এনসিটি চুক্তি : স্থিতাবস্থা চেয়ে আবেদন, শুনানি ২০ জানুয়ারি
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশী কোম্পানির সাথে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার ওপর স্থিতাবস্থা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। একই সাথে এ রিট মামলায় বিবাদি হিসেবে পক্ষভুক্ত হতে পৃথক তিনটি আবেদন জমা দিয়েছেন সাধারণ শ্রমিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ আবেদনগুলো নথিভুক্ত করে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দিন ধার্য করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বার্থ অপারেটর এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন সেলিম, ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’র প্রধান সমন্বয়ক জিয়াউল হক এবং শ্রমিক নেতা তসলিম উদ্দিন পক্ষভুক্ত হওয়ার জন্য পৃথক আবেদন দাখিল করেছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, এনসিটি পরিচালনায় বিদেশী কোম্পানির সাথে চুক্তিসংক্রান্ত রিটের ওপর গত বছরের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বিভক্ত রায় দেন। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব তার রায়ে উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের পিপিপি আইন ও ২০১৭ সালের জিটুজি নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে এ চুক্তি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, যা আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত। তবে বেঞ্চের অপর সদস্য বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিটটি খারিজ করে রায় দিলে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি এ একক বেঞ্চ গঠন করে দেন।
গতকাল আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আনোয়ার হোসেন। তিনি আদালতকে জানান, হাইকোর্টের দ্বিধাবিভক্ত রায় সত্ত্বেও এনসিটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি চালিয়ে নেয়া হচ্ছে, যা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এ অবস্থায় চুক্তির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখা জরুরি। অন্য দিকে, পক্ষভুক্ত হতে চাওয়া শ্রমিক নেতা তসলিম উদ্দিনের আইনজীবী সাকিব মাহবুব জানান, তারা রিটটি সমর্থন করে শুনানিতে অংশ নিতে চান এবং আদালত তাদের বক্তব্য শোনার জন্য আগামী মঙ্গলবার সময় রেখেছেন।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রিটটি আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত বলেন, অবকাশ শেষে রিটটি শুনবেন। অবকাশ শেষে ৪ জানুয়ারি নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শুরু হয়। গতকাল আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী হেলাল চৌধুরী শুনানিতে অংশ নেন। শাহাদাত হোসেন সেলিমের পক্ষে আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ কে এম ফয়েজ এবং শ্রমিকনেতা তসলিম উদ্দিনের পক্ষে আইনজীবী সাকিব মাহবুব শুনানিতে ছিলেন।
‘হাইকোর্টের দ্বিধাবিভক্ত রায় সত্ত্বেও এনসিটির চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হচ্ছে’ শীর্ষক বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন যুক্ত করে স্থিতাবস্থা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারীর আইনজীবী আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, বিভক্ত রায়ের পর রুলের ওপর বিষয়বস্তুতে ৪ ও ৮ জানুয়ারি এবং গতকাল শুনানি হয়। তৃতীয় বেঞ্চে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হচ্ছে, তাই চলমান প্রক্রিয়ার ওপর স্থিতাবস্থা চেয়ে গতকাল আবেদনটি দাখিল করা হয়, যা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পৃথক ব্যক্তি-সংগঠনের পক্ষে রিটে বিবাদি হিসেবে পক্ষভুক্ত হতে তিনটি আবেদন দাখিল করা হয়েছে, যা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক হয়। এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়াকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এ কোম্পানির সাথে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন গত বছর ওই রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৩০ জুলাই হাইকোর্ট রুল দেন। রুলের ওপর শুনানি শেষে গত ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে বিভক্ত রায় হয়।
চালু এ টার্মিনাল বিদেশীদের হাতে ছেড়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির আওতায় জিটুজি ভিত্তিতে টার্মিনালটি ছেড়ে দেয়ার এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন, পেশাজীবী ও শ্রমিকেরা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন।
২০০৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দর এ টার্মিনাল নির্মাণ করে। টার্মিনালটি নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সংযোজনে বন্দর কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে মোট দুই হাজার ৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।
বর্তমানে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে দেয়ার আগপর্যন্ত চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেডের এ টার্মিনাল পরিচালনা করার কথা রয়েছে।