ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর বার্তা দিতেই গোপনে মস্কো সফর সিআইএ প্রধানের

Printed Edition

নিউ ইয়র্ক টাইমস

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতেই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ গোপনে মস্কো সফর করেছেন। রাশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অর্থনীতির অবস্থা আরো খারাপ হওয়ার আগেই ইউক্রেনের সাথে সমঝোতায় যেতে মস্কোকে রাজি করানোই ছিল তার সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা।

মস্কোতে র‌্যাটক্লিফ সরাসরি বৈঠক করেন রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবির প্রধান আলেকজান্ডার ভি বোর্তনিকভের সাথে। বৈঠকে তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি কঠোর ও হতাশাজনক মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তবে র‌্যাটক্লিফ রাশিয়াকে কোনো হুমকি দেননি। তিনি বলেননি, প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন তার মূল্যায়ন উপেক্ষা করে যুদ্ধ চালিয়ে গেলে রাশিয়াকে কী ধরনের পরিণতি ভোগ করতে হবে।

সিআইএর বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন করে আসছেন, পুতিনের উপদেষ্টারা যুদ্ধের প্রকৃত গতিপথ এবং রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাকে সঠিক ও সৎ তথ্য দিচ্ছেন কি না। সিআইএর সাথে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যোগাযোগের পুরনো চ্যানেল রয়েছে। এফএসবি ছাড়াও রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা এসভিআরের সাথে সিআইএর যোগাযোগ রয়েছে।

রাশিয়ার অনিবার্য বিজয়ের ধারণা বদলাচ্ছে

গত বছরের বড় একটি সময়জুড়ে ট্রাম্প এবং তার কয়েকজন শীর্ষ উপদেষ্টার মধ্যে এমন ধারণা ছিল যে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রের বিজয় প্রায় অনিবার্য। এর পেছনে রাশিয়ার বড় জনসংখ্যা এবং দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে রাশিয়া ব্যাপক সেনা হারিয়েছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের অগ্রগতিও থেমে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে র‌্যাটক্লিফ বোর্তনিকভকে বলেন, রাশিয়ার সামরিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা যখন এতটাই কঠিন হয়ে উঠেছে, তখন মস্কোর এখন যুদ্ধ শেষ করার জন্য গুরুতর আলোচনায় বসার সময় এসেছে। তবে র‌্যাটক্লিফের এই সফর যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া বা ইউক্রেনের বিষয়ে তাদের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে কি না, তার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

থেমে থাকা শান্তি আলোচনা আবার চালুর চেষ্টা

র‌্যাটক্লিফের মস্কো সফর ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে থেমে যাওয়া শান্তি আলোচনাকে আবার সক্রিয় করার সর্বশেষ প্রচেষ্টা। ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে ইউক্রেন পূর্বাঞ্চলে নিজেদের লড়াই ছেড়ে দিতে প্রস্তুত নয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা কমে গেলেও ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান ধরে রেখেছে।

ড্রোন যুদ্ধে ইউক্রেনের সক্ষমতা

বোর্তনিকভকে র‌্যাটক্লিফ যে ব্যক্তিগত বার্তা দিয়েছেন, তাতে তার প্রকাশ্য বক্তব্যেরও প্রতিফলন ছিল। গত মাসে র‌্যাটক্লিফ প্রকাশ্যে রাশিয়ার সেনা নিহত হওয়ার সংখ্যা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে মস্কোর অগ্রগতির অক্ষমতা নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ইউক্রেনের সম্মুখসারিতে থাকা একজন রুশ সেনার গড় আয়ু ৩৫ মিনিটেরও কম।