জাপানের বিমানবন্দরে মালামাল টানবে হিউম্যানয়েড রোবট

Printed Edition
onno-2
টোকিও’র হানেদা বিমানবন্দরে মালবাহী কনটেইনার ঠেলছে একটি রোবট : ইন্টারনেট

দ্যা গার্ডিয়ান

জাপান এয়ারলাইনস। মে মাসের শুরু থেকে পরীক্ষামূলকভাবে হিউম্যানয়েড বা মানবসদৃশ রোবট চালু করতে যাচ্ছে। দেশটিতে চলমান তীব্র শ্রমিক সঙ্কট সমাধানের অংশ হিসেবে স্থায়ীভাবে এই রোবট মোতায়েনের কথা ভাবা হচ্ছে।

চীনা প্রযুক্তিতে তৈরি এসব হিউম্যানয়েড হানেদা বিমানবন্দরের টারমাক এলাকায় যাত্রীদের লাগেজ এবং মালামাল বহনের কাজ করবে। তবে এই নতুন কর্মীদের নিয়ম করে কিছুক্ষণ পরপর চার্জ দেয়ার জন্য বিরতি নিতে হবে। উল্লেখ্য, এই বিমানবন্দরটি বছরে ছয় কোটিরও বেশি যাত্রী যাতায়াত সামাল দেয়। জাপান এয়ারলাইন্স এবং তাদের অংশীদার প্রতিষ্ঠান জিএমও ইন্টারনেট গ্রুপ আশা করছে যে ২০২৮ সালে শেষ হতে যাওয়া এ পরীক্ষাটি মানুষের কাজের চাপ অনেকাংশে কমিয়ে দেবে। বর্তমানে জাপানে বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা ব্যাপকহারে বাড়ছে এবং সামনের দিনগুলোতে শ্রমিক সঙ্কট আরো তীব্র হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। চলতি সপ্তাহে গণমাধ্যমের সামনে এক প্রদর্শনীতে হাংঝু-ভিত্তিক ইউনিট্রি কোম্পানির তৈরি ১৩০ সেন্টিমিটার উচ্চতার একটি রোবটকে দেখা গেছে। রোবটটি সতর্কতার সাথে একটি কনভেয়ার বেল্টের ওপর মালামাল ঠেলে তুলছিল এবং অদৃশ্য কোনো সহকর্মীর উদ্দেশে হাত নাড়ছিল।

কিয়োদো নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে জাল (যেএএল) গ্রাউন্ড সার্ভিসের প্রেসিডেন্ট ইয়োশিতেরু সুজুকি বলেন যে শারীরিক পরিশ্রমের কাজে রোবট ব্যবহার করলে কর্মীদের ওপর থেকে চাপের বোঝা কমবে এবং তা কর্মচারীদের জন্য দারুণ সুফল বয়ে আনবে। তবে সুজুকি আরো যোগ করেন যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ মানুষই চালিয়ে যাবে। জাপান বর্তমানে এক অদ্ভুত সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যেখানে এক দিকে বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে অন্য দিকে দেশটির জনসংখ্যা বার্ধক্যে উপনীত হওয়ায় কর্মক্ষম মানুষ কমে যাচ্ছে। জাপান ন্যাশনাল ট্যুরিজম অর্গানাইজেশনের মতে ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই ৭০ লাখেরও বেশি পর্যটক দেশটিতে ভ্রমণ করেছেন। টোকিও ও বেইজিংয়ের কূটনৈতিক তিক্ততার কারণে চীনা পর্যটক কমলেও গত বছর রেকর্ড চার কোটি ২৭ লাখ পর্যটক জাপান সফর করেছেন।

একটি হিসাব অনুযায়ী ২০৪০ সাল নাগাদ জাপানের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরো ৬৫ লাখেরও বেশি বিদেশী শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বিদেশী জনসংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেলেও সরকার এখন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজনৈতিক চাপে রয়েছে।