১০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে চিকিৎসককে হুমকি
চট্টগ্রামে অভিযানে ডেভিড ইমনের বেতনভুক ৭ চাঁদাবাজ গ্রেফতার
Printed Edition
চট্টগ্রাম ব্যুরো
বিদেশী নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে সন্ত্রাসী রায়হান, বড় সাজ্জাদসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো: মাসুদ আলম জানান, গ্রেফতারকৃতরা সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ ও রায়হানের নাম ব্যবহার করলেও তারা মূলত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের বেতনভুক চাঁদাবাজ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এসপি মাসুদ বলেন, সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার একজন চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দেয়া হয়। চাঁদা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলা এবং ‘১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না’-এমন ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। একইভাবে বড়দীঘির পাড় এলাকার একজন ব্যবসায়ীকেও বিদেশী নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেয়া হয়। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় হাটহাজারী থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন সূত্র এবং পূর্বে গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। তদন্তে জানা যায়, চক্রটি সন্ত্রাসীদের নাম ও পরিচয়কে অপকৌশল হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করত। নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে বিদেশী নম্বর ও হোয়াটসএ্যাপের মাধ্যমে ফোন করে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া হতো।
প্রাথমিক তদন্তে আরো জানা যায়, ডেভিড ইমন, কালা মোবারক, বড় সাজ্জাদ ও রায়হানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করলেও গ্রেফতারকৃতরা নিজেদের একটি পৃথক চাঁদাবাজ চক্র গড়ে তুলেছিল। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তির সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের টার্গেট করা এবং পরবর্তীতে সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করাই ছিল তাদের মূল কৌশল।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো: তারেক আজিজের নেতৃত্বে হাটহাজারী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাক আহম্মেদসহ সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্সের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। টানা ২৪ ঘণ্টা হাটহাজারী থানাধীন ভুলিয়াপাড়া ও খন্দকিয়া, বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন মাজার এলাকা এবং খুলশী থানাধীন দামপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পরিচালিত সাঁড়াশি অভিযানে চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো: রিকু (২৫), মো: তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০), আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বর (৪০), আহমদ রেজা শাকিল (২৫), মো: মানিক (৪০) ও নুরুল আলম (৪০)।
পুলিশ তাদের নিকট হতে একটি তলোয়ার, একটি চাপাতি, একটি ছুরি, একটি টিপছোরা এবং চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত বিদেশী নম্বরসহ চারটি মোবাইলফোন।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলার তথ্য : পুলিশ জানায়, আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দু’টি, চাঁদাবাজির দু’টি, অপহরণের একটি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি, ডাকাতির প্রস্তুতির একটি এবং হত্যাচেষ্টার একটিসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। মো: মানিকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত একটি এবং ডাকাতির প্রস্তুতির একটিসহ দু’টি মামলা রয়েছে। কামরুল হাসান ওরফে সাগর, মো: রিকু, মো: তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত এবং আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির দু’টি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটিসহ তিটি করে মামলা রয়েছে।