কিয়েভের কাছে রুশ ড্রোন হামলায় নিহত ৩৭
Printed Edition
বিবিসি
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের নিকটবর্তী বুচা এলাকার একটি বাণিজ্যিক গুদামে রাশিয়ার সামরিক ড্রোন হামলায় চার শিশুসহ অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে সংঘটিত এই হামলায় পুরো স্থাপনাটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও ধারাবাহিকভাবে একাধিক তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ওই অঞ্চলের প্রায় ৪০০ বাসিন্দাকে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়।
আঞ্চলিক গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো নিশ্চিত করেছেন, প্রাণহানির পাশাপাশি এই ঘটনায় আরো ৪২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্য দিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, সংশ্লিষ্ট স্থানটিতে দূরপাল্লার ড্রোন নির্মাণের যন্ত্রাংশ ও সামরিক গোলাবারুদের গোপন মজুদ লক্ষ্য করে এই নিখুঁত আক্রমণ চালানো হয়। আবাসিক এলাকার সন্নিকটে কীভাবে এই ধরনের বিপজ্জনক সংবেদনশীল সামগ্রী রাখা সম্ভব হলো, তা খতিয়ে দেখতে তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করেছে কিয়েভ কর্তৃপক্ষ। একই রাতে কিয়েভসহ ওডেসা ও সুমি অঞ্চলে সমন্বিত ড্রোন হামলা পরিচালনা করে রুশ বাহিনী, যাতে এক কিশোরসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হন। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, তারা আকাশসীমা সুরক্ষায় রাতভর প্রতিরোধ গড়ে তুলে রাশিয়ার ২৩৩টি ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট করে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রতিবাদে রাশিয়া সীমান্তের অভ্যন্তরে সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। সীমান্ত এলাকাগুলোতে ইউক্রেনীয় হামলায় দু’জন নিহত এবং ২১ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার একটি শীর্ষস্থানীয় অনলাইন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ভূত সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে আকাশসীমা প্রতিরক্ষায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ ও রাশিয়ার ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে বিশ্বনেতাদের প্রতি পুনর্নবীকৃত তাগিদ দিয়েছে কিয়েভ।
ইউক্রেনে প্রতি মাসে ৬ হাজার সেনা হারাচ্ছে রাশিয়া
দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনী প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ছয় হাজার সেনা হারিয়ে ব্যাপক ঘাটতির মুখে পড়েছে। একজন প্রভাবশালী পশ্চিমা কর্মকর্তার বরাতে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী রুশ বাহিনীতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার নতুন সদস্য যুক্ত হচ্ছে, যা মাসে দাঁড়ায় গড়ে ৩০ থেকে ৩১ হাজারে। তবে বিপরীত দিকে যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন ফ্রন্টে তাদের প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩৬ হাজার সেনা প্রাণ হারাচ্ছে বা আহত হচ্ছে। ফলে সব মিলিয়ে মাসে তাদের ছয় হাজার সেনা জোয়ান কম পড়ছে। সৈন্যবাহিনীর এই টানা ঘাটতির দরুন ক্রেমলিন ও প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন চরম মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বলে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন। তিনি জানান, যুদ্ধের ফ্রন্টে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে পর্যাপ্ত সেনা জোগাড় করতে না পেরে ইউক্রেনের সাধারণ নাগরিক ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে মূল লক্ষ্যবস্তু বানানোর পথ বেছে নিয়েছে মস্কো। তথ্যমতে, জুলাইয়ের গোড়া থেকেই কিয়েভের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে ৩৬০টিরও বেশি মিসাইল ছুড়েছে রাশিয়া। পুতিন মূলত আসন্ন শীতকালে ইউক্রেনের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিকল করে দিয়ে কিয়েভের প্রতিরোধ করার নৈতিক মনোবল ভেঙে দেয়ার কৌশল নিয়েছেন।