শেষ ১৫ মিনিটে জ্বলে ওঠা আর্জেন্টিনা

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিশ্বকাপ ফুটবলের চলমান আসরের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচ। ল্যাটিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ড। ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেদের শেষ মুহূর্তের মহাকাব্য। আটালান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে এক চরম নাটকীয়তার সাক্ষী হয় ফুটবল বিশ্ব। অ্যান্থনি গর্ডনের করা ৫৫ মিনিটের গোলকে পুঁজি করে ফাইনাল মঞ্চের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ ১৫ মিনিটের নাটকীয়তায় এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের গোলের সুবাদে ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ফাইনালে পা রাখে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

গ্রুপ পর্ব থেকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচে ম্যাচের শেষ ১০-১৫ মিনিটে আলবিসেলেস্তেদের আক্রমণাত্মক ফুটবল ও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে। থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে সেমিফাইনালের ম্যাচে প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ৫৫ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের যখন আর মাত্র ১৫ মিনিট বাকি, তখন দলের রক্ষণাত্মক কৌশলে পরিবর্তন আনেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের দর্শনীয় গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই ৯০+২ মিনিটে লিওনেল মেসির অ্যাসিস্ট থেকে হেডে গোল করে স্টেডিয়ামে উন্মাদনা ছড়িয়ে দেন লাউতারো মার্টিনেজ। চলমান বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়েও শেষ মুহূর্তে ঝলক দেখায় স্কালোনির শিষ্যরা। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতার পর ১১২ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজ বক্সের বাইরে থেকে এক দুর্দান্ত শটে দলের জয়সূচক গোলটি করেন। এরপর ১২১ মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজ সুইসদের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে ৩-১ গোলের জয় ও সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেন।

মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচেও অবিশ্বাস্য কামব্যাক করেছিল আর্জেন্টিনা। রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচটিতে পিছিয়ে থেকে জয়ের এক অনন্য নজির গড়ে মেসিবাহিনী। ৭৮ মিনিটের পর্যন্ত মিসর ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। সেখান থেকে শেষ ১০ মিনিটে নিখুঁত পাসিং ও আক্রমণ শানিয়ে ম্যাচের ৭৯ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, ৮৩ মিনিটে মেসি এবং ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্নান্দেজ গোল করে ৩-২ ব্যবধানের এক ঐতিহাসিক জয় তুলে নেন। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতেও শেষ অংশে নিজেদের সেরা আক্রমণগুলো তুলে ধরেছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ ‘জে’-তে অস্ট্রিয়া ও জর্দানের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে একাধিক আক্রমণ থেকে গোল আদায় করে নিয়েছিল তারা। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে শেষ মুহূর্তের এই গোল করার সক্ষমতা প্রতিপক্ষের জন্য আরো বেশি ভয়ঙ্কর করে তুলেছে আর্জেন্টিনাকে।