অভিষেকেই চমক কোমোর

Printed Edition
khela-2
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আরবি লিপজিগকে হারানোর পর কোমোর খেলোয়াড়দের উল্লাস : ইন্টারনেট

ক্রীড়া ডেস্ক

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই বছর পর ফিরেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। আর সেই ফেরার উপলক্ষটা দারুণ জয়ে রাঙালো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সফলতম ক্লাবটি। ঘরের মাঠে গত পরশু আজারবাইজানের ক্লাব সাবাহ এফসির বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে শুরুটা করল রেড ডেভিলসরা। এ দিন বড় জয়ে নতুন মৌসুম শুরু করেছে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখও। নরওয়ের ক্লাব বোদো/গ্লিমিটের বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানে জিতেছে জার্মানি লিগ চ্যাম্পিয়নরা। প্রথম সপ্তাহের শেষ রাতটা ছিল আরো রোমাঞ্চে ভরা। বড় দলগুলোর দাপটের পাশাপাশি দেখা গেছে নতুনদের চমকও। প্রথমবার ইউরোপসেরার প্রতিযোগিতায় খেলতে এসে জার্মান ক্লাব আরবি লিপজিগকে ৪-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ইতালির সিরি ‘আ’ ক্লাব কোমো।

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সাবাহর বিপক্ষে বল পজিশন ও আক্রমণে এগিয়ে থেকে ম্যাচের ২৭ মিনিটে প্রথম জালের দেখা পায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ম্যাথিয়াস কুনহার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ৪২ মিনিটে অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজের গোলে ২-০তে লিড নেয় ইংল্যান্ডের সফলতম ক্লাবটি। ৩ মিনিট পর বেঞ্জামিন সেসকোর গোল। ৬৮ মিনিট সাবাহ এফসির জালে শেষবার বল পাঠান আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী তারকা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। প্রায় তিন বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরেই আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য এই জয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল ম্যানইউর। নতুন কোচ মাইকেল ক্যারিকের অধীনে প্রথম ম্যাচেই চার গোলের জয় দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। একই সাথে গোল না খেয়ে ম্যাচ শেষ করাটাও তাদের জন্য ছিল ইতিবাচক দিক।

রাতের সবচেয়ে বড় জয়গুলোর আরেকটি এসেছে বায়ার্ন মিউনিখের কাছ থেকে। নরওয়ের ক্লাব বোদো/গ্লিমটকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে জার্মান জায়ান্টরা। ঘরের মাঠে নরওয়ের ক্লাব বোদো/গ্লিমিটকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে জার্মান জায়ান্টরা। প্রথমার্ধে গোল না পেলেও বিরতির পর যেন অন্য রূপে দেখা যায় বায়ার্নকে। ৪৭ মিনিটে শুরুটা করেন জামাল মুসিয়ালা। ৬১ মিনিটে জার্মান লিগ চ্যাম্পিয়নদের ২-০তে এগিয়ে নেন হ্যারি কেন। এই গোলের সুবাদে একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড। এ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা আট ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়েছেন তিনি। এই তালিকায় তার আগে ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, রবার্ট লেভানডোভস্কি ও রুড ফন নিস্টলরয়। ৭৭ মিনিটে বায়ার্নকে ৩-০তে এগিয়ে নেন আলফান্সো ডেভিস। ৮৩ ও যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে শেষ দু’টি গোল করেন মাইকেল অলিসে।

তবে রাতের সবচেয়ে বড় চমক ছিল ইতালির ক্লাব কোমোর জয়। প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে খেলতে নেমেই জার্মান ক্লাব আরবি লিপজিগকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে ইতালিয়ান দলটি। নিজেদের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে কোমো। ঐতিহাসিক অভিষেককে স্মরণীয় করে রাখতে চার গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। কোমোর হয়ে গোলগুলো করেন মার্টিন বাতুরিনা, আনাসতাসিওস ডুভিকাস, আসানে দিয়াও এবং ম্যাক্সিমো পেরোন। লিপজিগের হয়ে একটি গোল শোধ করেন আন্দ্রিয়া মাকসিমোভিচ।

এদিকে ফেনেরবাচে নিজেদের মাঠে ১-১ গোলের ড্র’তে ম্যাচ শেষ করেছে এএস রোমার বিপক্ষে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরা ফেনেরবাচে ঘরের মাঠে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও পরে সমতা ফেরে। অবশ্য ম্যাচের পরপরই দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন ফেনেরবাচের কোচ ইসমাইল কারতাল। শাখতার দোনেৎস্কও ১-১ গোলে ড্র করেছে পিএসভি আইন্দহোভেনের বিপক্ষে। আরো নাটকীয় ছিল স্লাভিয়া প্রাগ ও লেন্সের বিপক্ষে স্লাভিয়া প্রাহার ম্যাচ। ২-১ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় স্লাভিয়া। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে দুই গোল করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে ফরাসি ক্লাব লেন্স।