কেয়া গ্রুপের চার কারখানার ৬২৭ কর্মী ছাঁটাই, লে-অফ বৃদ্ধি

Printed Edition

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি

ব্যাংকিং জটিলতা ও গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানের ৬২৭ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। একই সাথে কারখানাগুলোর ‘লে-অফ’-এর মেয়াদ আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন।

সোমবার সন্ধ্যায় কোনাবাড়ীর জরুণ এলাকায় কেয়া গ্রুপের কারখানার প্রধান ফটকে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের তালিকা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। ছাঁটাইয়ের তালিকায় পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন এবং কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড।

কারখানা কর্তৃপক্ষের জারি করা নোটিশে জানানো হয়, ব্যাংকিং সমস্যা, গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং উদ্বৃত্ত জনবলের কারণে প্রশাসনিক ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। ফলে কিছু পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে সংশ্লিষ্টদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করা হবে এবং ভবিষ্যতে কর্মী নিয়োগ হলে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। অন্য দিকে যাদের চাকরি বহাল রয়েছে, তারা লে-অফকালীন নিয়ম অনুযায়ী ভাতা পাবেন।

কেয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের যাবতীয় পাওনা আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে মিটিয়ে দেয়া হবে। তিনি আরো জানান, হেড অফিসের অর্থ, বাণিজ্যিক, বিপণন, প্রশাসনসহ জরুরি পরিষেবা যেমন- নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ ও ইটিপি বিভাগগুলোর কাজ স্বাভাবিকভাবেই চালু থাকবে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে কারখানার সামনে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত মহানগর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গ্যাস ও ব্যাংক জটিলতায় গত ৬ জুন থেকে কারখানাটি লে-অফে ছিল, যার মেয়াদ দফায় দফায় বাড়িয়ে সর্বশেষ ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।