বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নিলো আইসিসি

টি-২০ বিশ্বকাপ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

গতকাল বিকেল থেকেই অসমর্থিত সূত্রে খবর আসছিল শেষ পর্যন্ত এবারের টি-২০ বিশ^কাপে খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের। ততোক্ষণ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি আইসিসি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সূত্রের বারত দিয়ে দুই ক্রিকেট কেন্দ্রিক ওয়েবসাইট ক্রিনইনফো ও ক্রিকবাজ জানিয়েছে বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকেই টি-২০ বিশ^কাপ খেলার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এই মর্মে আইসিসির বোর্ড সদস্যদের চিঠি দিয়ে অবগতও করেছে আইসিসি। সেই চিঠি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতির কাছেও পাঠানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যায় আইসিসি তাদের ওয়েব সাইটে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নেয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। যার অর্থ এবারের টি-২০ বিশ^কাপে ভারতীয় কূট কৌশলে খেলা হচ্ছে না টাইগারদের। যেখানে বিপিএলে বাংলাদেশী ক্রিকেটাররা নিজেদের সেরাটা দিয়ে বিশ^কাপের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। বাংলাদেশের বদলে এখন ‘সি’ গ্রুপে খেলবে স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ড, ইতালি, নেপাল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টি-২০ র‌্যাংকিংয়ে স্কটল্যান্ডের অবস্থান ১৪তম। তাদের আগে আছে নামিবিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেপাল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা , ওমান ও ইতালি।

নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ আগেই জানিয়েছে তারা ভারতে গিয়ে টি-২০ বিশ^কাপ খেলবে না। তা আইসিসির নিরাপত্তা কমিটির রিপোর্টেও নিরাপত্তার বিষয় ছিল। নিরাপত্তা কমিটির যে তিনটি শর্ত দিয়েছিল তা বাংলাদেশের পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব ছিল না। তাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তথা বালাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত, বাংলাদেশ বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে খেলতে চায়। কিন্তু ভারতের মাটিতে নয়। এ নিয়ে চিঠি চালাচালির পর আইসিসি বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটার দেয়। বাংলাদেশ সেই আলটিমেটামকে পাত্তা দেয়নি। তারা ভারতে গিয়ে না খেলার সিদ্ধান্তে অটল। ভারতের বদলে ফের লঙ্কান মাটিতে খেলার প্রস্তাবে বহাল থাকে। কিন্তু আইসিসি তা মানেনি।

অবশ্য ভারতীয়দের নিয়ন্ত্রিত আইসিসি। তাই তাদের সিদ্ধান্ত যে ভারতের পক্ষেই যাবে সেটা অনুমেয়। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) জানিয়েছে, ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপে খেলছে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সূচি অনুযায়ী খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে নেয়া হয়েছে।

বিশ^ক্রিকেটের সর্বময় সংস্থাটি বলেছে, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই বলে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরানোর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে টি-২০ বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। আইসিসির বিবৃতিতে আরো বলেছে, টুর্নামেন্ট খুব কাছে চলে এসেছে তাই এই সময়ে বিসিবির অনুরোধ রাখা বাস্তবসম্মত নয়। তাই এই কঠিন সিদ্ধান্ত তারা নিতে বাধ্য হয়েছে।

আইসিসি বলেছে তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই পরিস্থিতিতে আইসিসি দফায় দফায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাথে কথা বলেছে। যাতে এই সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হয়। এ জন্য অন লাইনে এবং স্বশরীরে উপস্থিতিতে কয়েক দফা সভা হয়েছে। বাংলাদেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ নিরাপত্তা অ্যাসেসমেন্ট করা হয়েছে। এতে ভেতরে বাইরে সব তথ্য উপাত্ত যাচাই বাছাই করা হয়েছে। এই মূল্যায়নে বাংলাদেশের উদ্বেগ ও দাবির কোনো গ্রহণযোগ্যতা মেলেনি। তাই আইসিসির সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দাবি মেনে বিশ^কাপের সিডিউল বদলানো সম্ভব নয়। যে কারণে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয়া হচ্ছে বিশ^কাপে। উল্লেখ্য ভারতের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কাতেও হবে খেলা। পাকিস্তানের খেলাগুলো হবে শ্রীলঙ্কাতে।

বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আগে থেকেই বলে আসছে আইসিসি তাদের প্রতি সুবিচার করেনি। তাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। কারণ পাকিস্তান যদি নিরাপত্তা ইস্যুতে শ্রীফঙ্কায় খেলতে পারে তাহলে বাংলাদেশ কেন নেয়।

এদিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মহসিন নাকভিও জানিয়েছে, বাংলাদেশের সাথে অন্যায় করা হয়েছে। আমি আইসিসির বোর্ড মিটিংয়েও বলেছি আপনারা দ্বিমুখী আচরণ করতে পারেন না। যেখানে একটি দেশ যখন ইচ্ছা যেমন খুশি সিদ্ধান্ত নিতে পারে, আর আরেক দেশের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ করা হয়।’ তবে বাংলাদেশের সমর্থনে পাকিস্তান এবারের টি-২০ বিশ^কাপ বয়কট করবে কি না তা তাদের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ দেশে ফেরার পর সিদ্ধান্ত হবে।