ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে গিয়ে বীজ ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ‘প্রকৃতির দাবি’ আন্দোলনের উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, পর্যটন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে পরিবেশ সংরক্ষণের কাজে যুক্ত করা সম্ভব। এর মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখা যেতে পারে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরের টোলারবাগে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রিসার্চ ডিপার্টমেন্টের সভাকক্ষে অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ থ্রু রিসার্চ (অধীর) ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রকৃতির দাবি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন ট্যুর ও ট্রাভেল অ্যাজেন্সির প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সভায় ‘প্রকৃতির দাবি’ সামাজিক আন্দোলনের মূল বিষয়বস্তু ও ধারণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।
অধীর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা: সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ পর্যটন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাচ্ছেন। তবে পর্যটনের বিস্তারের সাথে সাথে পরিবেশের ওপরও চাপ বাড়ছে।
তিনি বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণকারীদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য পরিবেশের ক্ষতি করছে। পানি, সড়কের পাশ ও বাজারের আশপাশে এসব বর্জ্য পড়ে থাকছে। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। পর্যটনের বিকাশের পাশাপাশি প্রকৃতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
পর্যটনের কারণে প্রকৃতির যে ক্ষতি হচ্ছে, তা কমানো বা ক্ষতিপূরণের লক্ষ্যেই ‘প্রকৃতি’ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃতি রক্ষার ধারণাটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে বাস্তবভিত্তিকভাবে তা কার্যকর করতে হবে।
বৈঠকে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বীজের স্টল স্থাপন এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর (CSR) তহবিলের মাধ্যমে বীজ সরবরাহের প্রস্তাবও দেয়া হয়। পর্যটক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, জননেতা, এনজিও ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ উদ্যোগে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
উল্লেখ্য, বৈঠকে ‘প্রকৃতির দাবি’ আন্দোলনের বিভিন্ন দিক নিয়ে স্লাইড প্রদর্শন করা হয়। আন্দোলনটি কীভাবে আরো বিস্তৃত ও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে একটি পুস্তিকাও বিতরণ করা হয়। এতে পর্যটন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষার বিভিন্ন উপায় তুলে ধরা হয়েছে।