কম দামে জমি বেচতে চাপ, চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ
Printed Edition
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুর গ্রামে এক হিন্দু পরিবারের জমি জোরপূর্বক নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে কেনা এবং অন্য ক্রেতাদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মিনি রানী নামের ওই নারী অভিযোগ করেছেন, জমি বিক্রি করতে গিয়ে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে তিনি চরম হয়রানি ও বাধার শিকার হচ্ছেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রোকনুজ্জামান বাবু ওরফে চৈটে বাবু, যিনি হাউলি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
ভুক্তভোগী মিনি রানী জানান, লোকনাথপুর রোড এলাকায় অবস্থিত তার জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় চার লাখ টাকা। কিন্তু ওই বিএনপি নেতা সেটি মাত্র দুই লাখ টাকায় কিনতে চাপ দিচ্ছেন। এই দামে বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানালে, অন্য কোনো ক্রেতার কাছে বিক্রি করতেও তিনি বাধা দিচ্ছেন। মিনি রানীর অভিযোগ, নতুন কোনো ক্রেতা পেলে ওই বিএনপি নেতা তাদের ভয়ভীতি দেখান এবং জমি রেজিস্ট্রি না করার জন্য হুমকি দেন। এমনকি সীমানা নির্ধারণের সময়ও ১৮ ফুটের জায়গায় জোর করে ১৫ ফুট দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত নেতা সেখানে উপস্থিত হননি। পরে থানায় অভিযোগ দেয়া হলেও সেখানে সমাধান মেলেনি। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আদালতে মামলা চালানোর সামর্থ্যও তার নেই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রোকনুজ্জামান বাবু নিজের দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রতি কাঠা দুই লাখ টাকা দর বলা হয়েছিল। বিক্রেতা রাজি না হলে অন্য জায়গায় বিক্রি করতে তার কোনো আপত্তি নেই। কাউকেই হুমকি বা ভয়ভীতি দেখানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ওপর জোর-জুলুম বা অত্যাচার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কোনো নেতার বিরুদ্ধে এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’