জবির নতুন ক্যাম্পাসে বালু ভরাটে ক্ষতিপূরণ বঞ্চিত জমি মালিকদের মানববন্ধন

Printed Edition

ঢাকা জেলা প্রতিনিধি

ঢাকার কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমি ও স্থাপনার ক্ষতিপূরণ না দিয়ে বালু ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ঘোষকান্দা এলাকায় মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা। ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পশ্চিমদী মৌজায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য সরকার মোট ২০০ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৮৮.৬০ একর এবং ২০২৩ সালে অবশিষ্ট ১১.৪০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অধিগ্রহণকৃত জমির বড় অংশ পশ্চিমদী মৌজার ঘোষকান্দা গ্রামের বাসিন্দাদের মালিকানাধীন।

ঘোষকান্দা গ্রামের বাসিন্দা তারা মিয়া জানান, তার ১১ শতাংশ জমির ওপর ‘তারা মিয়া অ্যাগ্রো ফার্ম’ ছিল; কিন্তু ক্ষতিপূরণ ও জমির মূল্য না দিয়ে সেখানে বালু ভরাট করা হচ্ছে। কাজল অ্যাগ্রো ফার্ম ও জান্নাত মুরগি ফার্মের মালিক কালা মিয়া বলেন, তার ২২ শতাংশ জমি অধিগ্রহণকৃত হলেও ক্ষতিপূরণ পাননি, ফলে এখন তিনি অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জামির অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক শাজাহান মিয়া জানান, তার ১৪ শতাংশ জমির ওপর ৩০টি গরু ছিল, যার মধ্যে আটটি চুরি হয়ে গেছে, তবুও স্থাপনার ক্ষতিপূরণ পাননি।

ভুক্তভোগী রওশান আলী বলেন, তার ২০ শতাংশ জমি এবং পাঁচতলা ভবনের ক্ষতিপূরণ এখনো পরিশোধ হয়নি। কেরামত আলী বলেন, তার ছয় শতাংশ জমির ওপর সাততলা ভবন রয়েছে, ‘ভবনের ক্ষতিপূরণ না দিলে আমরা জমি অধিগ্রহণ করতে দেবো না।’

কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার আফতাব আহমেদ জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ভূমি অধিগ্রহণ হয়েছে- এ তথ্য তার জানা আছে। তবে ক্ষতিপূরণবঞ্চনা বা মানববন্ধনের বিষয়ে তিনি অবগত নন। অন্য দিকে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো: আব্দুল হালিম বলেন, ক্ষতিপূরণ না পাওয়া জমির মালিকদের অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা থাকে। যথাযথ কাগজপত্র দাখিল করলে যাচাই-বাছাই শেষে টাকা প্রদান করা হবে। তিনি ক্ষতিপূরণ প্রদানে সাধারণ জনগণ হয়রানির শিকার হচ্ছে- এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।