বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চ মেটলাইফ স্টেডিয়াম

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের নাটকীয় ম্যাচ ও স্মরণীয় মুহূর্তের পাশাপাশি এবারের আসরে আলোচনায় রয়েছে বিভিন্ন ভেনুর অভিজ্ঞতাও। মেক্সিকোর ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম, লস অ্যাঞ্জেলেসের আধুনিক সোফাই স্টেডিয়াম কিংবা ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে বিশ্বকাপ ফাইনালের আয়োজক নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম শুরু থেকেই নানা সমালোচনার মুখে পড়েছে।

নিউ ইয়র্ক সিটির অদূরে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামের নকশা, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং মাঠের ঘাসের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমর্থক, সাবেক খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকদের অনেকে। ফলে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য এটি আদৌ উপযুক্ত ভেন্যু কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে।

২০১০ সালে উদ্বোধনের পর থেকেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। নিউ জার্সির ক্রীড়া সাংবাদিক স্টিভ পলিটি বলেন, অনেকের কাছে স্টেডিয়ামটি প্রাণহীন ও সাধারণ একটি স্থাপনা। ১৬০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই ভেনুতে ৮২ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতা, ২০০টি বিলাসবহুল স্যুট এবং আধুনিক আলোকসজ্জার ব্যবস্থা থাকলেও এর নকশা নিয়ে সমালোচনা থামেনি।

স্টেডিয়ামটি নিউ ইয়র্ক শহরের বাইরে নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অবস্থিত। চার পাশে মহাসড়ক থাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া যাতায়াত কিছুটা কঠিন। রাইডশেয়ার ব্যবহারকারীরা যানজটে পড়লেও ট্রেন ও শাটল ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা তুলনামূলক ভালো ছিল। তবে অনেক দর্শক পরিবহন খরচ এবং খাবারের উচ্চমূল্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

অন্য দিকে ফিফার কাছে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর অবস্থান। নিউ ইয়র্ক বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণমাধ্যম, ব্যবসা ও বিনোদন কেন্দ্র হওয়ায় বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য এটি বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি আয়োজক কমিটির প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স ল্যাসরি বলেন, শুধু স্টেডিয়ামের দর্শকই নয়, পুরো অঞ্চলে হাজারো সমর্থকের অংশগ্রহণে এটি একটি বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হবে।