অভিযুক্তদের অস্বীকার

কুয়েটে শিক্ষার্থীকে মারধর ও ফোন কেড়ে নেয়ার অভিযোগ

Printed Edition

কুয়েট প্রতিনিধি

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) রাহাতুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধর, গলা চেপে ধরে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলপন্থী কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। তবে মারধরের কথা অস্বীকার করে অভিযুক্তদের দাবি, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে কেবল ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হল ও শহীদ স্মৃতি হল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাহাতুল ইসলাম সিই ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, এক বন্ধুকে বিদায় জানাতে শহীদ স্মৃতি হল থেকে ২০-২২ জন শিক্ষার্থী ফুলবাড়ীগেট এলাকায় যান। রাত সোয়া ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে খানজাহান আলী হলের সামনে কুয়েট ছাত্রদলের সাথে সম্পৃক্ত ২২ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন। পরে শহীদ স্মৃতি হলের গেটের সামনে পৌঁছে তাকে জোরপূর্বক অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।

রাহাতুল অভিযোগ করেন, হলের গেটের সামনে অভিযুক্ত লোটাস ও পীযূষ তার গলা চেপে ধরে দূরে নেয়ার চেষ্টা করেন এবং তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ততার ‘ট্যাগ’ দেন। একই সাথে তাকে ‘চোর’ ও ‘নারী হেনস্তাকারী’ বলেও চিৎকার করা হয়। টানাহেঁচড়ার একপর্যায়ে তার পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেয়া হয়। বিষয়টি তিনি হল প্রশাসনকে জানিয়েছেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচার দাবি করেছেন।

তবে মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আল সাদ রাজিন। তার দাবি, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হলে রাহাতুলের পোশাক ছিঁড়ে যায়। আর রাহাতুল কোন কোন পেজ পরিচালনা করেন তা দেখার জন্যই ফোনটি নেয়া হয়েছিল, পরে ফেরত দিতে গিয়ে তার কক্ষ বন্ধ পাওয়া যায়। অন্য দিকে রাহাতুল জানান, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত তিনি ফোনটি ফেরত পাননি।

ঘটনার বিষয়ে শহীদ স্মৃতি হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আবু ইউসুফ জানান, রাতেই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।