ইরান সঙ্কট ও তেলের দাম কমাতে ভেনিজুয়েলার খনি মার্কিন নিয়ন্ত্রণে
শতবর্ষী চুক্তি সই
Printed Edition
রয়টার্স
ভেনিজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেয়ার আট মাস পর দেশটির জ্বালানি খাতের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চুক্তি সম্পন্ন করল ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে ‘ইতিহাসের বৃহত্তম তেল চুক্তি’ স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের মধ্যকার দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতে এই সমঝোতা রূপ পায়।
চুক্তির আওতায় ভেনিজুয়েলার মাটির নিচে থাকা অন্তত ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল মানসম্পন্ন তেলের মজুদের নিয়ন্ত্রণ সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যাচ্ছে, যা আমেরিকার বিদ্যমান কৌশলগত তেল রিজার্ভকে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেবে। ভেনিজুয়েলার একটি নামহীন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ উদ্যোগে একটি নতুন কোম্পানি গঠিত হবে, যারা আগামী ১০০ বছর তেল উত্তোলনের একচ্ছত্র অধিকার পাবে। নতুন প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানির ৫৫ শতাংশ কার্যকর উৎপাদন অংশীদারত্ব থাকবে ওয়াশিংটনের কাছে, যার মাধ্যমে নির্ধারিত উৎপাদন খরচে সরাসরি তেল কেনার পূর্ণ সুযোগ পাবে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তিটি পুরোদমে বাস্তবায়িত হলে এটি সৌদি আরামকোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম করপোরেট তেল রিজার্ভ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। মাদুরা গ্রেফতারের পর ক্ষমতার দায়িত্বে আসা ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশের তেল খাত বেসরকারীকরণের আইন পাস করলে এই চুক্তির আইনি ভিত্তি তৈরি হয়। রদ্রিগেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চুক্তির অধীনে ১৭টি তেলক্ষেত্রের উন্মোচন ও উন্নয়ন করা হবে। এর ফলে ভেনিজুয়েলায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশক বিনিয়োগ আসার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি কর বাবদ প্রায় ২০৯ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব পাওয়ার আশা করছে কারাকাস।
ইরান সঙ্ঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ বিঘিœত হওয়া এবং মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতেই ট্রাম্প প্রশাসন তড়িঘড়ি করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছর আগস্টে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় দাম ৩.২১ ডলার থাকলেও চলমান সঙ্কটে তা ৪.০৯ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানির ঘাটতি মেটাতে চলতি বছরের শুরু থেকে ট্রাম্প প্রশাসন নিজ দেশের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ব্যারেলে বেশি তেল বাজারজাত করায় সেই মজুদ বর্তমানে ৩০০ মিলিয়ন ব্যারেলের নিচে নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনিজুয়েলায় বিশ্বের মোট সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশ অর্থাৎ ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল গচ্ছিত থাকলেও, দীর্ঘদিনের পুরনো ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে এই মুহূর্তেই মার্কিন বাজারে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা কম। তা ছাড়া ভেনিজুয়েলার সংবিধানে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানার বিধান থাকায় চুক্তিটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। পাশাপাশি দেশটির বিরোধী দলগুলো একে মার্কিন ‘ভূমি ও সম্পদ দখল’ হিসেবে অভিহিত করে সমালোচনা করছে। অপর দিকে হুগো চাভেজের আমলে জাতীয়করণ হওয়া মার্কিন সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের যুক্তি দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক্সনমোবিলের মতো বড় বড় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রত কারাকাসে বিনিয়োগ বৃদ্ধির তাগিদ দিচ্ছেন।