টি-২০ সিরিজ কি বাংলাদেশের

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

জিম্বাবুয়ে সফরটা বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির চেয়ে হতাশার গল্পই বেশি লিখেছে। একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হার, ওয়ানডে সিরিজে পরাজয়, সব মিলিয়ে সমালোচনার ঝড়। টি-২০ সিরিজের শুরুটাও ছিল হতাশার। প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের পর মনে হচ্ছিল, আরেকটি সিরিজ হার নিয়েই দেশে ফিরতে হবে তৌহিদ হৃদয়ের দলকে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩৪ রানের জয় তুলে নিয়ে সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ। রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণি আর সুশৃঙ্খল দলীয় পারফরম্যান্সে সফরটা অন্তত সম্মানজনকভাবে শেষ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আজ বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হবে তিন ম্যাচ টি-২০ সিরিজের নির্ধারণী লড়াই। ট্রফি উঠবে কার হাতে, স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের, নাকি ঘুরে দাঁড়ানো বাংলাদেশের?

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম ইনজুরি। আগেই ছিটকে গেছেন লিটন দাস, মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম। দ্বিতীয় ম্যাচের পর চোটের কারণে শেষ ম্যাচেও খেলতে পারছেন না গতিময় পেসার নাহিদ রানা। ফলে একেবারেই ভিন্ন চেহারার বোলিং আক্রমণ নিয়ে মাঠে নামতে হচ্ছে টাইগারদের। অভিজ্ঞ পেসার না থাকায় নতুনদের কাঁধেই বাড়তি দায়িত্ব এসে পড়েছে।

তবে দ্বিতীয় ম্যাচ দেখিয়েছে, শুধু গতির ওপর নয়, পরিকল্পনা আর শৃঙ্খলার ওপর ভর করেও জেতা যায়। স্পিনাররা মধ্য ওভারে দারুণ নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছেন। বিশেষ করে রিশাদ হোসেন ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করেছেন। একই সাথে ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীল ছিলেন তৌহিদ হৃদয়, সাইফ হাসান ও সাইফউদ্দিনরা। শেষ ম্যাচেও এই সমন্বিত পারফরম্যান্সই হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসা।

অন্য দিকে জিম্বাবুয়ে প্রথম ম্যাচের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে মরিয়া। নিজেদের পরিচিত কন্ডিশনে তারা বরাবরের মতোই লড়াকু। সিকান্দার রাজা, ব্রায়ান বেনেট কিংবা রায়ান বার্লদের মতো ক্রিকেটাররা মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার সামর্থ্য রাখেন। বিশ্বকাপের সুপার এইটে খেলা দলটির আত্মবিশ্বাসও কম নয়।

কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবের উইকেট সাধারণত ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগের জন্যই ভারসাম্যপূর্ণ। শুরুতে পেসাররা কিছুটা সুবিধা পেলেও ম্যাচ গড়ানোর সাথে সাথে স্পিনারদের ভূমিকা বাড়ে। তাই টস জিতলেও মূল পার্থক্য গড়ে দেবে চাপের মুহূর্তে যারা স্নায়ু ধরে রাখতে পারে।

দ্বিতীয় টি-২০ জেতার পর ব্যাটারদের প্রশংসা করেছেন অধিনায়ক তৌহিদ হৃদয়। ‘দল হিসেবে আমরা বোলিং ও ব্যাটিং, দুই বিভাগেই খুব ভালো করেছি। ব্যাটাররা দায়িত্ব নিয়ে খেলেছে। আমরা সবসময়ই বড় জুটির কথা বলি এবং শুরুতে আমরা খুব ভালো জুটি পেয়েছি। লক্ষ্য ছিল কয়েকটি ভালো জুটি গড়া, যেখানে মূল মনোযোগ ছিল ইনিংসের শুরুর দিকে। উদ্বোধনী জুটিতেই বড় রান পেয়েছি। এখন তৃতীয় ম্যাচেও আমাদের সেই পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে হবে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল আঁটসাঁট লাইন ও লেন্থে বজায় রেখে বল করা এবং বোলাররা এখানে তা দারুণভাবে বাস্তবায়ন করেছে। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের দ্রুত মানিয়ে নিতে হয়। এখানকার কন্ডিশন মানিয়ে নেয়ার পাশাপাশি আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।’

টি-২০তে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের পাল্লা ভারী বাংলাদেশের। ২৬ ম্যাচে ১৮টি জয়ের বিপরীতে ৯টিতে হেরেছে টাইগাররা। বাংলাদেশের সামনে তাই শুধু একটি ম্যাচ নয়, আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ারও লড়াই। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারার পর টি-২০ ট্রফি জিতে ফিরতে পারলে সফরের ব্যর্থতার ক্ষত কিছুটা হলেও মুছে যাবে। আর হারলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে দল গঠন, ব্যাটিং ধারাবাহিকতা এবং ইনজুরি-সঙ্কটে বেঞ্চের গভীরতা। সব মিলিয়ে আজকের ২০ ওভারের লড়াই শুধু একটি সিরিজ নির্ধারণ করবে না, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এটি হতে পারে নতুন আশার সূচনা কিংবা আরেকটি হতাশার অধ্যায়। সেই উত্তর মিলবে বুলাওয়ের সবুজ গালিচাতেই।