মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় প্রতিবেশীদের সতর্ক থাকার আহ্বান ইরানের

Printed Edition

আলজাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পাল্টা চাপ সামলাতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সুনির্দিষ্ট সহযোগিতা চেয়েছে ইরান। তেহরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজায়ি সম্ভাব্য যুদ্ধকে ‘ভিন্ন মাত্রার’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়ার পর, তার এ বক্তব্যের কৌশলগত বিশ্লেষণ দিয়েছেন কাতারভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক পলিসির অধ্যাপক সুলতান বারাকাত।

আলজাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক বারাকাত উল্লেখ করেন, রেজায়ির বক্তব্যকে কেবল সামরিক হুমকি হিসেবে না দেখে আঞ্চলিক সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে বস্তুত প্রতিবেশী দেশগুলোকে মার্কিন নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সাবধানে পা ফেলার সরাসরি বার্তা পাঠিয়েছে তেহরান। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কাস্পিয়ান সাগর কিংবা সরাসরি স্থলসীমান্ত সংলগ্ন একাধিক দেশের সাথে ইরানের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এ বাণিজ্যিক সঙ্গীদের অনেকেই ওয়াশিংটনের আরোপ করা বিধিনিষেধ পুরোপুরি মানবে না এবং পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক সংযোগ বজায় রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। বারাকাত আরো জানান, একই সময়ে সব পক্ষের সাথে সঙ্ঘাত কিংবা তীব্র অর্থনৈতিক যুদ্ধে জড়ানোর সক্ষমতা ইরানের নেই। সে কারণেই প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক যাতে অচল না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে চাইছে তেহরান।

তবে এ ব্যাপকভিত্তিক মার্কিন বিধিনিষেধ চূড়ান্ত বিচারে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের নেতিবাচক ফল ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেন এ বিশ্লেষক। অতীতে হরমুজ প্রণালী অবরোধের ঘটনায় যে ধরনের বৈশ্বিক আর্থিক ধাক্কা দেখা গিয়েছিল, এ নিষেধাজ্ঞার ফলেও আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিশ্ব অর্থনীতিতে একইভাবে উল্টো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির আবহেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন এ অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিলো ওয়াশিংটন। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞায় পিষ্ট ইরানি অর্থনীতির জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বিকল্প আর্থিক ও বাণিজ্যিক পথ খোলা রাখা এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ফলে এক দিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য সঙ্ঘাতের পরিণতি নিয়ে বার্তা দেয়া হচ্ছে, অন্য দিকে আঞ্চলিক মিত্রদের মার্কিন নীতি অনুসরণের ক্ষেত্রে স্বীয় স্বার্থের কথা অনুধাবন করার আহ্বান জানাচ্ছে তেহরান।