বগুড়া জেলা বিএনপির কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশা
Printed Edition
আবুল কালাম আজাদ, বগুড়া অফিস
বিএনপির দুর্গ খ্যাত বগুড়া জেলা বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণার তোড়জোড় অনেক দিন ধরে শোনা গেলেও এখনো অপেক্ষায় নেতাকর্মীরা। তবে খুব তাড়াতাড়ি নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশা করছেন তারা। সর্বশেষ ২০২২ সালের ২ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষভোটে রেজাউল করিম বাদশা সভাপতি, আলী আজগর তালুকদার হেনা সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সহিদ উন নবী সালাম, কে এম খায়রুল বাশার ও জাহিদুল ইসলাম হেলাল নির্বাচিত হন। সম্মেলনের প্রায় এক বছর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপি এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। বর্তমান সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বগুড়া সদর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক মোশারফ হোসেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য, সিনিয়র সহসভাপতি এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির জেলা পরিষদ প্রশাসক, আরেক সহসভাপতি এম আর ইসলাম স্বাধীন নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের (বসিক) প্রশাসক ও মীর শাহে আলম এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের কারণে তাদের পক্ষে সংগঠনে সবসময় পর্যাপ্ত সময় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া দুই বছরের কমিটির মেয়াদও ৪ বছর চলছে। তাই দলের নীতি নির্ধাকরা অনেক দিন ধরে নতুন নেতৃত্ব গঠনের চিন্তা-ভাবনা করছেন। কিন্তু নানা কারণে তা হয়ে ওঠেনি। তাই খুব শিগগিরই বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তুতি চলছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে দলে শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করছেন তাদের মূল্যায়ন করা হবে। আগামী কমিটির নেতৃত্বে কারা আসছেন তা একমাত্র দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই জানেন। তারেক রহমান বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরেই দেখভাল করেন। এ ছাড়া বগুড়া জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্যও তারেক রহমান। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াও জেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন।
এ দিকে দলের নেতাকর্মীদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, দল ক্ষমতায় থাকলে সাংগঠনিক কার্যক্রম কমে যায় এবং দল সরকারে মিশে যায়। তাই দলের নীতি নির্ধাকরা চান, দল যেন সরকারের সাথে মিশে না যায়। এতে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই যারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে রয়েছেন তাদের মূল দায়িত্বের বাইরে রাখা হবে। তা হলে নেতারা সবাই সরকারি ও দলীয় দায়িত্ব পাবেন।
বগুড়া জেলা বিএনপির আগামী নেতৃত্বে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ভিপি সাইফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, জয়নাল আবেদীন চাঁন ও আলী আজগর তালুকদার হেনা। সাধারণ সম্পাদক পদে শোনা যাচ্ছে, বর্তমান জেলা কমিটির সহসভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্দে খান রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম খায়রুল বাশার, সহিদ উন নবী সালাম অন্যতম।
এ দিকে গত ২০ এপ্রিল বগুড়া সিটি কর্পোরেশন গঠনের পর বগুড়া শহর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে মহানগর বিএনপির সুপারভাইভ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ কমিটিতে বিলুপ্ত শহর কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মনিরুজ্জামান মনিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সেই সাথে মহানগর কমিটিকে সাংগঠনিক জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ওই আংশিক কমিটি এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, মহানগরের ২১টি প্রশাসনিক ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলন শেষে মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হবে।