বিশ্বসাহিত্য : নতুন জানালা

সিরিয়ান লেখিকা রানিয়ার উপন্যাস

Printed Edition
Sahitto-2
সিরিয়ান লেখিকা রানিয়ার উপন্যাস

আহমদ মতিউর রহমান

সিরিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান লেখিকা এবং গবেষক রানিয়া হান্নার লেখা ‘দ্য জিন ডটার’ বইটি বেশ নাম করেছে। সমালোচকদের ভাষায় এটি একটি অত্যাশ্চর্য উপন্যাস এবং গল্প বলার একটি চিত্তাকর্ষক টেকনিক যা পৌরাণিক কাহিনী, রহস্য, জাদু এবং প্রাচীন কিংবদন্তিকে একত্রিত করে একজন মায়ের তার একমাত্র মেয়েকে বাঁচানোর সংগ্রামের আকর্ষণীয় গল্পে উঠে এসেছে। বইটি নেক্সট জেনারেশন ইন্ডি বুক অ্যাওয়ার্ডস এর জন্য মনোনীত হয়েছিল। নেক্সট জেনারেশন ইন্ডি বুক অ্যাওয়ার্ডস হলো স্বাধীন লেখক এবং স্বাধীন প্রকাশকদের জন্য বৃহত্তম আন্তর্জাতিক পুরষ্কার প্রোগ্রাম। একজন ইন্ডি বা স্বাধীন লেখক হলেন কল্পকাহিনী, নন-ফিকশন বা কবিতার লেখক যিনি নিজে তার বই প্রকাশ করেন। এটি রানিয়ার প্রথম উপন্যাস।

‘দ্য জিন ডটার’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র নাদিন হলো এক জিন, যার কাজ হলো মৃতদের গল্প বলা। সে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতের বেলায় পড়ে থাকা ডালিমের বীজ মৃতদের আত্মা জড়ো করে। তার মেয়ে লায়লাকে পাশে রেখে সে বীজ খায় এবং তাদের গল্প বলে। তবেই মৃতেরা মৃত্যুর শেষ দরজা দিয়ে যেতে পারে। কিন্তু যখন বীজ পড়া বন্ধ হয়, তখন নাদিন বুঝতে পারে যে কিছু একটা ভয়াবহভাবে ঘটেছে। তার সব ভয় তখনই নিশ্চিত হয় যখন মৃত নিজেই এবং পাতালের শাসক কামুনা তার সাথে দেখা করে। সে তার স্থলাভিষিক্ত কাউকে পেতে তার আকাক্সক্ষা প্রকাশ করে: সে লায়লাকেই চায়। নাদিন তার মেয়েকে নিরাপদ রাখার জন্য যা যা করা দরকার তা করবে, কিন্তু আরেক চরিত্র কামুনার ধৈর্য কম এবং সে যা চায় তা পাওয়ার জন্য তার এক নির্মম ইচ্ছা আছে। এদিকে লায়লার ভাগ্য ঝুলে আছে।

শেষ জীবিত হাকাওয়াতি জিনদের একজন হিসেবে নাদিনকে মৃতদের গল্প বলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শহরের উপকণ্ঠে নির্বাসিত এবং তার মেয়ে লায়লার সাথে এক কক্ষের কুটিরে থাকে। নাদিনের স্বামী ইলিয়াসের আত্মা প্রতিদিন সকালে তার পরিবারের সাথে দেখা করে এবং নাদিন তার দিনগুলি, জীবন এবং মৃত্যুর মাঝখানে অপেক্ষার স্থানে ভ্রমণ করে কাটায় লায়লা সম্পর্কে তার সাথে কথা বলার জন্য। তাদের মেয়ে তার কিশোর বয়সে প্রবেশ করছে এবং তারা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত, কারণ সে শহরের ছেলেদের সাথে ঝগড়া করে এবং নাদিনকে তার অবস্থান সম্পর্কে মিথ্যা বলে।

একদিন সকালে নাদিন তার কুটিরের বাইরে পা রাখে এবং দেখতে পায় যে রাতারাতি কোনো আত্মর বীজ দেখা যায়নি। নাদিন তার জাদু এবং নীতিবোধের সীমায় ঠেলে দেয় কারণ সে তার মেয়েকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ক্রমবর্ধমান ভয়ঙ্কর কাজ করে। একই সাথে তাকে লায়লার নিজের জীবনের আকাক্সক্ষার সাথে লড়াই করতে হয়, যা নাদিন তার জন্য সবচেয়ে ভালো বলে মনে করে তার সাথে সাংঘর্ষিক।

সমালোচকরা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পৌরাণিক কাহিনীতে প্রোথিত রানিয়া হান্না এই প্রাণবন্ত এবং আকর্ষণীয় গল্পের মধ্য দিয়ে সূক্ষ্ম, কিন্তু শ্বাসরুদ্ধকর জাদু বুনেছেন, যার অন্তরে মৃত্যুকে অতিক্রম করার সর্বজনীন মানবিক আকাক্সক্ষা রয়েছে। ইদানং বিভিন্ন দেশের কথা সাহিত্যে আধিভৌতিক কাহিনি দেখা যাচ্ছে, ভূতকে চরিত্র হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এগুলো পাঠকপ্রিয়তাও পাচ্ছে। মানুষ বাস্তব জগত ছেড়ে পরাবাস্তব, অধিবাস্তব ও আধিভৌতিক কাহিনিতে আবিষ্ট হয়ে উঠছে।

রানিয়া হান্না একজন সিরিয়ান-আমেরিকান লেখিকা এবং গবেষক। তিনি জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানের ডক্টরেট ছাত্রী। ‘দ্য জিন ডটার’ তার প্রথম উপন্যাস হিসেবে সাফল্য লাভ করায় উত্তর ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত এই লেখিকা খুশি।