কয়েক স্থানে সহিংসতা গাড়ি ভাঙচুর

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

বহুল প্রত্যাশিত এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল। প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়াই মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। এরই মধ্যে বাগেরহাটের শরণখোলা, ঝালকাঠির রাজাপুর ও ফেনী সদরে কিছু সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।

শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, বাগেরহাটের শরণখোলার একটি ভোট কেন্দ্রের কাছে বিএনপি ও জামায়ত এতে উভয় পক্ষের দুই নারীসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত উভয় পক্ষের ১০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল ৯টার দিকে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের ৩৪ নম্বর সোনাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রসংলগ্ন হাবিব মাস্টারের বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন জামায়াত সমর্থিত সাব্বির (২৪), আরিফ (২৩), তরিকুল (২৮), হাফিজুর (৩২), সাইফুল (২৭), সোবাহান (৩০), কামরুল (৩৫), নাজমা বেগম (৫০), ফরিদা বেগম (৫২), নাজমুল (২৬) এবং বিএনপি সমর্থিত সিদ্দিক (৪০), বাদল (২৯), রফিকুল (২৮), মিজান (৩২) ও ফারুক (৪৮)।

পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে সোনাতলা ভোট কেন্দ্র থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরত্বে স্থানীয় হাবিব মাস্টারের বাড়ির সামনের সড়কে প্রথমে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ভোট দিতে যাওয়া নিয়ে বাগি¦তণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের নারীসহ ১৫ জন আহত হন।

এ ব্যাপারে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির বলেন, আমাদের ভোটাররা ভোট দিতে হাবিব মাস্টারের বাড়ির সামনে এলে আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা বিএনপির ২০-২৫ জন লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের দুই নারী ভোটারসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।

অপর দিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত বলেন, ভোট দিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে একটি দুই পক্ষের ভোটারদের মধ্যে একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। এতে আমাদের দলের (বিএনপি) পাঁচ জন আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষ বসে মীমাংসা করা হবে।

শরণখোলা থানার ওসি মো: সামিনুল হক বলেন, সকালে সোনাতলা কেন্দ্র থেকে আধা কিলোমিটার দূরত্বে বিএনপি-জামায়াতের দুই পক্ষের ভোটারদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। এতে ভোট প্রদান বা কেন্দ্রে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়েনি। সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠির রাজাপুরের আদাখোলা স্কুল ভোট কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের তিন কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জামায়াতের প্রার্থী ড. ফয়জুল হক লাঞ্ছিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল দুপুর পৌনে ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, জাহিদ, প্রার্থীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) খায়রুল ও কর্মী সাইফুল। আহতদের অভিযোগ, কেন্দ্রে ভোট কাটা হচ্ছে এমন অভিযোগের খবর পেয়ে ড. ফয়জুল হক কয়েকজন সমর্থককে নিয়ে কেন্দ্রে যান। এ সময় সেখানে উত্তেজনা তৈরি হলে হামলার ঘটনা ঘটে। রাজাপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ চলমান রয়েছে। একটা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফেনী অফিস জানায়, ফেনী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর ওপর হামলার চেষ্টা করেছে বিএনপি কর্মীরা। লেমুয়া ইউনিয়নের মজুমদার হাটে শেখ মজিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।

ওই কেন্দ্রে ঈগল প্রতীকের কর্মীদের উপর হামলার খবর পেয়ে দুপুরে মজিবুর রহমান মঞ্জু কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় বিএনপির আব্দুল হান্নান ও শহিদের নেতৃত্বে একদল কর্মী বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর কথা বলতে থাকে। একপর্যায়ে তারা মঞ্জুর দিকে তেড়ে আসে। ঈগল মার্কার উপস্থিত সমর্থকরা মঞ্জুকে ঘিরে ধরে হামলা থেকে রক্ষা করে। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখানে তালহা নামে একজন ঈগল সমর্থককে বেদম মারধর করে সন্ত্রাসীরা। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী ফরহাদনগরের চর কালিদাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নজরুল ইসলাম নামে স্থানীয় জামায়াতের এক নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে সন্ত্রাসীরা।

এদিকে ধর্মপুরের জোয়ার কাছাড় কেন্দ্রে মজিবর রহমান মঞ্জুর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আ ন ম আব্দুর রহিমকে হামলা করে আহত করে এবং তার গাড়িটি সম্পূর্ণ ভেঙ্গে দেয় সন্ত্রাসীরা। স্থানীয় বিএনপির সন্ত্রাসী জামাই কামরুলের নেতৃত্বে এই হামলা হয়।

এ ছাড়া পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের এলাহিগঞ্জে ঈগল মার্কার বেশ কয়েকজন সমর্থককে আহত করে সন্ত্রাসীরা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো: সাইফুল ইসলাম জানান, যেখানেই কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, সেখানেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছুটে গেছে।