বাংলাদেশের হজযাত্রীর অর্ধলাখ কোটা কমালো সৌদি
নিবন্ধনেও নেই গতি
Printed Edition
আগামী বছরের হজে বাংলাদেশের হজযাত্রীর কোটা কমিয়ে দিয়েছে সৌদি সরকার। বিগত সময়ে বাংলাদেশের হজযাত্রীর কোটা এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন থাকলেও এবার কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৭৮ হাজার ৫০০ জনের। ফলে বিগত সময়ের চেয়ে কোটা কমে গেছে প্রায় অর্ধলাখ। এ দিকে হজযাত্রী নিবন্ধনেও তেমন গতি নেই। নিবন্ধন শুরুর পর ৪৭ দিন পেরিয়ে গেলেও মাত্র সাড়ে ১৬ ভাগ কোটা পূরণ হয়েছে। নিবন্ধনের আর মাত্র সময় বাকি ১৩ দিন। এ সময়ে বাকি কোটা পূরণ করতে হবে।
গত ২৭ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হওয়ার কথা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নিবন্ধন শুরু হওয়ার পর গত ৪৭ দিনে নিবন্ধন করেছেন মোট চার হাজার ৭২২ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে মাত্র এক হাজার ১৮৯ জন এবং বেসরকারি মাধ্যমে হজে যেতে নিবন্ধন করেছেন তিন হাজার ৫৪৩ জন। গত বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বরের পর আর সময় বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। কারণ হিসেবে তারা বলছে, রাজকীয় সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধন কার্যক্রম শেষের সাথে সাথেই বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যানুযায়ী সৌদি পর্বের অর্থ প্রেরণ, মেডিক্যাল চেকআপ, ফিটনেস সনদ, টিকা প্রদান, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। ফলে ৭৩ হাজার ৭৭৮ জনের কোটা পূরণ করতে হবে মাত্র ১৩ দিনে। যা অনেকটা কষ্টসাধ্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিগত সময়ের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী হজযাত্রীরা শেষ দিকে টাকা জমা দেয়ার প্রবণতার কারণে শুরুতে নিবন্ধনের গতি কম থাকলেও শেষ দিকে দ্রুতই কোটা পূরণ হয়ে যায়। অবশ্য ধীরগতির জন্য নিবন্ধনের শুরুতেই একসাথে সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা নেয়াকেও দায়ী করেছেন বেসরকারি এজেন্সি মালিকরা।
এ দিকে হজযাত্রীর সংখ্যা অব্যাহতভাবে কমে যাওযায় এবার কোটা কমে গেছে প্রায় অর্ধলাখ হাজীর। বিগত দীর্ঘবছর ধরে বাংলাদেশের হজযাত্রীর কোটা ছিল এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের। করোনার পর থেকেই দেশে হজযাত্রীর সংখ্যা কমতে থাকে। এ ছাড়া হজের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেকে এখন ওমরা করতে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সব মিলিয়ে গত বছরও কোটা পূরণ হয়নি। গত হজে সর্বশেষ ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা থাকলেও শতাধিক কোটা খালি ছিল। সেজন্য আগামী হজেও সৌদি সরকার কোটা কমিয়ে গত বছরের ৭৮ হাজার ৫০০ নির্ধারণ করেছে বলে ধর্মমন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ফলে বিগত সময়ের কোটা থেকে এবার কমে গেছে ৪৮ হাজার ৬৯৮টি কোটা।
বেসরকারি হজ এজেন্সি আল মক্কা ট্রাভেলসের মালিক খোরশেদ আলম নয়া দিগন্তকে বলেন, হজ নিবন্ধনে ধীরগতির জন্য সরকারই দায়ী। একসাথে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়ে নিবন্ধনের নিয়ম করায় হজযাত্রীরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বিশেষ করে বিমান ভাড়ার এক লাখ ৩০ হাজার টাকা এখনই নেয়ার প্রয়োজন ছিল না। কারণ বিমানের শিডিউলই এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তিনি আরো বলেন, এবার হজযাত্রীর কোটা প্রায় অর্ধলাখ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। পাকিস্তানে একইভাবে হজযাত্রী কম থাকায় এক সময় তাদের কোটা কমিয়ে দেয়া হয়। এখন তাদের হজযাত্রী বাড়লেও সৌদি আর তাদের কোটা বাড়াচ্ছে না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই রকম ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদার নয়া দিগন্তকে বলেন, আশা করছি যারা প্রাক-নিবন্ধন করেছেন তাদের সবাই চূড়ান্ত নিবন্ধন করবেন। তবে বেসরকারিভাবে শেষের দিকে নিবন্ধনের গতি বাড়ে। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে বেসরকারি হাজীদের নিবন্ধন গতি বাড়বে বলে আশা করেন তিনি। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ থাকায় নিবন্ধনে গতি কম আছে বলেও তিনি জানান। কোটা কমে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছর কোটা ৬৭ হাজারে নামিয়ে দিয়েছিল সৌদি সরকার। তখন অন্তর্বর্তী সরকার অনুরোধ করে ৭৮ হাজার ৫০০ করেছিল। এবার সেই কোটা বহাল রেখেছে সৌদি সরকার।
হাজী পাঠাতে ৭০২ এজেন্সিকে অনুমতি: আগামী বছরের হজ কার্যক্রমে অংশ নিতেথ এ পর্যন্ত মোট ৭০২টি এজেন্সিকে অনুমতি দিয়েছে সরকার। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সপ্তম পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে যোগ্য ২২টি হজ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর আগে ছয় দফায় ৬৮০টি এজেন্সিকে অনুমতি দেয় সরকার। এসব এজেন্সি ৩০টি লিড এজেন্সির অধীনে হজযাত্রী পাঠাতে পারবেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৫ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।