প্রভাতফেরি : শ্যামল বণিক অঞ্জন
Printed Edition
মায়ের মুখে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শুনে রিদিশার মনে প্রবল আগ্রহের সৃষ্টি হলো এবারের একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরিতে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের।
তাই বাবাকে বলল, আব্বু আমি এবার একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরিতে যাবো তোমার সাথে। মেয়ের এমন আগ্রহ দেখে বাবাও মুগ্ধ হলো! বলল, অবশ্যই যাবে আম্মু।
তোমরা যারা আমাদের আগামী প্রজন্ম ওদের তো অবশ্যই যাওয়া উচিত, সাথে সাথে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামের সঠিক ইতিহাসটা জানাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।
বাবা মেয়ের কথাবার্তার রেশ ধরে রিদিশার আম্মুও বলল, তাহলে এবার আমিও তোমাদের সাথে যাচ্ছি এবারের একুশ ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরিতে!
রিদিশা উচ্ছ্বসিত হয়ে লাফিয়ে উঠল কী মজা, কী মজা বলে!
ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি এলেই প্রতিটি বাঙালির হৃদয় আঙিনায় খেলা করে আনন্দ বেদনার এক দ্বৈত অনুভূতি! একদিকে ভাই হারানোর শোক, আর অপর দিকে স্নেহময়ী মায়ের মুখের ভাষা প্রিয় বাংলা ভাষা ফিরে পাওয়ার আনন্দ।
যার ব্যতিক্রম নয় রিদিশার পরিবারের সদস্যরাও।
কথা মতো তাই রাতে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় আব্বু একগাদা ফুল নিয়ে হাজির হলো ঘরে!
এত সুন্দর রঙবেরঙের ফুল দেখে রিদিশা তো রীতিমতো মুগ্ধ আর বিস্মিত হয়ে গেল!
এত ফুল!
আব্বু বলল, হ্যাঁ আম্মু,এগুলো দিয়ে আমরা রাতে বসে পুষ্পস্তবক তৈরি করব, আর খুব ভোরে চলে যাবো শহীদ মিনারে ওটা অর্পণ করার জন্য।
ঝটপট রিদিশা লেখাপড়া শেষ করে আব্বু আম্মুর সাথে বসে পড়ল পুষ্পস্তবক তৈরির কাজে।
হরেক রকম ফুল দিয়ে ওরা তৈরি করল খুব সুন্দর একটা পুষ্পস্তবক!
আর কথা মতো খুব ভোরে উঠে বের হলো প্রভাতফেরিতে। সবার সাথে কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে গেয়ে উঠল ওরা একুশের সেই মর্মস্পর্শী গান, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কী ভুলিতে পারি!
সবার সাথে ওরা পৌঁছে গেল শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে, জীবনের প্রথম রিদিশা শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে শোকাহত হয়ে গেল।
চোখ দুটো ছলছল করে উঠল যেন আবেগে আপ্লুত হয়ে।