ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে চাকরিতে স্বজনপ্রীতির সুযোগ বাড়াচ্ছে সরকার : হাসনাত আবদুল্লাহ
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) বেশি নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তার মতে, ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে বিএনপি সরকার সরকারি চাকরির নিয়োগে আবার লবিং, স্বজনপ্রীতি, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে মেধাবী প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পুরো নিয়োগব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা লেখেন।
পোস্টের শুরুতে শুধু রিটেইনটা পাস করো, ভাইবা আমরা দেখবো উল্লেখ করে হাসনাত লেখেন, সরকারি কর্মচারী নিয়োগে গ্রেড ১১-২০ এর ক্ষেত্রে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি গ্রহণযোগ্য নয়। এটি একটি চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে বিএনপি সরকার সরকারি চাকরির নিয়োগে আবার লবিং, স্বজনপ্রীতি, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, যে জায়গায় দীর্ঘদিনের দাবি ছিল লিখিত পরীক্ষায় মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন বাড়িয়ে ভাইভার প্রভাব কমানো, সেখানে তারা ঠিক তার উল্টো পথে হাঁটছে। ফলে মেধাবী প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পুরো নিয়োগব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। প্রশ্ন রেখে হাসনাত লেখেন, লিখিত পরীক্ষায় একজন প্রার্থী ভালো করেও যদি ভাইভায় লবিং, মামা-খালু বা টাকার জোরে পিছিয়ে যায়, তাহলে মেধাভিত্তিক নিয়োগের আর অর্থ কী?
সরকারি চাকরি কোনো দলের লোক নিয়োগের জায়গা নয় মন্তব্য করে হাসনাত লেখেন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর বদলে যদি পুরনো সেই পথ আবার খুলে দেয়া হয়, তাহলে এর চেয়ে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত আর কী হতে পারে! প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় গ্রেড ১১-১২-তে লিখিত ১০০-এর বিপরীতে ভাইভা ৫০, গ্রেড ১৩-১৬ তে ৪০ এবং গ্রেড ১৭০-২০ এ ২৫ নম্বর। অর্থাৎ, লিখিত পরীক্ষায় একজন প্রার্থী কতটা ভালো করেছেন, তার ফলাফলকে ইন্টারভিউ বোর্ড এর সাবজেক্টিভ অ্যাসেসমেন্ট দিয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এখানেই আপত্তি। কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য লেখেন, লিখিত পরীক্ষা তুলনামূলকভাবে অবজেক্টিভ। সবাই একই প্রশ্নে, একই সময়ে পরীক্ষা দেন। কিন্তু ভাইভা অনেক বেশি সাবজেক্টিভ। ফলে ভাইভার নম্বর যত বাড়বে, ইন্টারভিউ বোর্ডের স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা তত বাড়বে। আর এই স্বেচ্ছাচারের জায়গায় স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা দুর্বল হলে পক্ষপাত, পরিচিতি এবং রাজনৈতিক বিবেচনার সুযোগও বাড়বে।