ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে সরকারি দফতরে ‘চাঁদাবাজি’, আতঙ্কে কর্মকর্তারা
Printed Edition
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ, অনুমোদনহীন ইউটিউব চ্যানেল ও ভুয়া অনলাইন পোর্টালের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সরকারি দফতরে গিয়ে অনৈতিক সুবিধা আদায় ও কর্মকর্তাদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। দাবি পূরণ না হলে অসত্য সংবাদ প্রচারের হুমকি দেয়ায় চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন রাজউক, ভূমি অফিস ও গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (গাউক) কর্মচারীরা। বিশেষ করে উত্তরা, টঙ্গী ও গাজীপুর এলাকার সরকারি অফিসগুলোতে চক্রটির আনাগোনা ও দৌরাত্ম্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনৈতিক তদবির ও নগদ অর্থের দাবি প্রত্যাখ্যান করলে ফেসবুক ও কথিত অনলাইন মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উত্তরা জোন-১-এর অথরাইজড অফিসার পলাশ শিকদারকে ঘিরেও অনুরূপ ভিত্তিহীন প্রচারণা চালানো অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি জানান, দালালচক্র ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এবং অনৈতিক সুবিধা না দেয়ায় একটি মহল তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।
পলাশ শিকদার বলেন, ‘এ সবে আমি ভয় পাই না। তদন্ত হলে ভিত্তিহীন অভিযোগের সত্য-মিথ্যা বেরিয়ে আসবে। কিন্তু আমার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ সামাজিক সম্মান নিয়ে। মিথ্যা কথা বার বার প্রচারিত হলে সাধারণ মানুষ তা বিশ্বাস করতে শুরু করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে একজন কর্মকর্তার ভাবমূর্তি পুরোপুরি ক্ষুণœ করে।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, পেশাগত পদবি ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও হুমকি দিলে কেবল কর্মকর্তার ব্যক্তিগত হয়রানি হয় না, সরকারি দফতরে কাজের পরিবেশও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া যেমন জরুরি তেমনি গণমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই নিশ্চিত করা দরকার।
এ দিকে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানির এ তৎপরতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল কবীর ভূঁইয়া। এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মহান এ পেশাকে ব্যবহার করে কেউ অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালালে তার দায় পুরো সংবাদমাধ্যমের ওপর পড়ে না। ভুয়া সাংবাদিক ও অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে পেশাদার সাংবাদিকদেরই সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে সংবাদ পরিবেশনের আগে তথ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নিশ্চিত করা অপরিহার্য। পাশাপাশি প্রেস ক্লাব, সাংবাদিক সংগঠন ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার ওপর জোর দেন তিনি।