অনলাইন প্রতারক ও জুয়া সিন্ডিকেটের ৮ সদস্য গ্রেফতার

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সহজ শর্তে ঋণের টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে একদল প্রতারক, অন্য দিকে অনলাইন জুয়ার ফাঁদ পেতে যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে আরেকটি চক্র। এসব অপরাধ দমনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই চক্রের মূলহোতাসহ আট সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে শত শত অবৈধ সিম কার্ড, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ। গতকাল মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া বিভাগ এসব তথ্য জানায়।

গ্রামীণ লোনের নামে ডিজিটাল প্রতারণা : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নামী প্রতিষ্ঠানের সদৃশ নাম ব্যবহার করে ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাৎকারী একটি চক্রের সক্রিয় সদস্য মেহেদী হাসান মাহিনকে (১৯) গ্রেফতার করেছে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ। ঋণ অনুমোদনের বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে কাক্সিক্ষত ঋণের ১০ শতাংশ টাকা জামানত বা সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হতো। একই সাথে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের নামে ভুক্তভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবিও সংগ্রহ করত চক্রটি।

জামানতের টাকা পাওয়ার পর ভুক্তভোগীকে সান্ত¡না দিতে চক্রটি নিজস্ব ওয়েবসাইটে তৈরি করা একটি ভুয়া ড্যাশবোর্ডে আবেদনকৃত লোন এবং পাঠানো জামানতের অর্থ ভার্চুয়ালি প্রদর্শন কর। কিন্তু বাস্তবে ওই অর্থ উত্তোলনের কোনো সুযোগই ভুক্তভোগীদের ছিল না। প্রতারণা নির্বিঘœ করতে তারা বিভিন্ন বেনামী বা অন্যের নামে নিবন্ধিত অবৈধ সিম ব্যবহার করত। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে রমনা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, চারটি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত ৬১টি অবৈধ সিমকার্ড জব্দ করা হয়।

অনলাইন জুয়ার কোটি টাকার সিন্ডিকেট : অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে পরিচালিত অন্য এক বিশেষ অভিযানে দেশব্যাপী বিস্তৃত একটি চক্রের মূলহোতাসহ সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। এই জুয়ার সাইটগুলো সচল রাখতে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জুয়াড়িদের লেনদেন সফল করতে শত শত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস যেমন বিকাশ, রকেট বা নগদের ব্যক্তিগত, এজেন্ট ও মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছিল। চক্রটির মূল কাজই ছিল জুয়াড়িদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন আর্থিক লেনদেনের স্বার্থে অবৈধ এমএফএস ওয়ালেট বা অ্যাকাউন্ট সরবরাহ করা। তাদের কাছ থেকে ৪৮৪টি বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট-সংবলিত সিমকার্ড, ৪৬টি স্মার্টফোন ও একটি বাটন ফোন, ৮টি ল্যাপটপ, ২৭টি ব্যাংক কাড, ৩টি ডায়েরি এবং ২টি বিলাসবহুল প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়।

ডিএমপির অভিযানে গ্রেফতার ৫০২, মামলা ৭১ : রাজধানীতে ডিএমপির নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০২ জন গ্রেফতার হয়েছে। একই সময়ে ৭১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযানকালে সাত হাজার ৯৪২ পিস ইয়াবা, ৫ কেজি ২৫০ গ্রাম গাঁজা, ৩.২ গ্রাম হেরোইন, ১টি মোবাইল ফোন, ১টি ছুরি, ৪টি চাপাতি, ১টি স্পোকেট, ২টি হেলমেট, ২টি পিকআপ, ১৫০ লিটার ডিজেল, ১টি ড্রাম, ১টি ব্যাটারি, ১টি প্লাস্টিকের পাইপ ও নগদ ২ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।