এরপরও ফিল্ডিংয়ে সাফাই জ্যোতির
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির লক্ষ্য ছিল এবার সেমিফাইনালের বাধা পেরিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে জ্যোতি বলেছিলেন, বারবার সেমিফাইনালে এসে থেমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা এবার বদলাতে চান তারা। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না।
দুবাইয়ে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। শুরুতে বোলাররা ভারতীয় ব্যাটারদের চাপে রাখলেও শেষ পর্যন্ত ১৪৯ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় ভারত। জবাবে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল সতর্ক। কিন্তু প্রয়োজনীয় রান রেট বাড়তে থাকায় চাপও বাড়তে থাকে। মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট ধরে রাখলেও রান তুলতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত ১০৯ রানে থামে ইনিংস।
সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও দলের লড়াই নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন জ্যোতি। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে চারটি ক্যাচ ও একটি সহজ রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া করেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। এর মাশুল দিতে হয় বড় ব্যবধানে হেরে। অথচ এরপরও দলের বোলিং ও ফিল্ডিং নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক। হারের মূল কারণ ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই দেখছেন তিনি।
ভারতের ইনিংসে স্মৃতি মান্ধানার উইকেট পেলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। জ্যোতি মনে করেন, ভারতের ব্যাটারদের দেয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। তিনি বলেন, ‘স্মৃতি মান্ধানা না শুধু, আমরা ওদের সব ব্যাটারকে নিয়েই কথা বলেছি। তারা সুযোগ দিয়েছিল, আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। দ্বিতীয় ওভারেই লং অনে ক্যাচ দিয়েছিল শেফালি ভার্মা। ওই ক্যাচ ধরলে পুরো দৃশ্য অন্য রকম হতে পারত। তবে যেভাবে মেয়েরা লড়াই করেছে, আমি খুশি।’
চারটি ক্যাচ হাতছাড়া হলেও ফিল্ডিং ইউনিটকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাননি জ্যোতি; বরং দলের বোলিং-ফিল্ডিংয়ের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে স্বস্তিই খুঁজে নিয়েছেন তিনি। জ্যোতির ভাষায়, ‘আমরা ভালো ফিল্ডিংই করেছি। এই বিভাগেই বাকি দুই বিভাগের চেয়ে ভালো করেছি। বোলাররা ভালোই তো করছে। ভারত অনেক ভালো ব্যাটিংও করছিল। শেষ দিকে অনেক রান তুলেছে।’
বল হাতে বোলাররা নিজেদের কাজটি করলেও রান তাড়ায় ব্যাটাররা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। পুরো আসরেই ব্যাটারদের এই ধারাবাহিকতার ব্যর্থতা ভুগিয়েছে দলকে। জ্যোতি বলেন, ‘আমরা ওদের ১৩০ রানের মধ্যে আটকে রাখার কথা ভেবেছিলাম। গত কয়েক ম্যাচে যেভাবে বোলিং-ফিল্ডিং করেছি- তবে সেটা হয়নি। আমরা উইকেটও বিলিয়ে এসেছি। এতে রান তাড়া কঠিন হয়ে যায়।’
ব্যাটিংয়ের সমস্যাটা নতুন নয় বলেও জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘এটি দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের বড় এক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২ ম্যাচে যারা রান করেছে এবার তারা রান পায়নি। রানের এই অধারাবাহিকতাই আমাদের ভোগাচ্ছে।’
তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতার মাঝেও বোলারদের পারফরম্যান্সকে কৃতিত্ব দিয়েছেন জ্যোতি। তিনি বলেন, বোলাররা গত তিন ম্যাচে ভালো করেছে। আমরা ভুগছি ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে। উইকেট অবশ্য একটু ধীর গতির ছিল। ব্যাট করার জন্য এত সহজ ছিল না।