প্রথম দলীয় ডাবল সেঞ্চুরি পেল পাকিস্তান

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন টেস্ট সিরিজে প্রথম দু’টি হেরে সিরিজ খুঁইয়েছে পাকিস্তান। তৃতীয় টেস্টেও ইনিংস পরাজয় চোখ রাঙাচ্ছিল সফরকারীদের। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের করা ১৩৩ রানের জবাবে ৪৫৩ রান করেছিল ইংলিশরা। ৩২০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে কোনো রান না করেই দুই উইকেট হারায় বাবর আজমের দল। শেষ পর্যন্ত ২ উইকেটে ৫২ রান দিন শেষ করে পাকিস্তান।

এজবাস্টনে গতকাল সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। প্রথমে আজান আওয়াইস ও শান মাসুদ। দু’জনের জুটিতে ১২৫ রান আসার পর ৫৯ রান নিয়ে সাজঘরে ফেরেন আওয়াইস। এবার ইনিংস পরাজয় ঠেকাতে বাবর আজমকে নিয়ে লড়াই শুরু মাসুদের। তাদের জুটিও ৫০ ছাড়িয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত দলীয় ২১৪ রানে আউট হন মাসুদ। আর তাতেই প্রথমবারের মতো চলতি সিরিজে ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ করেছে পাকিস্তান। আরেকটি ব্যাপার লক্ষণীয়, বাবর তিন ইনিংস খেলে একবারও ডাবল ডিজিটের রান করতে পারেননি। এবার তিনি সফল।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৬২.৩ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ২৭৮ রান পাকিস্তানের। ইনিংস পরাজয় এড়াতে এখনো প্রয়োজন ৪২ রান। এর মধ্যে সিরিজে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ব্যক্তিগত ৭৬ রান নিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন বাবর। ইনিংস পরাজয় এড়াতে ২০ রান নিয়ে উইকেটে থাকা সৌদ শাকিলকে সঙ্গ দিচ্ছেন ২ রান করা উইকেটরক্ষক ব্যাটার গাজী ঘোরি।

ইমাম-রিজওয়ানকে তদন্ত সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ

ইংল্যান্ড সফর ঘিরে একের পর এক বিতর্কের মধ্যে এবার পাকিস্তানের দুই ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দেশটির জাতীয় সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থা। লাহোরে গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছে ক্রিকইনফো।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্ট হারের পর পাকিস্তান দল থেকে বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের মধ্যে ছিলেন রিজওয়ান ও ইমাম। তাদের দু’জনকেই সংস্থাটির পক্ষ থেকে তলব করা হয়েছিল। ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, অন্তত একজন ক্রিকেটার সেখানে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করেছেন। তবে কী কারণে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। বিষয়টি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অভ্যন্তরীণ তদন্তের সাথে সম্পর্কিত কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছিল, শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। সংস্থাটি অবশ্য তখন কোনো ক্রিকেটারের নাম প্রকাশ করেনি। ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত একজন ক্রিকেটারকে একটি প্রশ্নপত্র দেয়া হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে তার লিখিত উত্তর জমা দিতে বলা হয়েছে।

ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হারে তারা। লর্ডস টেস্টের পর সাত ক্রিকেটারকে বাদ দেয়ার পাশাপাশি প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও সরিয়ে দেয়া হয়। তাদের পরিবর্তে নতুন ক্রিকেটারদের ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়, যাদের কয়েকজনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকও হয়নি।

এরই মধ্যে দল নির্বাচনে রিজওয়ান ও ইমামকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া নিয়েও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড নির্বাচকদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। ফলে দুই ক্রিকেটারকে সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ ইংল্যান্ড সফর ঘিরে চলমান বিতর্ককে আরো জটিল করে তুলেছে।