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের ফাইনালের আগ পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ দুই হাত ভরে দিয়েছে মেসিকে। একের পর এক রেকর্ড গড়া হচ্ছে তার। তবে এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ। এই শেষ বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচটি কি মেসির শিরোপা উৎসবের মাধ্যমে হবে, নাকি হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নিজের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম হ্যাটট্রিক আদায় করেন মেসি। বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলদাতা হওয়া, সবচেয়ে বেশি গোলের অ্যাসিস্ট সব রেকর্ডই তার দখলে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিস করা এসব রেকর্ডও তার। এই ইতিবাচক ও নেতিবাচক অর্জন সে সবগুলোই আড়ালে চলে যাবে যদি মেসি গতবারের মতো ট্রফিতে হাত না উঠান।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ব্যর্থ হয়ে বিদায় নিয়েছেন বিশ্বকাপ থেকে। নেইমারও বাড়ি ফিরে গেছেন কখনোই ট্রফি জিততে না পেরে। কিলিয়ান এমবাপ্পেও এবার ফাইনালে দলকে নিতে পারেননি। হ্যারি কেন, জুড বেলিংহামও ছিটকে গেছেন। এই প্রতিষ্ঠিত তারকাদের মধ্যে এখন শুধু টিকে আছেন মেসিই। তিনিও যদি ব্যর্থ হন তাহলে সব সিনিয়র ফুটবলাদের জন্য বিষয়টি হবে চরম হতাশার।
১৯৯০-এর বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা কোনো গোল করতে পারেননি। তার দলই পশ্চিম জার্মানির কাছে ০-১ গোলে হেরেছিল ফাইনালে। মেসির আর্জেন্টিনাও ২০১৪ সালে ফাইনালে ০-১ গোলে হেরেছিল জার্মানির কাছে।
আর্জেন্টিনা যদি চ্যাম্পিয়ন হয় তাহলে তা মেসির বিদায়কে সুখকর করবে। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালের ইতালি এবং ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের মতো টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন হবে আর্জেন্টিনা। তবে মেসির মতো এত বড় তারকা ট্রফি হাতে বিদায় নিক এটাই সবাই চাইবে। এত বছরের এত অর্জন, বেশ খানিকটাও ম্লান হয়ে যাবে যদি মেসির আজেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন না হয়।