দু’টি মাঠ হবে টেকনিক্যাল সেন্টারে
Printed Edition
রফিকুল হায়দার ফরহাদ
দু’টি ঘাসের ফুটবল মাঠ আর একটি কৃত্রিম ঘাসের মাঠ। সাথে ফুটবলারদের থাকার হোস্টেল জিমন্যাসিয়াম, সুইমিংপুল ও ফিজিও থেরাপি সেন্টার। এই পরিকল্পনা করেই সরকারের কাছে কক্সবাজারের খুনিয়া পালংয়ে ২৫ একর জমি চেয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে ওই পরিমাণ জমি পাওয়ার আশ্বাস না মেলায় ২০ একরে নামিয়ে আনা হয় জমির পরিমাণ। তাতেও মেলেনি সবুজ সঙ্কেত। তাই শেষ পর্যন্ত ১৫.২০ একরেই সন্তুষ্টি। আর এই জমিতেই ফিফার অর্থায়নে বাফুফের টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মিত হবে। ৭ সেপ্টেম্বর বাফুফে সভাপতি তাবিথ আওয়ালের কাছে এই জমির দলিল হস্তান্তর করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম এ মান্নান।
ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগামের আওতায় ২০২০ সাল থেকে টেকনিক্যাল সেন্টারের জন্য ২৫ একর জমি খুঁজছিল বাফুফে। ২০২২ সালে কক্সবাজারের খুনিয়াপালংয়ে জমির সন্ধান পায় বাফুফে। বাফুফে কর্মকর্তারা সেই জমি পরিদর্শন করেও আসেন। কিন্তু ২০ একরের সেই জমি বাফুফে আর পায়নি নানা জটিলতায়। জমিটি ছিল সংরক্ষিত বনাঞ্চলের। তখন রাষ্ট্রপতি এটিকে নিজ ক্ষমতাবলে ডিরিজার্ভ ফরেস্ট জমি বলে লিখিত দেন। এতেই আপত্তি জানায় পরিবেশবাদীদের সংগঠন বেলা। কারন বন সংরক্ষক আইনে ২৭ নম্বর ধারায় আছে রিজার্ভ ফরেস্টকে ডি রিজার্ভ ফরেস্ট বলে স্বীকৃতি দেয়া যাবে না। এতে খুনিয়া পালংয়ে আর জমি নিতে পারেনি বাফুফে। যদিও তখন বাফুফেকে বলা হয়েছিল টেকনিক্যাল সেন্টার করতে যে পরিমান গাছ কাটা পড়বে ওই পরিমাণ গাছ লাগিয়ে দিতে হবে।। বাফুফেও সম্মতি দিয়েছিল। কিন্তু পরিবেশবাদীদের আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত ওই জমি আর পায়নি বাফুফে। বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তীতে বেলাই রশীদ নগরে জমির সন্ধান দেয় বাফুফেকে। তা ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি।
এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ওই বছরই ৩ অক্টোবর ডি রিজার্ভ ফরেস্ট করার অনুমতি বাতিল করা হয়। এর আগে ২০২৪ এর ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বাফুফেকে রশীদ নগরে টেকনিক্যাল সেন্টার করার জন্য প্রস্তাব দেয় বাফুফেকে। তবে রশীদ নগরে ২০ একর জমি মেলেনি। পাওয়া গেছে ১৯.১০ একর জমি। অবশ্য এই জমিও পুরোপুরি পায়নি বাফুফে। ওই জমিতে মসজিদ আছে। রয়েছে কবরস্থান ও সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবাড়ী। এগুলো সরানোর সুযোগ নেই। ফলে এই স্থাপনাগুলো রেখেই রশীদনগরের ১৫ একরের জমিতে হবে বাফুফের টেকনিক্যাল সেন্টার। অবশ্য রশীদনগরের জমিতে গাছ কাটতে হচ্ছে না। বন সংরক্ষণ আইনে আছে কোনো পাহাড়ি ছড়া থাকলে তা বন্ধ করা যাবে না। কাটা যাবে না কোনো টিলাও। বর্তমান জমিতে এই সমস্যা নেই।
যেহেতু ঘরবাড়ি, মসজিদ ও কবরস্থান সরানোর সুযোগ নেই তাই ওই জমিতে দু’টির বেশি মাঠ করা যাচ্ছে না। এই মাঠ দু’টির একটি হবে প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠ। অপরটি কৃত্রিম ঘাসের মাঠ। উল্লেখ্য একটি আদর্শ ফুটবল মাঠের জন্য ১১৫ মিটার বাই ৭৮ মিটার জমি দরকার। সে সাথে বেশ কয়েকটি মিনি টার্ফের মাঠ করা হবে। হতে পারে ইনডোর ফুটবল গ্রাউন্ডও। বাফুফে এখন জমির ডিজিটাল সার্ভে সম্পন্ন করে এবং কক্সবাজার
উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কাজ শুরু করবে এই টেকনিক্যাল সেন্টারের। ফিফার শর্ত ২০২৮ সালে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করতে হবে। এই সেন্টার নির্মাণের জন্য বাফুফে দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে নিয়েছে ফিফার কাছ থেকে। তবে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর আর সময় বৃদ্ধি করতে দেবে না ফিফা।
কক্সবাজারের রামুর রশীদনগরের এই জমির মূল্য পরিশোধ নিয়ে বিপত্তি ছিল। বাফুফে চেয়েছিল নামমাত্র মূল্যে এই জমি কিনবে। কারণ নির্ধারিত মূল্যে জমি কেনার সামর্থ্য নেই বাফুফের। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবং জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক আমিনুল হক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর বাফুফের এই উদ্যোগে গতি আসে। সে সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ক্রীড়া প্রতি ভালোবাসা। সেই ফলশ্রুতিতে নামমাত্র মূল্যেই রশীদনগরের জমিটি পাওয়া। বাফুফেকে সিলেট ও কমলাপুর স্টেডিয়াম বুঝিয়ে দেয়ার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সেই ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন আমিনুল হক। আর বাফুফে সভাপতি তাবিথ আওয়ালও প্রধানমন্ত্রী এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অবদানের কথা জানান।
এই টেকনিক্যাল সেন্টারে থাকবে ফুটবলারদের আবাসন ব্যবস্থা। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ জাতীয় দলকে এই টেকনিক্যাল সেন্টারে রেখে অনুশীলন করানোর পরিকল্পনা বাফুফের। তাই সেই আবাসন ব্যবস্থা হবে পাঁচ তারকা হোটেলের মানের। সে সাথে স্পোর্টস ট্যুরিজমের অংশ হিসেবে কক্সবাজারকে ব্যবহার করাও ইচ্ছে বাফুফের। উল্লেখ্য, কক্সবাজারের বিকেএসপি এবং স্বপ্ন তরী পার্কের পাশে অবস্থিত এই টেকনিক্যাল সেন্টারের জমি।
এই টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের জন্য বাফুফের হাতে আছে ফিফার দেয়া ৫.৫ মিলিয়ন ডলার। এখন ফিফার ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের চতুর্থ ধাপের টাকা যদি এই খাতে যোগ হয় তাহলে অর্থের পরিমাণ আরো বাড়বে।